হুমায়ুন আহমেদের রসিকতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এস এম আমিনুল রুবেল

একবার এক ব্যক্তি হ‌ুমায়ূন আহমেদকে বললেন, অমুক তো আপনাকে একেবারে ধুয়ে দিয়েছে। আপনার লেখায় নাকি শিক্ষামূলক কিছু নাই। শুনে হ‌ুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘ঠিকই তো বলেছে, আমি তো পাঠ্যবই লেখি না!’ হ‌ুমায়ূন আহমেদ কেমন সরস ছিলেন তা সহজেই অনুমেয়। এমনকি ‘আমি রসিকতা পছন্দ করি না’ এই টাইপ কথা বলা গম্ভীর মানুষেরাও হ‌ুমায়ূন আহমেদের রসিকতায় অট্টহাসি হাসেন। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত এমন কিছু নেই, যা নিয়ে রসিকতা করেননি তিনি। ১৯ জুলাই তাঁর মৃত্যুদিবস। দিনটি উপলক্ষে হ‌ুমায়ূন আহমেদের রস-রসিকতার কিছু নমুনা তুলে ধরা হলো:

গরু কথা বলে
হ‌ুমায়ূন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। হঠাৎ এক ছাত্র প্রশ্ন করল, ‘স্যার, আপনি নাকি গরুর কথাও বুঝতে পারেন?’ হ‌ুমায়ূন আহমেদের ছেলেবেলা বইটি পড়ে হয়তো এমন ধারণা হয়েছিল ছাত্রটির। ক্লাসের মাঝখানে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় চলে আসায় হ‌ুমায়ূন আহমেদ বিরক্ত হলেন। বললেন, ‘হ্যাঁ, পারি। নইলে তোমাদের ক্লাস নিচ্ছি কীভাবে?’

অবসর
এক সাংবাদিক টেলিফোনে হ‌ুমায়ূন আহমেদের কাছে তাঁর অবসর সময় কীভাবে কাটে জানতে চাইলেন। হ‌ুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘তখন আমি একটা কাঁচি নিয়ে বসি। কাঁচি দিয়ে কেটেই সময় কাটাই।’

ক্রিয়েটিভ রাইটিং
আমেরিকার আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্রিয়েটিভ রাইটিং ফ্যাকাল্টির ক্লাস। হ‌ুমায়ূন আহমেদ সেখানে তিন মাসের একটি কোর্স করছেন। একদিন ক্লাসে শিক্ষক আইডিয়া বিষয়ে কথা বলছিলেন। এক ঘণ্টার ক্লাস। হ‌ুমায়ূন আহমেদ লেকচার শুনে বেশ বিরক্ত। বিষয়টি ওই শিক্ষকের নজরে পড়তেই বললেন, ‘ডক্টর আহমেদ, আইডিয়া বিষয়ে তোমার কিছু বলার আছে?’
হ‌ুমায়ূন আহমেদ উঠে দাঁড়ালেন এবং পরিষ্কার বাংলায় বললেন, ‘শিল্পীর শিরে কিলবিল করে আইডিয়া/উইপোকা বলে, চল ভাই, তারে খাই গিয়া।’

ট্যাংক প্রয়োজন
সিনেমা তৈরির প্রয়োজনে হ‌ুমায়ূন আহমেদ একবার সেনাবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর অফিসে গেছেন। কথা শেষ করে চলে আসার সময় হ‌ুমায়ূন আহমেদ হঠাৎ জানতে চাইলেন, ‘আপনাদের কোনো পুরোনো ট্যাংক আছে?’
: কেন বলুন তো?
: আমার একটা কেনার ইচ্ছা।
: ট্যাংক দিয়ে কী করবেন?
: ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস নিতে হয়। ট্যাংকে করে গেলে অনেক সুবিধা, তাই…।

চরিত্র শিকার
হ‌ুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র বানাবেন। আগুনের পরশমণির প্রধান চরিত্র বদিউল আলমকে খুঁজছেন। একদিন শিল্পী ধ্রুব এষকে দেখে তিনি সেই চরিত্রের জন্য তাঁকে পছন্দ করে ফেললেন। কারণ, বদিউল আলমের নির্লিপ্ত ভঙ্গি ধ্রুব এষের মধ্যে পুরোপুরিই আছে। প্রস্তাব শুনে ধ্রুব এষ বললেন, ‘অসম্ভব! আমি জীবনে অভিনয় করিনি।’
হ‌ুমায়ূন আহমেদ বললেন, ‘তাতে কী? আমিও তো জীবনে সিনেমা বানাইনি।’

আজব উপহার
হঠাৎ এক সকালে বাসায় ভক্ত এসে উপস্থিত। তিনি প্রিয় লেখকের সঙ্গে দেখা না করে কিছুতেই যাবেন না। বাধ্য হয়ে হ‌ুমায়ূন আহমেদকে ভক্তের সামনে এসে দাঁড়াতে হলো। ভক্ত এবং হ‌ুমায়ূন আহমেদের কথোপকথন নিম্নরূপ—
: স্যার, আমি আপনার জন্য একটা উপহার নিয়ে এসেছি। নিতেই হবে। ‘না’ করতে পারবেন না।
: কী উপহার?
: আমার একটা কিডনি আপনাকে দিতে চাই।
: কিন্তু আমার তো দুটো কিডনিই সচল আছে।
: যদি প্রয়োজন হয়, তাই আগে থেকে জানিয়ে রাখলাম। যখন প্রয়োজন হবে খবর দেবেন। চলে আসব। নো ডিলে।

পছন্দের মেয়ে
হ‌ুমায়ূন আহমেদের শৈশবের কথা। সিলেট থাকাকালীন যে পাড়ায় থাকতেন, সেখানে এক বিহারি পরিবার বাস করত। সেই পরিবারে পরির মতো ফুটফুটে তিন মেয়ে ছিল। হ‌ুমায়ূন আহমেদ সুযোগ বুঝে আলাদাভাবে ছোট দুই মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। ঘটনা মায়ের কানে যেতে দেরি হলো না। তিনি এক ছুটির দিনে বাবার কাছে অভিযোগ দিয়ে ছেলেকে শাসন করতে বললেন। শুনে বাবা মুচকি হেসে বললেন, ‘ছেলে বিয়ে করতে চায়, বিয়ে দাও। তোমার ছেলের পছন্দের কোনো মেয়ে আছে?’
হ‌ুমায়ূন আহমেদ পাশেই দাঁড়ানো ছিলেন। মা উত্তর দেওয়ার আগেই তিনি চিকন গলায় বললেন, ‘আছে।’

ক্রিকেটপ্রীতি
ক্রিকেট নিয়ে, বিশেষ করে বাংলাদেশের খেলার সময় হ‌ুমায়ূন আহমেদের প্রবল উত্সাহ দেখে এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকার নিতে এসেছেন। কিন্তু হ‌ুমায়ূন আহমেদ ক্রিকেট বিষয়ে বিজ্ঞ নন দেখে সাংবাদিক হতাশ হয়ে বললেন, ‘আপনি যে ক্রিকেট বোঝেন না, এটা কি লিখতে পারি?’
: অবশ্যই লিখতে পারো।
: কিছু না বুঝেও ক্রিকেট কেন পছন্দ করেন—একটু ব্যাখ্যা করবেন?
: কারণ, আমি গল্পকার।
: স্যার, একটু বুঝিয়ে বলুন।
: ক্রিকেটে এক ওভারে ছয়টি বল করা হয়। বল করা মাত্র গল্প শুরু হয়। নানান সম্ভাবনার গল্প। ব্যাটসম্যানকে আউট করার সম্ভাবনা, ছক্কা মারার সম্ভাবনা ইত্যাদি। ছয়টা বল হলো ছয়টা সম্ভাবনা—গল্পের সংকলন। এবার বুঝেছ?

বিশ্বাস
হ‌ুমায়ূন আহমেদ সিনেমা বানাবেন, টাকা প্রয়োজন। হঠাৎ মনে হলো, সরকার যদি সাহায্য করে, তাহলেই তো হয়ে যায়। তিনি তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করলেন। মন্ত্রী সব শুনে বললেন, ‘আপনি লেখক মানুষ। ছবি বানানোর আপনি কী জানেন?’
: আমি কিছুই জানি না। তবে আমি শিখব।
: শিখে ছবি বানাবেন?
: জি।
: নিজের ওপর আপনার এত বিশ্বাসের কারণ কী?
হ‌ুমায়ূন আহমেদ এবার দৃঢ়কণ্ঠে বললেন, ‘অন্যের ওপর বিশ্বাস করার চেয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস করাটা ভালো না?’

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com