স্বপ্নের দাফন চট্টগ্রামে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীমঃ  আজ একটা স্বপ্নের দাফন হলো চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। প্রথমে টসে জয় পেয়েও ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং ব্যার্থতা, ফিল্ডিংএ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা সহজ ক্যাচ ড্রপ। আজ অজিদের বিপক্ষে ব্যাট হাতে আবারও ধৈর্যহারা বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যানদের কারনে চতুর্থ দিন শেষেই ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয় অস্টেলিয়া। এর ফলে প্রথমবারের মত অজিদের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই টেষ্ট সিরিজ ড্র হয়। ম্যান অফ দ্য সিরিজ হন নাথান লায়ন আর টুর্নামেন্ট অফ দ্য সিরিজ হন যৌথ ভাবে ডেভিড ওয়ার্নার আর নাথান লায়ন।

প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা এই ইনিংসেও বজায় রেখেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে অজিদের থেকে ৭২ রানে পিছিয়ে থাকে ব্যাট হাতে মাত্র ১১ রানেই সৌম্যর উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্যাট্রিক কামিন্সের বলে ম্যাট রেনশর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে শুরুতেই বাংলাদেশকে বিপদে ফেলে সাজঘরে ফিরেন নির্বাচকদের প্লেয়ার বাই চয়েস সৌম্য সরকার , ব্যাক্তিগত ৯ রান করে। এর কিছু পরই বাংলাদেশের ডিপেন্ডেবল ওপেনার তামিম প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ১২ রান করে আউট হন । ইমরুল কায়েসও ধৈর্য্যর পরীক্ষায় টিকে থাকতে পারলেন না । দ্বায়িত্বহীন ব্যাট চালাতে গিয়ে, পেসার প্যাট কামিন্সের ক্রমাগত বাউন্সারের পর লেন্থ বলে স্লিপে ক্যাচ আউট হন ১৫ রান করে । একই পথে হাঁটলেন ২ রান করা সাকিব আর ৫ রান করা নাসির । চল্লিশের ঘরেই নেই ৫ উইকেট। ৫ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম টেষ্ট পরাজয়টা বাংলাদেশ যেন ছেড়ে দিলেন সময়ের হাতে।

সাব্বির আর মুশফিকের দোদুল্যমান জুটি গড়ে ২৯তম ওভারে বাংলাদেশকে লিড এনে দেয় । অবিচ্ছিন্ন থেকে ১১ রানের লিড নিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজনে মুশফিক-সাব্বির জুটি। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৮৩ রানে পাঁচ উইকেট। মধ্যাহ্ন ভোজন থেকে ফেরার পরেই লায়নের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন সাব্বির। ২৪ রানের ইনিংস খেলে দলীয় ৯৭ রানে আউট হন তিনি। সাব্বিরের বিদায়ে প্রথমবারের মত টেস্টে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামেন মমিনুল হক। মমিনুলকে নিয়ে দলের স্কোর বাড়িয়ে লিড পঞ্চাশ ছাড়া করেন মুশফিক। এরপর মুশফিক ধৈর্য্যর পরীক্ষায় হেরে ব্যাক্তিগত ১০০ বল খেলে কষ্টার্জিত ৩১ রানের ইনিংস কামিন্সের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ৬১ বলে ২৯ রান করে উইকেট জমে আউট হয়েছেন মমিনুলও। ৮২ রানে এগিয়ে থেকে চা পান বিরতিতে থেকে ফেরার পর মাত্র ৩ রানে শেষ দুই উইকেট হারিয়ে ১৫৭ রানে অল আউট বাংলাদেশ। জয়ের জন্য আজিদের ৮৬ রানের টার্গেট।

এর আগে আজ চতুর্থ দিন সকালে স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ না করেই অজিদের শেষ উইকেট তুলে নিলেন মুস্তাফিজ। ৩৭৭ রানে শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ থেকে লিড ৭২ রানের । ঢাকা টেস্টে তেমন কোন পারফর্মেন্স না করতে পারলেও চট্টগ্রাম টেস্টে ঠিকই জ্বলে উঠেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারের ঘূর্ণিতে গুরুত্বপূর্ণ ৪ উইকেটে শেষ অবধি খুব বেশি এগোতে পারলোনা টিম অস্ট্রেলিয়া। অজিদে দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য দরকার ৮৬ রান। চোট পাওয়া মিরাজকে ছাড়াই বোলিংয়ে বাংলাদেশ। অজিদের দলীয় ১১ রান মাথায় ৭ রান করা ওয়ার্নারকে ফের বাউন্সারে পরাস্ত করে সাজঘরে ফেরালেন মুস্তাফিজ। দশম ওভারে তাইজুলের বলে ১৬ রান করা অজি অধিনায়ক স্মিথ আর সাকিবের বলে ২২ রান করা ওপেনার রেনশকে মুশফিকের ক্যাচে পরিনত করে সাজঘরে ফেরালেও জয়ের জন্য পর্যাপ্ত রানের টার্গেট না থাকায় অস্টেলিয়া সহজেই জয়ের লক্ষে পৌঁছে যায় তিন উইকেট হারিয়ে।

ছবিঃ ইএসপিএন

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com