শুভ জন্মদিন তাজউদ্দিন আহমেদ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাবলু ভট্টাচার্য

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন সহকর্মী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ আদর্শবান সংগঠক এবং তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা। মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদান জাতি কখনো ভুলবে না।

তার বাবার নাম মৌলভী মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা খানম। স্কুলে সকল পরীক্ষায় তাজউদ্দীন আহমদ বরাবর প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি ঢাকা জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। প্রবেশিকা পরীক্ষাতে তিনি প্রথম বিভাগে চতুর্থ স্থান লাভ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও আইন শাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সমাজসেবার সাথে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। রাজনীতি ও শিক্ষা তার হাতে হাত ধরে চলেছে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকে ভাষার অধিকারসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়।

তাজউদ্দীন ছিলেন এর মূল উদ্যোক্তাদের অন্যতম। ১৯৫৪ সালে তাজউদ্দীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ নেন এবং কিছুকাল কারাবরণ করেন। বিখ্যাত ৬ দফার অন্যতম রূপকার ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। সাংগঠনিক দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার গুণে ইতোমধ্যে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন।

১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাজউদ্দীন আহমদ তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তান সরকার সত্তরের গণরায়কে উপেক্ষা করলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃতে দুর্বার অসহযোগ আন্দোলন গড়ে ওঠে। তাজউদ্দীন এ আন্দোলনে সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ তারিখে পাকিস্তানিরা গণহত্যা শুরু করলে তাজউদ্দীন আহমদ ঢাকা ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নয় মাস কঠিন অবস্থা মোকাবিলা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন। তিনি মুক্তি বাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ, তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের ক্ষেত্রেও তিনি অসামান্য অবদান রাখেন।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসার পর নতুন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। তাজউদ্দীন আহমদ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর সকালেই তাজউদ্দীনকে গৃহবন্দী করা হয় এবং পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ভোর বেলা অন্য তিন জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানের সঙ্গে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কান্ডারী।

তাজউদ্দীন আহমেদ ১৯২৫ সালের আজকের দিনে (২৩ জুলাই) গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ছবি:গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com