শিশুর রিকেটস হলে কি করবেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

শিশুর একটি মারাত্মক রোগ রিকেটস। ভিটামিন ডি-এর অভাবে এটি হয়। শিশুর জন্মের পর এবং গর্ভাবস্থায় তার হাড়ের গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের প্রয়োজন হয়। ভিটামিন ডি-এর কাজ হলো দেহের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসকে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে সাহায্য করা।
কিন্তু কোনো কারণে ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের গঠনে ঠিকমতো অংশ নিতে পারে না। ফলে হাড় বাঁকা হয়ে যায়। চিকিৎসা পরিভাষায় একে রিকেটস বলে। সাধারণত এক বছর বয়সে রিকেটস দেখা যায়। বড়দের ক্ষেত্রে এ রোগকে বলে অস্টিওম্যালাসিয়া।
কেন হয় ভিটামিন ডি-এর অভাব?
ভিটামিন ডি ত্বকের নিচে সুপ্ত অবস্থায় অবস্থান করে। ত্বকে সূর্যের আলো পড়লে তার অতি বেগুনি রশ্মির সাহায্যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভিটামিন ডি সক্রিয় রূপ লাভ করে। শিশু ছয় মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ থেকে ক্যালসিয়াম পেয়ে থাকে এবং গর্ভে থাকা অবস্থায় শিশুর দেহে যে পরিমাণ ক্যালসিয়াম জমা হয় তা শিশুকে এক বছর পর্যন্ত এ রোগ থেকে দূরে রাখে। কিন্তু এক বছর পর শিশু যদি সূর্যের আলো থেকে বঞ্চিত হয় অর্থাৎ তার ত্বকে যদি সূর্যের আলো না লাগে তাহলে কার্যকর ভিটামিন ডি তৈরি হতে পারে না। ফলে অভাব ঘটে ভিটামিন ডি-এর।
এ ছাড়া যেসব শিশু দুধ ও পুষ্টিকর খাবার খায় না তাদের শরীরেও দেখা দেয় ভিটামিন ডি-এর অভাব।
কিছু কিছু অসুখ যেমন, দীর্ঘস্থায়ী কিডনির অসুখ, দীর্ঘস্থায়ী লিভারের অসুখ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী অন্ত্রের অসুখে ভিটামিন ডি শরীরে কম শোষণ হয়। ফলে দেখা দেয় ভিটামিন ডি-এর অভাব এবং পরিণতিতে হয় রিকেটস।
দীর্ঘ দিন ধরে খিঁচুনির ওষুধ যেমন- ফেনোবারবিটাল ও ফেনিটন প্রয়োগ করলে রিকেটস হতে পারে।
উপসর্গ
* শিশু অস্থির, খিটখিটে ও ফ্যাকাশে হয়
* মাংসপেশি থলথলে হয়
* শিশুর মাথা ঘামতে থাকে
* পেট ফুলে যায়
* শিশুর প্রায়ই শ্বাসতন্ত্র ও পরিপাকতন্ত্রের সংক্রমণ ঘটে
* শিশুর বৃদ্ধি দেরিতে হয়
* দেরিতে দাঁত ওঠে
* শিশু তার স্বাভাবিক বয়সে বসতে, দাঁড়াতে, হামাগুড়ি দিতে ও হাঁটতে পারে না।
* শিশুর মাথার তালুর নরম জায়গা স্বাভাবিকের চেয়ে বড় থাকে এবং শক্ত হয়ে উঠতে দেরি হয়
* বুকের পাঁজরের সামনে হাড় ও তরুণাস্থির সংযোগস্থল ফুলে যায়।
* হাতের হাড় রেডিয়াসের নিম্নপ্রান্ত মোটা হয়ে যায়
* শিশুর পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায়
* শরীরের অন্যান্য হাড়েরও বিকৃতি ঘটে।
চিকিৎসা
রিকেটসের চিকিৎসা প্রধানত তিন ধরনের-
এক. প্রতিরোধ ব্যবস্থা
রিকেটস যাতে না হয় তার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন-
* শিশুকে সূর্যালোকে রাখতে হবে
* মুখে ভিটামিন ডি খাওয়াতে হবে
* শিশু অপরিণত হলে তার জন্ম নেয়ার দুই সপ্তাহ পর থেকে তাকে ভিটামিন ডি দিতে হবে
* গর্ভবতী মহিলা ও স্তন্যদানরত মাকে ভিটামিন ডি দিতে হবে
* শিশুর প্রথম বছরেই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ দুধ খাওয়াতে হবে।
* শিশুকে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে।
* শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ দিতে হবে।
দুই. মেডিক্যাল চিকিৎসা
– রিকেটস হলে ক্যালসিফেরল ট্যাবলেট ১৬০০-২০০০ আই.ইউ দৈনিক একবার অথবা ১-আলফা (১.২৫ ডিহাইড্রোক্সি কলিক্যালসিফেরল) ০.৫-২.০ মাইক্রোগ্রাম দৈনিক একবার খেতে দিতে হবে। দুই থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত এ রকম চলবে। এরপর ক্যালসিফেরল ৪০০ আই.ইউ দৈনিক খেতে হবে দুই মাস।
তিন. শল্য চিকিৎসা
বর্তমানে উন্নত শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁকা হাড় কেটে সোজা করা যায়।

লেখক : আবাসিক সার্জন, সার্জারি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।
চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২ ইংলিশ রোড, ঢাকা। ল্যাব সাইন্স ডায়াগনস্টিক লিঃ, ১৫৩/১ গ্রিন রোড (পান্থপথের কাছে), ঢাকা।

ছবি:গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com