সাতাত্তর বছরে গ্রেট ডিক্টেটর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘‘আমি সম্রাট হতে আসিনি, আমি শাসক হতে আসিনি, আমি দখল করতে আসিনি। ওটা আমার কাজও নয়।আমি মানুষকে সাহায্য করতে এসেছি। আমরা সবাই সবাইকে সাহায্য করতে চাই। মানুষের তো এমনটাই হবার কথা। আমরা সবাই একসঙ্গে সুখে বেঁচে থাকতে চাই, বেদনায় নয়’’।
এরকমটাই ছিলো ১৯৪০ সালে নির্মিত সেই বিখ্যাত রাজনৈতিক বিদ্রুপাত্নক সিনেমা দ্য গ্রেট ডিক্টেটরে স্বৈরশাসকের বক্তৃতার মুখবন্ধ। সিনেমাটি তৈরী করেছিলেন বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রবাদসম অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন। এ বছর সেই সিনেমা ৭৭ বছরে পা রাখলো যার বিদ্রুপের চাবুক আজো দেশে দেশে স্বৈরশাসকদের খোঁচা দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
চ্যাপলিন হিটলার আর পৃথিবীজুড়ে তার নির্মম কর্মকান্ডকে ব্যাঙ্গ করতেই তৈরী করেছিলেন এই সিনেমা। ‘দ্যা গ্রেট ডিক্টেটর’ তার অভিনীত প্রথম সবাক সিনেমা। অসাধারণ এই সিনেমাটি ৫টি অস্কার নমিনেশন পেয়েছিল।
মজার ব্যাপার হচ্ছে অ্যাডলফ হিটলার আর চার্লি চ্যাপলিনের বয়সের ব্যবধান ছিল মাত্র চারদিন। বিশ্ব নন্দিত এই বৃটিশ অভিনেতার জন্ম হয়েছিল ১৮৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল আর একই বছর ২০ এপ্রিল জন্মেছিলেন ইতিহাসের খল নায়ক হিটলার। দুজনের জন্ম কাছাকাছি সময়ে হলেও তাদের স্বভাবের মাঝে কোনো নৈকট্য ছিলো না। একজন মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন আনন্দ আর শিল্প। অন্যজন মৃত্যু। এই ছবির কাহিনি, সংগীত, প্রযোজনা ও পরিচালনা—সবই চ্যাপলিনের। ছবির গল্প গড়ে উঠেছে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি একটি সময়কে ঘিরে। আর ছবি যখন মুক্তি পায়, তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। গোটা বিশ্বের মানুষ প্রত্যক্ষ করছে হিটলারের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ।
এই ছবিতে চ্যাপলিন দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। দুই চরিত্রের চেহারাও ছিলো একই। একটি চরিত্রে তিনি টোমানিয়ার এক সাধারণ ইহুদি নাপিত, যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির হয়ে লড়েছিল। যুদ্ধে আহত হয়ে তার স্মৃতি হারিয়ে যায়। আরেকটি চরিত্রে চ্যাপলিন সে দেশের স্বৈরশাসক অ্যাডেনয়েড হিংকল, যে ইহুদিদের বিনাশ করতে মরিয়া। ২০ বছর পর নাপিত ফিরে এসে দেখে, তাঁর টোমানিয়া অন্য রকম হয়ে গেছে। হিংকল ইহুদিদের বিনাশ করে দেশে স্বৈরতন্ত্র চাপিয়ে বিশ্ব দখলের স্বপ্ন দেখছে। তারপর দুজন মানুষের অবস্থান বদলে গিয়ে সিনেমায় ঘটতে থাকে নানা কান্ড।
চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন জন্মেছিলেন, মাতাল বাবা আর মানসিক রোগী মায়ের সংসারে। এক সময়ে তাঁর বাবা পরিবার ফেলে নিরুদ্দেশ হলে তার মায়ের মানসিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মাত্র সাত বছর বয়সেই চ্যাপলিনকে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় কারখানার কাজে।
হয়তো বাকি জীবন কেটে যেত কারখানার আঁধারেই, কিন্তু ভাগ্যকে বাজিয়ে দেখতেই একদিন চ্যাপলিন পাড়ি জমালেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানেই তার অভিনয় প্রতিভা তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করলো নতুন ভাবে। চার্লি চ্যাপলিন হয়ে উঠলেন এক অসাধারণ অভিনয় শিল্পী।

আশিক রায়হান
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com