শুভ জন্মদিন সমরেশ বসু

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখালেখি ছিলো তাঁর কাজ। এক জীবনে সব্জী বিক্রেতা ছিলেন, চাকরি করেছেন গান ফ্যাক্টরিতে, ডিম বিক্রি করেছেন ট্রেনে, জেল খেটেছেন সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির অনুসারী হয়ে। আর এইসব ঘটনা প্রবাহের মাঝেও নিরন্তর লিখে গেছেন। তিনি সাহিত্যিক সমরেশ বসু। আগাগোড়া একক প্রচেষ্টায় সাহিত্যের পথ তৈরীর কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে গতানুগতিক ধারার বাইরে অনিবার‌্যয করে তুলেছিলেন সেই নিজের চলার পথটিকে।

আজ সমরেশ বসুর ৯৩তম জন্মদিনে এই লেখকের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

বাংলা গদ্য সাহিত্য তাঁর লেখায় সমৃদ্ধ হয়েছে। বিচিত্র স্বাদের উপন্যাস লিখেছেন তিনি।লিখেছেন অসাধারণ সব গল্প। মানুষের রাজনৈতিক চেতনা, দারিদ্র, যৌনতাসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞতা সুনিপুন ভাবে স্থান পেয়েছে সেসব গল্প আর উপন্যাসে। ‘সাম্ব’ উপন্যাসের জন্য ১৯৮০ সালে তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি লেখেন তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘নয়নপুরের মাটি’। তাঁর প্রথম ছোট গল্প ‘আদাব’। লিখতেন কালকূট ও ভ্রমর ছদ্মনামে। নিজের নামে ও ছদ্ম নামে সমরেশ বসু ২০০টি ছোট গল্প ও ১০০ টি উপন্যাস রচনা করেন। জীবনকে বহু মাত্রায় দেখেছেন এই লেখক। আর তারই ছায়া পড়েছিলো তাঁর লেখায়। নিজেই লেখালেখি সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘‘সাহিত্যের যা কিছু দায় সে তো জীবনের কাছেই’’। ‘গঙ্গা’ তাঁর রচিত উপন্যাসগুলোর মাঝে অন্যতম। এ ছাড়াও তিনি লিখেছেন উত্তরঙ্গ, প্রজাপতি, বিবর, বাঘিনী, কোথায় পাবো তারে, মুক্তবেণী, মহাকালের রথের ঘোড়া, দশদিন পরে, যুগ যুগ জীয়ে আর জীবনের সায়াহ্নে এসে দেখি নাই ফিরে-এর মতো সাড়া জাগানো উপন্যাস।ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজের জীবনের ওপর ভিত্তি করে এই উপন্যাসটি রচনা করেন তিনি। লিখেছেন আদাব আর স্বীকারোক্তির মতো গল্প। বাংলা উপন্যাসে আর্থ-সামাজিক কাহিনীর সঙ্গে প্রচুর উপকথা আর মিথের ব্যবহারও তার লেখাকে এক ধরণের স্বাতন্ত্র দিয়েছে। গদ্য সাহিত্যে তাঁর ভাষাশৈলীও ছিলো একেবারেই আলাদা।

সমরেশ বসুর প্রজাপতি উপন্যাসটি ভারতের নিম্ন আদালতের রায়ে অশ্লীলতার দায়ে নিষিদ্ধ হয়। ১৭ বছর পর উচ্চ আদালতের রায়ে বইটির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়।

তার শৈশব কাটে বাংলাদেশের বিক্রমপুরে আর কৈশোর কাটে কলকাতার উপকন্ঠে নৈহাটি শহরে। তাঁর বাবার নাম মহেন বসু, মা শৈবলিণী বসু। তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য ছিলেন। কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ হলে ১৯৪৯-৫০ সালে সমরেশ বসুকে জেলও খাটতে হয়েছিলো। জেল থেকে মুক্ত হয়ে সমরেশ বসু লেখালেখিকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com