শুভ জন্মদিন মেরিলিন মনরো

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাবলু ভট্টাচার্য

তাঁর সম্পর্ক ছিল দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। তাঁর সম্পর্ক নাকি ছিল প্রেসিডেন্টের ভাইয়ের সঙ্গে। তিনি কখনও বিয়ে করছেন বিশ্বখ্যাত নাট্যকার আর্থার মিলার-কে, কখনও খ্যাতিমান বাস্কেটবল তারকাকে। ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’ সিনেমায় তাঁর সাদা পোশাক যখন সাবওয়ে ভেন্ট-এর হাওয়ায় ফুলেফেঁপে উড়ে যাচ্ছে আর তিনি হাত দিয়ে ঢাকছেন লজ্জা ও পুলক— সেই দৃশ্য যৌন আবেদনের ‘আইকনিক’ প্রকাশ হিসেবে থেকে যাচ্ছে সিনেমার ইতিহাসে। সেই দৃশ্যই ধরা আছে পাম স্প্রিংস-এর ২৬ ফুট উঁচু স্ট্যাচুতে, প্রণয়ীযুগল থেকে বৃষ্টিপালানে-দর্শক যার তলায় খুঁজে নেয় আড়াল, আশ্রয়।

২০১৪-র সমীক্ষায় সেই পোশাকটি পাচ্ছে বিশ্ব চলচ্চিত্রে ‘সেরা আইকনিক পোশাক’-এর সম্মান। তিনি মেরিলিন মনরো। মার্লন ব্র্যান্ডো তাঁর আত্মজীবনীতে গর্ব করে লেখেন— ‘আমারও ওর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল’!

তবে মেরিলিনের যৌন দীপ্তির সবচেয়ে বড় ‘স্বীকৃতি’ এল যাঁর কাছ থেকে, সে ভদ্রলোক জন এফ কেনেডি। মার্কিন রাষ্ট্রপতি। এঁর সঙ্গে মনরোর আলাপ এক ডিনার পার্টিতে। পর দিনই মনরোর কাছে ফোন যায় অধৈর্য কেনেডির। আসছে মাসে যে তিনি পাম স্প্রিংস-এ যাচ্ছেন, সেখানে মনরোকেও সঙ্গী হওয়ার প্রস্তাব দেন।

মনরো-কেনেডি সম্পর্ক যখন আন্তর্জাতিক কানাঘুষোর ইস্যু নাম্বার ওয়ান, তখন কেনেডির পঁয়তাল্লিশতম জন্মদিনের পার্টিতে ‘হ্যাপি বার্থডে মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ গেয়ে উঠছেন মনরো, এমন টাইট একটা পোশাক পরে, বলা হয়, মনরোর শরীরেই কাপড়টা ফেলে সেলাই করা হয়েছিল। মোটে ছত্রিশ বছরের জীবনে তিন-তিন বার ডিভোর্সের পাতায় সই করা মনরো নাকি ভালবেসেছিলেন কেনেডিকে। কিন্তু কেনেডির বোধহয় অমন কোমল ব্যাপার স্যাপার জাগেনি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বইয়ে বলা হয়েছে, কেনেডি যখন এড়িয়ে যাচ্ছেন তাঁকে, মনরো নাকি সরাসরিই মার্কিন ফার্স্ট লেডি-র কাছে গিয়ে সব ফাঁস করে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট তাঁকেই বিয়ে করবেন। একটুও বিচলিত না হয়ে কেনেডির স্ত্রী বলেন— ‘খাসা, বিয়ে করো ওকে! চলে এসো হোয়াইট হাউসে। ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব নাও। সব হ্যাপা গিয়ে পড়বে তোমার কাঁধেই।’

হয়তো এ সব কারণেই, বিষাদ থেকেই, ক্রমশ চড়া নেশার ভিতর ডুবে গিয়েছিলেন মনরো। ১৯৬২-র ৫ অগস্ট তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আত্মহত্যা, না হত্যা? সত্যিই ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন, সত্যিই কি তখন নগ্ন ছিলেন?

মেরিলিন মনরোর আসল নাম ছিল নরমা জেন মর্টেনশন। মায়ের বহুগামিতার জন্য মনরোর আসল বাবার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বড়বেলাটা যতটা বর্ণিল ছিল, ছোটবেলাটা তার চেয়ে বেশি কষ্টে কেটেছে মনরোর। তিনি যখন খুব ছোট, তখনই তার মা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। নয় বছর বয়সে এতিমখানায় ঠাঁই হয় মনরোর। দুই বছর পর সেখান থেকে পালক পিতা-মাতার আশ্রয় পান মনরো। এখানে এসেই স্বাধীন জীবনের সুযোগ পান তিনি। কারণ পালক মা গ্রেস ম্যাককি গডার্ড ছিলেন মনরোর মায়ের বান্ধবী। এ সময় মেরিলিন মনরোর বয়স ছিল ১১ বছর। কিন্তু ১৫ বছর বয়সে তার পালক পিতা-মাতা পারিবারিক দরিদ্রতার কারণে তাকে আবার এতিমখানায় পাঠিয়ে দেন। এতিমখানায় থাকতে কিছুতেই মন চাইছিল না তার। তখন মনরো তার পাশের বাসার এয়ারক্রাফট প্লান্টের চাকুরেকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় মনরোর বয়স ছিল ১৬। শুরু হলো মনরোর প্রথম দাম্পত্য জীবন। কিন্তু সবই এত সহজ ছিল না। সেই সঙ্গে ঝামেলাও শুরু হলো।

বিয়ের কিছু দিন পর স্বামী জেমস ডোগার্থির চাকরি হলো একটি সামুদ্রিক বাণিজ্যিক জাহাজে। ফলে একাকী সময় কাটে মনরোর। তখনই ডেভিড কনোভার নামে এক ফটো সাংবাদিকের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে মনরোর। ডেভিড মনরোকে মডেলিংয়ে প্রস্তাব করলেন। বিষয়টি লুফে নিলেন মনরো। সেখান থেকেই অন্তরঙ্গতা আর ভালোবাসাবাসি। প্রথমে কেবল স্বার্থের জন্যই ডেভিডের সঙ্গে খাতির করেছিলেন মনরো। পরে অবশ্য তিনি নিজেও তার প্রেমে মজে যান। ফলে যা হওয়ার তা-ই হলো। জেমসের সঙ্গে সংসারটা ভেঙে গেল মনরোর।

তত দিনে মডেল হিসেবে মনরো পরিচিতি পেয়ে গেছেন। সংসার ভেঙে যাওয়ার পর ডেভিড তাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে একদমই সায় দেননি মেরিলিন। তার মনে তখন প্রতিষ্ঠার উদভ্রান্ত নেশা। এর মধ্যেই হলিউডের সঙ্গে ভালোমতো জড়িয়ে যান মনরো। সেই সময় ‘মাংকি বিজনেস’ নামে একটি চলচ্চিত্রের শুটিং চলাকালীন প্রযোজক জোয়ি ডি ম্যাগিওর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন মনরো। তাদের বিয়েও হয় এক সময়। তবে বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায়ই বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর কিছু দিন নিঃসঙ্গ জীবন কাটে মনরোর। তার জীবনের পরবর্তী পুরুষটির নাম আর্থার মিলার। আমেরিকার একজন খ্যাতিমান লেখক ও নাট্যকার ছিলেন মিলার। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মনরোর। সুন্দরী মনরো সহজেই যে কোনো পুরুষকে আকর্ষিত করতে পারতেন। মিলারও নিজেকে ঠিক রাখতে পারেননি। ১৯৫৬ সালের ২৯ জুন তৃতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মনরো। এই বিয়েটিও শেষ পর্যন্ত টেকেনি।

এরপর আর কাউকে বিয়ে না করলেও অনেক সহ-অভিনেতা-পরিচালক-প্রযোজকের সঙ্গে তার প্রেমের গুজব ছিল সেই সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয়। তবে মনরোর সবচেয়ে আলোচিত প্রেমের ঘটনাটি ছিল জন এফ কেনেডির সঙ্গে গোপন প্রেম— যা আগেই উল্লেখ করেছি।

মেরিলিন মনরো ১৯২৬ সালের আজকের দিনে (১ জুন) লস এঞ্জেলেস কাউন্টি হাসপাতালে জন্মগ্রহণ করেন।

* বাবলু ভট্টাচার্য এর ‘চলচ্চিত্র চরিতাবিধান’ থেকে গৃহিত

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com