সূচীশিল্পী আমিনুল ইসলাম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

pranerbanglaA2kসেলাইয়ে হাতেখড়ি মার কাছেই হয়েছে আমিনুল ইসলামের।তারপরও আত্মীয়স্বজন যার কাছ নতুন কিছু দেখেছেন শিখে নিয়েছেন।শেলাই শিল্পে তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই।ব্নধুরা যখন দৌড়ঝাপ খেলাধুলা নিয়ে ব্যাস্ত তখর তিনি ঘড়ে বসে কাপড়ে নিজের হাতে ডিজাইন এঁকে সেলাই করতেন ছবি আঁকাটা নিজের চেস্টাতেই হয়েছে। এক চাচাতো ভাই খুব রাগ করতেন তাই সবসময় তাকে ভয় পেতেন।এবং তাকে লুকিয়েই সেলাই করতেন।বাবা-মা কখনও রাগ করতেন না, বরং উৎসাহই দিতেন।

কলেজে পড়ার সময় একজন গানের স্যারের কাছে গান শিখতে যান। সেই স্যারই তাকে প্রথমে ঢাকায় এসে আড়ংয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।১৯৯০ সনে একবার ঢাকায় বেড়াতে এসে একদিন রিক্সা চড়ে আসাদ গেট আড়ংয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন।হঠাৎ চোখ চলে য়ায় আড়ংয়ের শোকেসের ম্যানিকুইনের দিকে। তখন ভাবেন ইস্ ওদের গায়ে যদি আমার ড্রেস থাকতো তাহলে ধন্য হয়ে যেতাম।যেই ভাবা সেই কাজ।একদিন নিজের কাজ নিয়ে আড়ংয়ে গিয়ে হাজির হন।তখন আড়ংয়ের ডিজাইনার চন্দ্র শেখর সাহা আর ওয়াহিদা রহমান কাজল আমিনুলের কাজ পছন্দ করেন।এবং তখনই তাকে ১০০পিস কামিজে কাজের র্অর্ডার দিয়ে দেন ।কিন্তু আমিনুল তখনও জানতেন না অনেক কিছুই।একই ডিজাইন কিভাবে ১০০ পিসের উপর করবেন? নিজের হাতে এঁকে তো প্রত্যেক পিসে হুবহু করা যাবে না। তখন কাজী ওয়াহিদ আরা কাজল তাকে শিখিয়ে দেন কিভাবে ট্রেসিং পেপারের ওপর ডিজাইন করে কেরোসিন দিয়ে কাপড়ে ছাপ দিতে হয়।আমিনুলের কাছে খুলে যায় এক নতুন পৃথিবী।ঝিনাইদহ থেকে সে বছরই শুরু হয় তার পথ চলা।pranerbanglaA2k11

এখন ঢাকায় তার বিশাল ফ্যাক্টরী। ওখানে কাজ করে নারী পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন। এখনও সব আয়োজনই তার আ্ড়ংয়ের জন্য।পর্দা, কুশন কাভার,বেড কাভার,সেলোয়ার-কামিজ, পান্জাবী, ট্যাপেস্ট্রি।এমনি হাতের সব কাজই তিনি করেন আড়ংয়ের জন্য।

ডিজাইন এখনও নিজেই করেন।তার অফিস রুমের চারদিকের দেয়াল জুড়েই রয়েছে নিজের করা ট্যাপেস্ট্রি।তবে ইতিমধ্যে দেশের আঙ্গিনা ছাড়িয়ে বিদেশেও কিছু কাজ করছেন।বনধু মন্জুরুল হকের ‘আর্টিজান’প্রতিস্ঠানের মাধ্যমে জাপানে বিয়ের পোশাক করেছেন।

শোরুম করার ইচ্ছে ভবিষ্যতে যে নাই তা নয়, তবে ভিন্ন ধরনের কিছু করতে চান।ডিজাইনের ব্যাপারে প্রতিনিয়ত গবেষনা করেই যান।মাথায় সারাক্ষনই ঘুরপাক খায় ডিজাইনের চিন্তা।

সূচিশিল্পী আমিনুল প্রকৃতিপ্রেমীও বটে বাসার আনাচে কানাচে গাছ। আর ছাঁদে আছে বিশাল বাগান।নিজের কাজের পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা করেই তার অবসর কাটে।

pranerbanglaA@k2

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com