শুভ জন্মদিন ফ্রান্‌ৎস কাফকা

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাবলু ভট্টাচার্য

তাঁর সময়কালে প্রাগের অধিকাংশ মানুষ চেক ভাষায় কথা বলতো। চেক আর জার্মান ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে বিভাজন ছিল একটি স্পর্শকাতর বাস্তবতা, যেহেতু উভয় পক্ষই একই জাতীয় পরিচয়ের দাবিদার ছিল। ইহুদি সম্প্রদায় প্রায়ই দুই অনুভূতির মধ্যে নিজেদের খুঁজে ফিরত, যেহেতু এই জায়গাটা কোন রাজ্যের সেই প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই উঠতো। তিনি উভয় ভাষাতেই পারদর্শী হলেও জার্মান ভাষাকে নিজের মাতৃভাষা মেনে নিয়েছিলেন। তিনি একজন আইনজীবীও বটে। তিনি ফ্রান্‌ৎস কাফকা— জার্মান ভাষার উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখক।

কাফকাকে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কাফকা অস্তিত্ববাদ তত্ত্বকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ কাজগুলো যেমন— ‘ডি ভারভা-লাঙ্গ’ (রূপান্তর), ‘ডের প্রোজেন্স’ (পথানুসরণ), ‘ডাস স্কোলস’ (দুর্গ) ইত্যাদির বিষয়বস্তু এবং আদর্শিক দিক মূলত বিচ্ছিন্নতাবোধ, শারীরিক এবং মানসিক নিষ্ঠুরতা, অভিভাবক-সন্তান সম্পর্কের সংঘর্ষ, আতঙ্কজনক উদ্দেশ্য চরিতার্থে ব্যস্ত এমন চরিত্র, মানবজীবনে আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ এবং রহস্যময় রূপান্তর— এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।

ফ্রান্‌ৎস কাফকার বাবা হারমেইন কাফকা ছিলেন তাঁর দাদা জ্যাকব কাফকার চতুর্থ সন্তান। জ্যাকব কাফকা দক্ষিণ বোহিমিয়ার একটি ছোট ইহুদি অধ্যুষিত গ্রামে বসবাস করতেন, কিন্তু পরবর্তীতে হারমেইন কাফকা পুরো কাফকা পরিবারকে প্রাগ শহরে নিয়ে আসেন। হারমেইন কাফকা প্রথম দিকে প্রাগ শহরের রাস্তায় ফেরি করে বিভিন্ন জিনিস বিক্রয় করলেও পরে তিনি একটি পোশাকের দোকান দেন— যেখানে তিনি প্রায় ১৫ জন বিক্রয় কর্মী নিয়োগ করেন।

ফ্রান্‌ৎস কাফকার শৈশব কিছুটা একাকীত্বের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয় এবং তিনি শিশুকাল থেকে গৃহপরিচারিকা ও পারিবারিক সেবকদের কাছে মানুষ হয়েছেন। বাবার সঙ্গে কাফকার সম্পর্কের টানাপোড়ন বোঝা যায় তাঁর ‘ব্রিফ এন দেন ভেটার’ (Letter to His Father) বা পিতার নিকট পত্র থেকে যেখানে তিনি তাঁর বাবাকে অভিযোগের সুরে স্বৈরাচারী এবং মাত্রাতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অপরদিকে তাঁর মা ছিলেন নম্র ও শান্ত স্বভাবের। ফ্রান্ৎস কাফকার লেখনীতে তাঁর বাবার স্বৈরাচারী মনোভাবের ছোঁয়া কিছুটা আঁচ করা যায়।

১৮৮৯ সাল থেকে ১৮৯৩ সাল পর্যন্ত কাফকা ডয়েচ ক্যানাবেনশুল জার্মান বয়েজ এলিমেন্টারি স্কুলে পড়ালেখা করেন। ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত সেখানে পড়ালেখা করার পর তার ইহুদী শিক্ষার ইতি ঘটে। ১৮৯৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে তাঁর বাবা তাকে একটি প্রথাগত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। সেই বিদ্যালয়ে জার্মান ভাষার মাধ্যমে পাঠদান করা হলেও কাফকা কথা বলা ও লেখার ক্ষেত্রে চেক ভাষা ব্যবহারে পারদর্শী ছিলেন। সেই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কাফকা পুরো আট বছর অধ্যয়ন করেন এবং বেশ ভাল ফলাফল অর্জন করেন। তার চেক ভাষার ওপর ভাল দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে চেক ভাষায় মোটেও দক্ষ মনে করতেন না এবং চেক ভঙ্গিতে জার্মান বলতেন। ১৯০১ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন।

একই সালে কাফকা প্রাগ শহরের জার্মান চার্লস-ফার্দিন্যান্দ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে ভর্তি হন। তবে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিনি রসায়ন ছেড়ে আইন শাস্ত্রে ভর্তি হন। আইন শাস্ত্রে কাফকার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিল না কিন্তু তার পরও দুটি কারণে তিনি এই বিষয়ে অধ্যয়ন করার জন্য মনস্থির করেন। প্রথম কারণ হল আইন পেশায় যথেষ্ঠ সম্ভাবনা থাকায় তার বাবা খুশি থাকবেন অপর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনেক দীর্ঘ কোর্স হওয়ায় তিনি দীর্ঘকাল ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করতে পারবেন এবং তার প্রিয় বিষয় যেমন ইতিহাস, কলা ও জার্মান শিক্ষায় ছোট ছোট কোর্স করতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের অধ্যয়নের শেষের দিকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্স বোর্ড নামে একজন ছাত্রের সাথে পরিচিত হন কাফকা— যার সাথে তার আজীবন বন্ধুত্ব ছিল। ম্যাক্স বোর্ড লক্ষ করেছিলেন যে কাফকা অত্যন্ত লাজুক প্রকৃতির ছিলেন এবং মিতভাষী হওয়া স্বত্তেও তার কথার মধ্যে নিগূঢ় উপলব্ধি থাকত। এছাড়াও কাফকা আজীবন একজন ক্ষুধিত পাঠক ছিলেন।

ফ্রান্‌ৎস কাফকা ১৯২৪ সালের ৩ জুন, মাত্র ৪০ বছর বয়সে অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরে মারা যান।
তার উপন্যাসগুলো : আমেরিকা (১৯১১), দ্য ট্রায়াল (১৯১৪), দ্য ক্যাসল (১৯২২)।

ফ্রান্‌ৎস কাফকা ১৮৮৩ সালের আজকের দিনে (৩ জুলাই) চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com