শুভ জন্মদিন ববিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাবলু ভট্টাচার্য: ষাটের দশকের শেষ দিকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চলচ্চিত্রে আগমন ঘটে ফরিদা আখতার পপি নামের এক কিশোরীর-  চলচ্চিত্রে যার নাম রাখা হয় ‘ববিতা’। স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সর্বপ্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করার গৌরব অর্জন করেন  সেই কিশোরী অভিনেত্রী ফরিদা আখতার পপি অর্থাৎ ববিতা।

ববিতা প্রায় তিন দশক ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন।তবে এক পর্যায়ে সিনেমার জগতে টিকে থাকার জন্য এবং বাণিজ্যিক ছবিতে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের জন্য তিনি পুরোপুরি বাণিজ্যিক ঘরানার ছবির দিকে ঝুঁকে পড়েন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ববিতা একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম। নায়িকা হিসেবে তাঁর স্বাতন্ত্র্য লক্ষণীয় ছিল। অভিনয়, গ্ল্যামার, স্ক্রিন পার্সোনালিটি, নৃত্য কুশলতা- সবকিছুতেই তিনি সমান পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন।

তিনি সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। ববিতা ২০০-এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

ববিতা পরপর তিন বছর টানা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন। সত্যজিৎ রায়ের অশনি সংকেত ছবিতে অনঙ্গ বউ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি বেঙ্গল ফ্লিম জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় শ্রেষ্ঠ নায়িকার পুরস্কার পান। এছাড়াও সরকারী ও বেসরকারী অসংখ্য পুরস্কার তিনি লাভ করেছেন। এজন্য তাঁকে একদা ‘পুরস্কার কন্যা’ বলা হত।

ববিতার বাবা নিজামুদ্দীন আতাউর একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন এবং মা বি জে আরা ছিলেন একজন চিকিৎসক। বাবার চাকরি সূত্রে তারা বাগেরহাট থাকতেন। তবে তার পৈতৃক বাড়ি যশোরের সার্কিট হাউজ পাড়ার রাবেয়া মঞ্জিলে। তিন বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে বড়বোন সুচন্দা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, বড়ভাই শহীদুল ইসলাম ইলেট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, মেজ ভাই ইকবাল ইসলাম বৈমানিক, ছোটবোন গুলশান আখতার চম্পা চলচ্চিত্র অভিনেত্রী এবং ছোটভাই ফেরদৌস ইসলাম বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা।  দেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক শহীদ জহির রায়হান ছিলেন তার ভগ্নিপতি। ববিতার পরিবার একসময় বাগেরহাট থেকে ঢাকার গেন্ডারিয়াতে চলে আসেন।

তিনি পড়াশোনা করেছেন যশোর দাউদ পাবলিক স্কুলে। সেখানে অধ্যয়নকোলে বড়বোন কোহিনুর আক্তার চাটনীর (সুচন্দা) চলচ্চিত্রে প্রবেশের সূত্রে পরিবার সহ চলে আসেন ঢাকায়। গেন্ডারিয়ার বাড়ীতে শুরু হয় কৈশোরের অবশিষ্টাংশ।

নয়নমনি

বড়বোন সুচন্দা অভিনীত জহির রায়হানের ‘সংসার’ চলচ্চিত্রে শিশুশিল্পী হিসেবে ববিতার আত্মপ্রকাশ ঘটে ১৯৬৮ সালে। এই চলচ্চিত্রে তিনি রাজ্জাক-সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। তিনি ‘কলম’ নামের একটি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছিলেন সে সময়।

জহির রায়হানের ‘জ্বলতে সুরুজ কি নিচে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে গিয়েই তার নাম ‘ববিতা’ হয়ে যায়। ১৯৬৯ সালে শেষ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন প্রথম নায়িকা চরিত্রে। ১৯৬৯ সালের ১৪ আগস্টে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। ৭০’-এর দশকে শুধুমাত্র অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি গোটা দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন।

ববিতা প্রায় তিন দশক ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

‘সুন্দরী’,‘নয়নমনি’,‘জন্ম থেকে জ্বলছি’,‘অনন্ত প্রেম’, ‘বাঁদি থেকে বেগম’ প্রভৃতি সিনেমায় তাঁর অসাধারণ অভিনয় আজো দর্শকদের মনে দাগ কেটে আছে। আলোচকরা বলেন, ববিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রথম নাগরিক অভিনেত্রীর আইকন গড়ে তোলেন। ববিতার কর্মজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অশনি সংকেত’ (১৯৭৩)। তেতাল্লিশের মন্বন্তর এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামীণ বাংলার আর্থ-সামাজিক পটপরিবর্তন ছিলো এই চলচ্চিত্রের মূল বিষয়।

ফরিদা আক্তার পপি ওরফে ‘ববিতা’ ১৯৫৩ সালের আজকের দিনে (৩০ জুলাই) বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

*বাবলু ভট্টাচার্যের ‘চলচ্চিত্র চরিতাবিধান’ থেকে গৃহিত

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com