শুভ জন্মদিন আবুল হাসান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংক্ষিপ্ত জীবন ছিলো তাঁর। স্বপ্ন, মৃত্যু আর ভালোবাসার গভীর এক ছায়ার মাঝে এক ফুৎকারে জীবনের মোমবাতি নিভিয়ে দিয়ে বাংলা কবিতার উর্বর ভূমি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন অভিভূত কৃষক এই কবি আবুল হাসান।

আবুল হাসানের জন্ম ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট। আর ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ২৮ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী থেকে চলে যান মহাপৃথিবীর নিঃসঙ্গ যাত্রায়। আজ কবি আবুল হাসানের ৭০তম জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে কবির স্মৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা জানাই।

গোপালগঞ্জ জেলায় তাঁর জন্ম হলেও পৈত্রিক নিবাস পিরোজপুরের ঝনঝনিয়া গ্রামে। তাঁর প্রকৃত নাম ছিলো আবুল হোসেন মিয়া। পিতা আলতাফ হোসেন মিয়া ছিলেন একজন পুলিশ অফিসার।আবুল হাসান ১৯৬৩ সালে ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি স্কুল থেকে মেট্রিকুলেশন এবং বরিশালের বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন কিন্তু পড়াশুনা শেষ করেননি। আবুল হাসান ১৯৬৯ সালে ইত্তেফাকে সাংবাদিক হিসেবে যোগদেন পরে তিনি ১৯৭২-১৯৭৩ সালে সহকারি সম্পাদক হিসেবে গণবাংলা এবং ১৯৭৩-১৯৭৪ পর্যন্ত দৈনিক জনপদে কাজ করেন।

তিনি ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮২ সালে একুশে পদক লাভ করেন(মরনোত্তর)। আবুল হাসান ১৯৭০ সালে এশিয়ার কবিতা উৎসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে সম্মানজনক অবস্থানে ভুষিত হন। শুধুমাত্র কবিতায় নিমগ্ন এক মানুষ ছিলেন আবুল হাসান। আবুল হাসান অল্প বয়সেই কবি হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। মাত্র এক দশকের কাব্য রচনায় আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছেন তিনি। আত্মত্যাগ, দুঃখবোধ, মৃত্যুচেতনা, বিচ্ছিন্নতাবোধ, নিঃসঙ্গচেতনা, স্মৃতিমুগ্ধতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর কবিতায় সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কবি, সমালোচক ও অধ্যাপক প্রয়াত আবু হেনা মোস্তফা কামাল আবুল হাসান সম্পর্কে বলেছিলেন, বলেছেন “চূড়ান্ত ব্যবচ্ছেদ করলে তাঁর ভেতরে মায়া ও মমতা, মানুষের জন্য দুঃখবোধ ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাবে না।”

আবুল হাসানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাজা যায় রাজা আসে’ প্রথম প্রকাশ ১৯৭২ সালের ডিসম্বর মাসে, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘যে তুমি হরণ করো’ প্রথম প্রকাশ ১৯৭৪ সালে এবং তৃতীয় কাব্য গ্রন্থ ‘পৃথক পালঙ্ক’ প্রথম প্রকাশ অক্টোবর ১৯৭৫ সালে। ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে তাঁর অগ্রন্থিত কবিতাগুলো প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি একটি কাব্যনাট্য ‘ওরা কয়েকজন’ লেখেন (বোশেখ ১৩৯৫)। আবুল হাসান কবিতার পাশাপাশি কিছু ছোটগল্প রচনা করেছেন, যা পরে তারিক সুজাত-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

কবি আবুল হাসান তাঁর এক কবিতায় বলেছেন, “শিল্প তো নিরাশ্রয় করে না। কাউকে দুঃখ দেয় না।” কবি আবুল হাসানের কবিতার শিল্পমূল্য কাউকে দুঃখ দেয়নি। বাংলা কবিতার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে। কালের যাত্রায় আবুল হাসানের কবিতা তরুণ কবিদের বড় একটি অংশের কাছে নিবিষ্ট পাঠের বিষয় হয়ে উঠেছে।

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com