কি বললেন সরয়ার ফারুকী…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডুব সিনেমা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। সরব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সরব পত্রিকার পাতাও। সিনেমাটি নিয়ে এই তর্ক বিতর্কের সূচনা বেশ আগে থেকেই। সিনেমা নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পর কলকাতার পত্রিকা আনন্দবাজারে খবর প্রকাশিত হয়, সিনেমার গল্প গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের নন্দিত প্রয়াত কথাশিল্পী হুমায়ূন আহমেদের জীবনের ওপর ভিত্তি করে।
হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন প্রতিবাদ করেনে। তার অভিযোগ ছিল পরিচালক সরয়ার ফারুকী তাদের পরিবারের অনুমতি না নিয়েই কাজটি করেছেন। অবশ্য পরিচালক বারবার তখন দাবি করেন তার সিনেমা হুমায়ূন আহমেদের বায়োপিক নয়।
ডুব সিনেমাকে ঘিরে এতো আলোচনা সমালোচনাকে কেন্দ্র করেই প্রাণের বাংলার প্রতিনিধি মুখোমুখি হন পরিচালকের, তার প্রতিক্রিয়া জানতে।
এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে ডুব নিয়ে কথা বললেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

দেশ জুড়ে এই সিনেমা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে। কেমন লাগছে সরয়ার ফারুকী?
প্রশ্নটা শুনে একটুও ভাবলেন না সরয়ার। সোজাসাপ্টা উত্তরে বললেন, বাংলাদেশের যে সিনেমা দর্শকরা আমার সিনেমা দেখে হলের ভেতরে চোখের জল ফেলেছেন, আন্দোলিত হয়েছেন, যে সমালোচকরা এই ছবির রিভিউ লিখেছেন তাদের প্রতি রয়েছে আমার গভীর শ্রদ্ধা।

তাহলে নিন্দুক অথবা সমালোচকদের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?
উত্তরে হাসলেন সরয়ার। বললেন, এ ব্যাপারে আমার কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। দেশে এবং দেশের বাইরে দর্শকরা আমার সিনেমা দেখেছেন। প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন । আমি আনন্দিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেলেও আমার সিনেমার রিভিউতে ইতিবাচক মন্তব্য পেয়েছি।
সিনেমা তৈরীর আগে যে গল্পটি বলতে চেয়েছিলেন সেটা কি পর্দায় বলতে পেরেছেন?
সরয়ার মনে করেন তিনি এভাবেই গল্পটি বলতে চেয়েছিলেন। আর সেই পরিল্পনা অনুযায়ী কাজটি করতে পেরেছেন।

ডুব সিনেমায় নৈ:শব্দ একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে সিনেমা ক্রিটিকরা মন্তব্য করেছেন।আপনি কি বলেন?
সরয়ারও বললেন, আমি আমার প্রতিটি সিনেমাতে নতুন কিছু করতেই হবে বলে মনে করি তা না। তা নির্ভর করে একেবারে সিনেমার  চরিত্রগুলোর গঠনের ওপর। এই সিনেমায় চরিত্রগুলো যোগাযোগহীন। তারা নিজেদের অনুভূতি ঠিকঠাক ভাবে প্রকাশ করতে পারে না। তাদের ভেতরে নৈ:শব্দ একটি সংযোগ সেতু হিসেবে কাজ করেছে। তারা নীরবতার ভেতর দিয়ে নিজেদের প্রকাশ করেছে।যেমন ব্যাচেলর সিনেমায় চরিত্ররা কথা বলেছে ভিন্ন ভাবে। কারণ সেখানে গল্প ছিলো অন্যরকম।

অভিনয় শিল্পী ইরফান খানের কথা কি আগেই  ভেবেছিলেন ? সারোয়ার জানালেন, সিনেমায় তো গল্প লেখার পর একটি চরিত্রের বিপরীতে কাকে কাস্ট করবো সেটা নিয়ে ভাবা হয়। জাভেদ চরিত্রটিতে দুজন আলাদা মানুষ বসবাস করে। একজনের রয়েছে পাহাগসম ব্যক্তিত্ব আর অন্যজন আবেগী শিশুর মতো সরল। আমার তখন মনে হয়েছিল সুঅভিনেতা ইরফান খান এ ধরণের একটি চরিত্রের জন্য উপযুক্ত। আমার তাকেই প্রয়োজন।তাই তাকে নেয়া।

তবে অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও তাদের সেরা কাজটি করেছেন এই সিনেমায়।
জানা গেলো ইতিমধ্যে পরবর্তী সিনেমার কাজ শুরু করে দিয়েছেন সরয়ার ফারুকী।এ বছরই হয়তো শুরু করে দিবেন কাজ।
পরের প্রকল্পে কি ইরফান খান থাকছেন?
ছোট করে উত্তর দিলেন সরোয়ার, থাকতেও পারেন। এখনি বলা যাচ্ছে না। তবে নতুন ছবির প্রি প্রোডাকশনের শুরু হয়ে গেছে।

প্রাণের বাংলা প্রতিবেদক
ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com