স্বপ্ন…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

 

আশিকুজ্জামান টুলু

১৯৪৮ সালে তৈরি হয় এই বাসাটা, তারপর থেকে কত হাতই না বদল হলো, কতজনের সুখ, দুঃখ, চাওয়া, পাওয়া, আশা নিরাশা, কতকিছুই না ওকে মুখবুজে দেখে যেতে হলো । গত ৮ বছর আগে যারা এসেছিলো, প্রথম গৃহপ্রবেশের মুহূর্ত থেকেই ওকে ঘসে মেজে সাজিয়েছিল, নতুন রঙে রাঙিয়েছিলো, পেছনের খোলা জায়গাটায় নতুন ঘাস লাগিয়েছিলো, গাছ লাগিয়েছিলো । প্রতিদিন ভোরে উঠে ওরা ওর ড্রাইভওয়েকে গোসল করিয়ে দিতো, ফ্রন্টইয়ার্ডের ঘাসে মেশিন দিয়ে পানি দিতো । প্রতি সপ্তাহে ছেটে দিতো ব্যাকইয়ার্ড ফ্রন্টইয়ার্ডের চুল অর্থাৎ ঘাসগুলোকে । ওরা ছিলো ৫ জন, বাবা মা দুভাই আর একটা বোন । সপ্নের মতো সংসার ছিলো ওদের । ও নতুন সপ্ন দেখতে শুরু করে দিয়েছিলো ওদের নিয়ে ।
***
হঠাৎ কি হলো, কে জানে, কমতে থাকলো ওর যত্ন, বাড়তে থাকলো ফ্রন্টইয়ার্ড ও ব্যাকইয়ার্ডের ঘাস, সঙ্গে আপদ জংলা গাছ এসে উপস্থিত হলো । ছেয়ে ফেললো ছবির মতো সুন্দর ইয়ার্ডদুটোকে । বাড়ির ভিতর অযত্নের ছোঁয়া, ছুঁয়ে ফেললো প্রতিটা কোনাকে । ও বুঝতে পারছিলোনা কেন ওরা ওর সঙ্গে বিমাতা সুলভ আচরন করছে, কেন ওর কদর কমে গিয়েছে, কেন ওর প্রতিটা ঘরে নতুন সপ্নের আনাগোনা আর নেই । কোথায় গেলো সেই সোনালী দিন??
***
একদিন ও শুনতে পেলো বাড়ির কর্তাবেক্তি ক্যান্সার আক্রান্ত, বাড়ির কর্ত্রী জীবনের সব আশাকে বিসর্জন দিয়ে নিজের মনের কোন এক গহীন অতলে হারিয়ে গিয়েছেন, পৃথিবীর আর কিছুই ভালো লাগে না, সব অর্থহীন মনে হয় । চাকরী ছেড়ে দিয়েছেন তিনি । স্বামীর সঙ্গেই প্রতিটা মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে থাকেন তিনি । কোথাও যান না । এই বাড়ির মতই সেই কবে উনিও সেজেছিলেন স্বামীর ঘরে আসার জন্য । ঘর আলো করে এসেছিলেন, তিন তিনটে জীবনের সুত্রপাত ওনাদের ঘরকে আলোর বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছিলো ।
***
হঠাৎ আলোটা কেমন দপ করে নিভে গেলো এক মুহূর্তের মধ্যে । উনি ভাবেন জীবন কেন এতো আনপ্রেডিকটেবল । মনে পড়ে যায় গানটা “পরের জায়গা পরের জমি, ঘর বানায়া আমি রই, আমিতো সেই ঘরের মালিক নই” । কোন এক সাঁঝে ওনারা কোথায় যেন হারিয়ে যান, পাড়া-প্রতিবেশীকে দিয়ে যান না কোন ঠিকানা । কি-ই বা হবে ঠিকানা দিয়ে, সবই তোঁ শেষ – ভাবেন কর্ত্রী ।
*** 
বাড়িটা আবার খালি হয়ে যায় । পড়ে থাকে শুধু কিছু ধুলো পড়া ছিড়ে যাওয়া স্মৃতির পাতা । ঘরগুলো কাঁদে হারিয়ে যাওয়া ওদের জন্য । সময় চলতে থাকে, থামে না । বাতাসের তোড়ে উড়ে যায় ফলের লাল হয়ে যাওয়া, ঝরে পড়া পাতা । শীত আসে, থমকে দাড়িয়ে কিছুদিনের জন্য চুপসে যায় সব কিছু । হঠাৎ একদিন আবার আলো জালিয়ে এসে উপস্থিত হয় আরেক জোড়া সুখের পায়রা । আবার শুরু হয় জীবনের কলতান, রাঙিয়ে উঠে ওর মন । পতিতার মতো প্রতিদিন রাতে রাঙাতে হয় নতুন নতুন প্রেয়সীর মনকে, চলে যাওয়া আগের খদ্দেরকে নিয়ে বেশী ভাবলে ওর চলেনা, নতুন খদ্দেরের জন্য নতুন করে মন রাঙানো সাজে সাজতে হয় ওকে । ওর নিজের মন বলে কিছুই নেই, ও একটা মোমবাতি, নিজে জ্বলে জ্বলে আলো করে রাখে নিকষ কালো আঁধারকে । মনের অজান্তে মাঝে মাঝেই ও ভয় পায়, আবার যদি একা হয়ে যায়?? আবার যদি অমানিশা ধেয়ে আসে কোন কারনে??

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com