সামাজিক পরিবর্তন বলতে আপনি আমি কি বুঝি……..!!!!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সৈয়দা মুনিয়া জামান

একজন পুরুষকে যদি প্রশ্ন করি,সামাজিক পরিবর্তন বলতে আপনি কি চান..? সে বোধহয় খুব একটা কিছু খুঁজে পাবেনা।তাহলে কি তারা পরিবর্তন চায়না….??? একজন নারীকে যদি প্রশ্নটা করি,আপনি সামাজিক পরিবর্তন বলতে কি চান..?? অনেক কিছু খুঁজে পাবে বলার মতন।প্রথম কি বলবে সেটা অধিকাংশ মানুষেরই জানা।প্রথমেই বলবে নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙি বদলাতে হবে।যেহেতু প্রথম এই চাওয়াটাতেই আমার আপত্তি রয়েছে,সেহেতু পরবর্তী চাওয়া গুলোর দিকে আর যাচ্ছিনা। আপত্তিটা কোথায় জানেন? বলছি,আপনাকে আমাকে সবাইকে নিয়েই সমাজ গঠিত হয়েছে।সমাজে পুরুষ/নারী নির্বিশেষে সকলে একসঙ্গে বসবাস করছে।একজন নারীর প্রতি পুরুষের দৃষ্টিভঙি বদলাতে হবে, এটা যদি একজন নারীর চাওয়া হয়,তাহলে একজন নারীর প্রতি একজন নারীরই দৃষ্টিভঙিটা আগে বদলাতে হবে,এটা কেন একজন নারী আগে চায়ছে না? কি কারনে আমি একজন নারী হয়ে নারীর বিপরীতে কথা বলছি,কারনটি আরো স্পষ্ট করছি।আমি যখন বিয়ের পর চার বছর সংসার জীবন অতিবাহিত করে,জামাইকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়ীতে গেলাম।তখন আশেপাশে থাকা প্রতিবেশী নারীগন প্রায়দিন আহাঃ উহুঃ করতে আসতো।এতো সুন্দর একটা মেয়ে বিয়ের পর বাবার বাড়ীতে পড়ে থাকবে বলে তাদের কতো দুঃখ্।তাদের দুঃখ্ আমি দুঃখিত হতে না পারলেও আমার আত্মীয় পরিজন এক প্রকার অতিষ্ট হয়ে আবার মেয়ের বিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করতে থাকলো। অতঃপর,আমার কাছে মনে হলো আসলেই বাবার বাড়ীতে পড়ে এসব আহাঃ উহুঃ সমবেদনা আর পেছনে নানা উপহাস না দেখে,ছেলের দায়িত্বটুকু নিজে নিয়ে কিছু করার চেষ্টা করি।তারপর থেকে বছরগুলো একাই চলছি, সঙ্গে ছেলেটাও নিজের মতন বাঁচতে শিখে যাচ্ছে।সমস্যাটা কোথায় জানেনতো..?এখন আশপাশের নারীগন কিঞ্চিত কৌতুহল বসতো যখন একটু তথ্য বের করতে পারে,ছেলের বাপ নেই মেয়ে একলাই থাকে।তখন তাদেরও আহাঃ উহুঃ টাইপের চুলকানি শুরু হয়। যে মেয়ে পরিবার বিহীন একলা থাকে,সে কি আর ভালো মেয়ে…!!! এই দৃষ্টিকোনটা সৃষ্টি করেছে একজন নারী একজন নারীর প্রতি।কোন পুরুষ সৃষ্টি করে দিয়ে যায় নাই।আমার জানতে ইচ্ছে করে খুব,একজন মেয়ের ভালো আর মন্দটা কি নির্ভর করে একজন স্বামী বা একজন বাবার পরিচয়ের ওপর???সবাই একই সুরে বলে বসবেন,একদম তা না।তাহলে বিচার করার সময়তো সেভাবেই করছেন। আমার কাছে মনে হয় বারবার,একজন নারীর জন্য পুরুষ যতটা আতংকের কারন হতে পারে বলে আপনার মনে হচ্ছে,তার চেয়েও নির্মম সত্য হলো একজন নারীর জন্য একজন নারীই আতংকের কারন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।সামাজিক পরিবর্তনটা তখনই আসবে,যখন সমাজের নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাই একই ভাবে ভাবতে শিখবে।নারী যখন তার চিন্তার জগতকে আরো কিছুটা এগিয়ে নিতে পারবে।একজন নারী একজন নারীর জন্য আহাঃ উহুঃ ছাড়াও সত্যিকার অর্থে তার জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে ভাবতে পারবে। সবশেষে বলার মতন কথা একটাই,ভালো মন্দের চিরস্থায়ী কোন বর্ণনা হতে পারেনা।সমাজের নিয়মগুলো পরিবর্তন করতে চানতো নিজেকে আগে পরিবর্তন করুন।নিজের ভাবনাগুলোকে সব কাতারে নিয়ে দাড় করান,দেখবেন সবকিছু কেমন সহজ মনে হবে।যখন নিজেকে আপনি নানা জায়গায় দাঁড় করিয়ে ভাবতে শিখে যাবেন,তখন দেখবেন অভিযোগ করার নেই আপনার।শুধু নিজেকে আগে পরিবর্তন করার আছে, আর কিচ্ছু আপনি পরিবর্তন করতে পারবেননা। প্রত্যেকেই আগে নিজেকে বদলাতে শিখুন,তারপর আপনার সমাজ আপনার পিছেপিছে বদলে যাবে।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com