হিউ হেফনারের প্রস্থান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সময়টা ১৯৫৩ সাল। মাত্র ৬ হাজার ডলার ধার করে তিনি শুরু করেছিলেন পৃথিবীর অন্যতম আলোচিত ম্যাগাজিন ‘প্লেবয়’। তারপর সেই পত্রিকা দিয়েই গড়ে তুলেছিলেন কোটি কোটি টাকার এক বিনোদন সাম্রাজ্য। সেই সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র নায়ক হিউ হেফনার আর নেই। ৯১ বছর বয়সে গতকাল তিনি আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলসে নিজের বিশাল প্লেবয় ম্যানসনে শুয়েই পৃথিবীকে বিদায় জানান।

তাঁর মৃত্যুতে বিশ্বের বিনোদন জগতের তারকারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ষাট এবং সত্তরের দশকে যৌনতাকে পূজি করে প্লেবয় পত্রিকা গোটা পৃথিবীর মানুষের কাছে ভিন্ন এক অবেদনে ধরা দেয়। বিখ্যাত হয়ে ওঠে প্লেবয় পত্রিকার ‘সেন্টারফোল্ড’ অথবা মাঝের পাতা। সেখানে একজন মডেলের সম্পূর্ণ নগ্ন ছবি ছেপে আলোচনায় উঠে আসে এই পত্রিকাটি। হেফনারের পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় ‘সেন্টারফোল্ড’ হিসেবে উন্মোচীত হন দুনিয়া কাঁপানো আরেক অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো।

তিনি তার বিখ্যাত বানি ও বন্ধুদের কাছে হেফ নামেই বেশী পরিচিত ছিলেন। পত্রিকায় হেফনারের ছবি মানেই নারী পরিবেষ্টিত হয়ে থাকা। বহু সময় ধরেই এই মানুষটি হয়েছেন সংবাদ শিরোণাম।  কয়েক বছর আগে সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হেফনার বলেছিলেন, পৃথিবীর মানুষের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে থাকতে চান একজন ইতিবাচক মানুষ হিসেবেই। যৌনতা আর সামাজিক চেতনা পরিবর্তনকারী হিসেবে।

সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, তিনি নিজেকে একজন শিশু বলে ভাবতে চান যে একটি স্বপ্ন দেখেছিল এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করেছিল।

হিউ হেফনার ১৯২৬ সালের ৯ এপ্রিল আমেরিকার শিকাগোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পেশাগত জীবন শুরু হয় সেনাবাহিনীতে। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তবে পাশাপাশি তিনি তখন ‘এস্কয়ার’ পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করেন। সেটাই সম্ভবত তার পত্রিকা জগতে আসার সূচনা পর্ব ছিল।

প্লেবয় পত্রিকা প্রকাশিত হবার পর হেফনার শুধুই যে করতালি আর জনপ্রিয়তার মাঝে ডুবে গিয়েছিলেন এমন নয়। তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছিল ব্যাপাক সমালোচনার। যৌনতা আর নারীকে পণ্য করে পত্রিকা সাম্রাজ্য গড়ে তোলায় তার বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। কিন্তু হেফনারের জয়যাত্রা অবশ্য সেই ঝড়ে থেমে যায় নি। তার প্লেবয় পত্রিকায় শুধু নারীর যৌনতা নয় এক সময়ে বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সাক্ষাৎকার ও লেখা জায়গা করে নিতে শুরু করে। প্লেবয়ের সাংবাদিকদের কাছে একান্ত সাক্ষাৎকার দেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো, ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা, মার্লন ব্রান্ডো, আয়ান ফ্লেমিং, জন লেনন সহ আরো অনেকে।

গেল বছর এই বিখ্যাত প্লেবয় পত্রিকা নগ্ন ছবি প্রকাশ থেকে সরে দাঁড়ালেও আবার পাঠকদের চাপে ফিরে আসতে বাধ্য হয় পুরনো অবয়বে। তবে আশির দশকেই ছোটখাট হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে হেফনার সরে দাঁড়ান পত্রিকা থেকে। তার ছেলে ও মেয়ের হাতে চলে যায় প্লেবয়ের সাম্রাজ্য। হেফনার চলে যান পূর্ণ বিশ্রামে। সেখান থেকেই তিনি চলে গেলেন চিরকালের বিশ্রামে।

তার ম্যানসনের লাইব্রেরীরে তাকে বইয়ের পাশাপাশি চামড়া দিয়ে বাঁধানো দুই হাজার খাতা আছে। সেখানে বিভিন্ন সময়ে তার ওপর পত্র পত্রিকায় ছাপা হওয়া খবরের কাটিং সংরক্ষিত আছে।

বিনোদন ডেস্ক

তথ্যসূত্রঃ সিএনএন, দ্য গার্ডিয়ান

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com