শুভ জন্মদিন রাইসুল ইসলাম আসাদ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাবলু ভট্টাচার্য:পুরো নাম আসাদুজ্জামান মোহাম্মাদ রাইসুল ইসলাম। শিশুকাল কাটিয়েছেন ঢাকাতেই। বড় হয়েছেন ঢাকার অলিগলিতে। পল্টনে বড় হয়ে উঠার কারণে রাজনৈতিক হাওয়াটা উপেক্ষা করা সম্ভব হয়ে উঠেনি তাঁর পক্ষে। সে সময়ে তাদের পাড়ায় উঠতি বয়সীদের একটা ক্লাব ছিল, নাম— একতা বিতান। সেই ক্লাবে খেলাধূলার পাশাপাশি তিনি রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্কেও মেতে থাকতে পছন্দ করতেন।

ঘুড্ডি ছবিতে

এর মাঝে চলে আসে ২৫ মার্চ। সেই কালোরাতের গণহত্যার পর তাঁর পাকিস্তান বিদ্বেষ পরিণত হয় প্রচন্ড ঘৃণায়। তাই স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হলে তিনি সুযোগ খুঁজতে থাকেন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার। সে সময়ে ঢাকায় তরুণদের খুঁজে বের করে করে মেরে ফেলা হচ্ছিলো, তাই পালিয়ে যান প্রথমে জিঞ্জিরায়, তারপর বিক্রমপুরে গিয়ে উঠেন। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে ঢাকায় ফিরে এসে চলে যান যুদ্ধের ট্রেনিং নিতে আগরতলায়। ট্রেনিং নিয়ে এসে কলেজিয়েট স্কুলের মেধাবী এই ছাত্র ঢাকার উত্তর সেকশনের হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে বায়তুল মোকাররম মার্কেটের সামনে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে পাকিস্তানি মিলিটারিদের ভ্যান উড়িয়ে দেওয়ার অপারেশনটি মুক্তিযোদ্ধের একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়েই থাকবে তার কাছে আজীবন।

যুদ্ধ শেষেই এই গুণী অভিনেতা যুক্ত হয়ে পড়েন মঞ্চ নাটকের সঙ্গে। ১৯৭২ সালে রাইসুল ইসলাম আসাদ প্রথম মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন। ‘আমি রাজা হব না’ এবং ‘সর্পবিষয়ক গল্প’ নামের ২টি নাটক করেন তিনি। এরপর অভিনয় করেন আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে ‘পশ্চিমের সিঁড়ি’ নাটকে। ১৯৭৩ সালে তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে গঠন করেন ‘ঢাকা থিয়েটার’। এরপর থেকে ঢাকা থিয়েটারে একের পর এক সাড়া জাগানো নাটকে অভিনয়।

একই ফ্রেমে তিন নাট্যজন আফজাল হোসেন, হুমায়ুন ফরীদি ও রাইসুল ইসলাম আসাদ

ঢাকা থিয়েটার গঠনের বছরেই মুক্তি পায় তার প্রথম চলচিত্র ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এরপরে একে একে অভিনয় করেছেন বহু সংখ্যক সিনেমাতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘লাল দরজা’, ‘লালন’, ‘পতঙ্গ’ (হিন্দি), ‘মনের মানুষ’, ‘হঠাৎ বৃষ্টি’, ‘ঘুড্ডি’, ‘একই বৃত্তে’, ‘উত্তরা’, ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘দুখাই’, ‘লালসালু’ ইত্যাদির মত দর্শকপ্রিয় সব সিনেমা।

শুধু চলচিত্র ও মঞ্চ নয়, গুণী এই অভিনেতা বেতার, টেলিভিশনেও সমান জনপ্রিয়ও। নিজের নানা কাজের জন্য একাধিকবার জাতীয় পদকও জয় করেছেন তিনি। এখনও বিরামহীনভাবে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন মহান এই অভিনেতা। শুধু অভিনয় করছেন তাই নয় জনপ্রিয়তা ও তারকাদের অবস্থানের কাতারে তিনি রয়েছেন শীর্ষে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর অভিনয় ও তার অভিনীত চলচ্চিত্র বাপক প্রশংসিত হয়েছে।

এছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন বহু সংখ্যক টেলিভিশন নাটকে। তার অভিনীত জনপ্রিয় নাটকগুলোর মাঝে আছে ‘হৃদয়ের ছবি’, ‘পৌষ ফাগুনের পালা’, ‘চিঠি আসে না’ ইত্যাদি শুধু অভিনয়ে সীমাবদ্ধ থাকেননি এই গুণী মানুষটি।

গানও গেয়েছেন তিনি। ‘ঘুড্ডি’ চলচ্চিত্রে গান গেয়েছিলেন এই অভিনেতা। সম্প্রতি ‘মৃত্তিকা মায়া’ ছবির গানে আবারো কন্ঠ দেন তিনি।

রাইসুল ইসলাম আসাদ ১৯৫২ সালের আজকের দিনে (১৫ জুলাই) ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

 ছবি:গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com