সেন্ট্রাল পার্ক , নিউইয়র্ক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

 

শিবব্রত দেচৌধুরী

( নিউইয়র্ক থেকে): বিশ্বের ব্যস্ততম নগরী নিউইয়রক। কথিত আছে -New York Never Sleeps.এখানে অনেক রেঁস্তোরা , দোকানপাট এমন কি সাবওয়ে সিস্টেম ও ২৪/৭ খোলা থাকে ।
ম্যানহাটনের কোন ব্যস্ত রাস্তা মোড়ে দাঁড়ালে দেখা যাবে সহস্র জনতার ঢল , যন্ত্রের মতো ছুটে চলছে তো চলছেই। এই যান্ত্রিক জীবনের পাশাপাশি অবাক করে দেওয়ার মতো নিরিবিলি অবকাশ যাপনের ও প্রচুর সুযোগ রয়ে গেছে পুরো শহর জুড়েই।
তেমনি এক পর্যটন কেন্দ্র হলো নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্ক । ম্যানহাটনের প্রান কেন্দ্রে ৮৪৩ একর যায়গা নিয়ে এ সুবিশাল পার্কের অবস্থান। উত্তর আমেরিকার সর্বাধিক জনপ্রিয় পার্ক হলো নিউইয়র্ক সেন্ট্রাল পার্ক ।
পৃথিবীর নানা প্রান্তের লক্ষ লক্ষ ভ্রমন পিপাসুরা প্রতি বছর এই পার্ক ভ্রমন করে থাকেন।
জগৎ বিখ্যাত অনেক ফিল্মের শুটিং এই পার্কে হয়েছে এবং প্রায়ই হয়ে থাকে।
১৮৫৮ খৃষ্টাবদে এই পার্ক জনগনের জন্য প্রথম উন্মুক্ত করা হয় । তখন এর আয়তন ছিল ৭৭৮ একর । পরে তা বর্ধিত হয়ে ১৮৭৩ খৃষ্টাবদে ৮৪৩ একরে পৌঁছে।
পৃথিবী বিখ্যাত এই পার্কটির ডিজাইনার হলেন Frederick L Olmsted ও Calvert V aux নামের দুই ল্যানডসকেপ আর্কিট্যাকট ।
স্প্রীং , সামার, উইন্টার , ফল প্রতিটি ঋতু তেই নয়নাভিরাম ভিন্ন ভিন্ন সাজে সেজে উঠে এই পার্ক । এলিস ইন ওয়নডারল্যানড, সেন্ট্রল পার্ক যু, চ্যারি হীল, বেলভেডেয়ার ক্যাসল, শেকসপিয়্যার গার্ডেন , জন লেননের স্মৃতি উদ্যান – ষ্ট্রোবেরী ফিল্ড ,আইসস্কেটিং রিনক্, ক্যারউস্যাল, লেক,বাথেসডা ফাউনটেন, শিপ ম্যাডো এমনি অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়ে গেছে এ পার্কে , যার সবকটি একদিনে দেখে শেষ করা সম্ভব নয়।
সামারের দাবদাহে যে লেকে নানা রঙের পালতুলা নৌক ভাসে, শীতকালে তাই স্কেটিং রিঙ্ক এ পরিনত হয়। পার্ক সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তবে কিছু কিছু স্থানে প্রবেশ মূল্য আছে।
দর্শনীর বিনিময়ে পার্ক কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা আছে যা ইনফোরমেশন কাউনটার থেকেই জেনে নেয়া যায়।
তাছাড়াও জাকজমক পূর্ন ঘোড়ার গাড়ি এমনকি রিকশা ও পাওয়া যায় যা বেশ ব্যয় বহুল, প্রতি দশ মিনিটে দশ থেকে পনেরো ডলার চার্জ করে , ওদের সঙ্গে দর কষাকষি করে নেওয়াই শ্রেয়।
সামারের কোনো অলস দুপুরে মন চাইছে আশাপাশে কোথাও যেতে ? অথচ বাজেট নিয়েও ভাবছেন? চট করে কিছু স্ন্যাক্স , ড্রিংক্স আর একটা ম্যাট নিয়ে চলে যান না বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সেন্ট্রাল পার্কে ।
পড়ার অভ্যেস থাকলে মন মতো দু একটা বই ও নিতে পারেন সঙ্গে করে। কথা দিচ্ছি , মন চাঙ্গা করা চমৎকার একটা স্ট্যাকেশন হয়ে যাবে। ও হ্যাঁ , আপনার স্মার্ট ফোন কিংবা ক্যামেরায় পর্যাপ্ত চার্জ দিয়ে নিয়ে যেতে ভুলবেন না।
স্মৃতি ধরে রাখার মতো প্রচুর স্পট পাবেন ওখানে।
কিছু ছবিও সঙ্গে দিয়ে দিলাম। মন পবনের নাও ভাসিয়ে চাইলে এক্ষুনি ফ্রী ঘুরে আসতে পারবেন ওখান থেকে

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com