শবেবরাতের হালুয়া

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

নাজিয়া ফারহানা শান্তা

আর মাত্র একাদিন বাদেই শবেবরাত।সবার ঘরে ঘরেই এখন হালুয়া-রুটির ধুম পড়ে গেছে।কে কয়পদের হালুয়া করবেন এটাও এখন প্রতিযোগীতার পর্যায়ে চলে এসেছে।রকমারী এবং নতুন রেসেপি নিয়ে ব্যাস্ত সবাই।আমাদের হেঁশেলেও এবার আপনাদের জন্য হালুয়ার রেসেপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী নাজিয়া ফারহানা শান্তা।

পেঁপের হালুয়া

পেঁপের হালুয়া

উপকরণ :

পেঁপে বাটা চার কাপ, চিনি আড়াই কাপ, গুঁড়া দুধ আধা কাপ, মাওয়া দুই টেবিল চামচ, এলাচ তিনটি, দারুচিনি তিন টুকরো, চেরি কুচি তিন/চার টেবিল চামচ, কাঠবাদাম কুচি দুই টেবিল চামচ, কিশমিশ দুই টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম ক্রাশ করা দুই টেবিল চামচ, গোলাপ অ্যাসেন্স সামান্য (ইচ্ছা)।

প্রণালী :

প্যানে ঘি দিয়ে গরম হলে এলাচ ও দারুচিনি দিন। তারপর পেঁপে বাটা দিয়ে ভুনে নিয়ে চিনি দিন। এবার গুঁড়া দুধ ও মাওয়া দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। হালুয়া ঘন হয়ে এলে পেস্তা বাদাম, কিশমিশ ও গোলাপ অ্যাসেন্স দিন। কিছুক্ষণ পর একটা পাত্রে ঢেলে নিন। তারপর ঠাণ্ডা হলে গোল গোল করে চেরি ও কাঠ বাদাম কুচি দিয়ে সাজিয়ে নিন।

ময়দার হালুয়া

ময়দার হালুয়া

উপকরণ :

ময়দা-২ কাপ • চিনি-৩ কাপ • পানি-১১/২ কাপ • এলাচ-৩ টি • দারচিনি-২ টি • গোলাপজল-২চা চামচ • ঘি-২/৪ কাপ • লবণ-সামান্য ময়দার হালুয়া তৈরির

প্রণালী:

চুলায় কড়াইয়ে ঘি দিয়ে গরম হলে এলাচ, দারচিনির ফোঁড়ন দিয়ে ময়দা দিয়ে নাড়বেন। হালকা ভাজা হলে নেড়ে নামিয়ে নিন। • সস প্যানে চিনি ও পানি মিলিয়ে জ্বাল দিবেন। সিরায় চটচটে ভাব হলে অর্থাৎ মাঝারি মানের সিরা তৈরি করুন। গোলাপজল মিশিয়ে নিন। • ময়দায় ধীরে ধীরে সিরা দিবেন ও কাঠের চামচ দিয়ে ফেটতে থাকুন। • মসৃন হলে হালুয়া প্লেটে ঢেলে সমান করুন। গরম থাকতে ছুরি দিয়ে বরফির মত ছোট ছোট পিস করুন। • ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।

গাজরের হালুয়া

গাজরের হালুয়া

উপকরণ :

গাজর দুই কাপ (গ্রেট করা), ছানা এক কাপ, ঘন দুধ এক কাপ, ডিম দুইটি (ফেটানো), চিনি দেড়কাপ, ঘি আধা কাপ, পেস্তা বাদাম কুচি দুই টেবিল চামচ, কাঠবাদাম কুচি দুই টেবিল চামচ, ক্রাশ করা কাজুবাদাম দুই টেবিল চামচ, কিশমিশ দুই টেবিল চামচ, মাওয়া দুই টেবিল চামচ, কেশর সিকি চা চামচ, এলাচ গুঁড়া আধা চা চামচ, গোলাপ জল তিন চা চামচ, তরল দুধ এক টেবিল চামচ।

প্রণালী : গাজর হালকা ভাপ দিয়ে নিন। এবার প্যানে ঘি দিয়ে গাজর ভুনে নিন। তারপর চিনি ও ঘন দুধ দিয়ে নাড়ুন। কিছুক্ষণ পর ফেটানো ডিম দিন এবং নাড়তে থাকুন। এরপর কিছু বাদাম রেখে সব রকম বাদাম, কিশমিশ, মাওয়া, কেশর (দুধে ভিজানো) ও গোলাপ জল দিয়ে নাড়ুন। হালুয়া প্যানের গা ছেড়ে এলে ঘি মাখানো ডিশে ঢেলে সমান করে বাদাম কুচি ছড়িয়ে দিন অথবা কিছুটা ঠাণ্ডা হলে লাড্ডুর আকারে গড়ে পেস্তা কুচি দিয়ে সাজিয়ে নিন। এভাবেই তৈরি করতে পারেন গাজরের হালুয়া।

সুজির হালুয়া

সুজির হালুয়া

উপকরণ :

সুজি এক কাপ, ঘি+তেল এক টেবিল চামচ (৩ চা চামচ=১ টেবিল চামচ), চিনি পরমানমত, পানি দুই কাপ (চিনির সিরা তৈরি করার জন্য), এলাচ ও দারুচিনি দুইটা করে, কিশমিশ ও বাদাম।

প্রণালী :

একটা পাত্রে পানি দিয়ে তাতে চিনি দিয়ে চুলায় বসাতে হবে। সঙ্গে এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে দিন। এরপর চিনি গলে গেলে চুলার আচ কমিয়ে দিন। একটা কড়াইয়ে ঘি এবং তেল একটু গরম করে নিন।কিছুক্ষণ পর তা গরম হয়ে গেলে সুজি ঢেলে দিয়ে সুজি ভাজুন। নাড়তে থাকুন। সুজির রঙ লালচে হয়ে গেলে চিনির সিরা ঢালুন এবং ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। নাড়তে নাড়তে সুজির পানি শুকিয়ে গিয়ে কড়াই এর গা ছেড়ে এলে তখন একটা প্লেইন প্লেটে রান্না করা সুজি ঢেলে দিন। যে প্লেটে সুজি ঢালবেন তাতে আগে থেকেই ঘি মাখিয়ে রাখবেন যাতে বরফি প্লেটের তলায় আটকে না যায়। এরপর ঠাণ্ডা হবার আগেই ইচ্ছেমত আকৃতি দিতে পারবেন এবং ঠাণ্ডা হবার পরেই খেতে পারবেন।

বুটের ডালের হালুয়া

বুটের ডালের হালুয়া

উপকরণ :

হাফ কেজি বুটের ডাল, এক কাপ ঘন দুধ (ভালো করে জ্বাল দিয়ে দুই কাপকে এক কাপে পরিণত করলে ভালো হয়), পরিমানমত এলাচ, পরিমানমত দারুচিনি, পাঁচটি তেজপাতা, পরিমানমত ঘি, হাফ কাপ তেল, কিছু কিসমিস, চিনি।

প্রণালী :

বুটের ডাল পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।ভালমত ভিজে গেলে একে সিদ্ধ করে নিন।সিদ্ধ বুটের ডাল বেটে বা বেইল্ড করে পেষ্ট/কাই বানিয়ে ফেলুন এবং এক কাপ গরম ঘন দুধ দিয়ে মাখিয়ে নিন। এবার হাড়িতে দুই চামচ ঘি এবং হাফ কাপ তেল গরম করে তাতে কয়েকটা এলাচ, কয়েক টুকরা দারুচিনি এবং কয়েকটা তেজপাতা দিয়ে দিন।তেল ভালো গরম হলে বুটের ডালের কাই দিয়ে দিন এবং নাড়িয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিন। এবার চিনি দিন এবং নাড়তে থাকুন। হালুয়া রান্নায় এই অংশটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিপদজনক। খেয়াল রাখতে হবে নাড়তে নাড়তে যখন ঘন হচ্ছে তখন পুড়ে না যায়! এভাবে নাড়তে নাড়তে হালুয়ায় পানি শুকিয়ে গেলেই হালুয়া তৈরি হয়ে গেল। এরপর একে আপনার সুবিধামত বরফি করে পরিবেশন করতে পারেন।

নেসেস্তের হালুয়া

নেসেস্তের হালুয়া
উপকরণ:

সুজি – ১ কাপ চিনি – পরমানমতো ফুড কালার – সামান্য এলাচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ ঘি – ১/২ কাপ গোলাপ জল – ৪ টেবিল চামচ

প্রণালী:

৪ কাপ পানি দিয়ে সুজি সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। – সকালে উপরের পানি ফেলে দিতে হবে। – আবার ৩ কাপ পানি দিয়ে ভাল করে সুজি মাখাতে হবে। – এবার পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পানি ছেঁকে নিতে হবে। – নেশেস্তার হালুয়া এই ছাঁকা পানি দিয়েই তৈরি করা হয়। – চিপে পানি নেয়ার পর আবারও ২ কাপ পানি দিয়ে বাকি সুজির মাড় ধুয়ে নিতে হবে। – সুজি রাবারের মতো হয়ে গেলে ফেলে দিতে হবে। – এবার পানির সঙ্গে চিনি, কালার, ঘি, এলাচ, গোলাপ জল দিয়ে চুলায় বসাতে হবে। – চুলায় দিয়ে নাড়তে থাকতে হবে। – আপনি ইচ্ছা করলে যেকোনো ফুড কালার ব্যাবহার করতে পারেন। – হালুয়ার উপরে যখন ঘি উঠে আসবে তখন নামিয়ে নিন। – গরম থাকতে সাভিং ডিশে ঢেলে ফেলুন। – ঠাণ্ডা হলে আপনার পছন্দ মতো শেপে কাটুন।

চকলেট হালুয়া

চকলেট হালুয়া: 

উপকরণ :

সুজি আধা কাপ, বেসন আধা কাপ, চিনি এক কাপ, ঘি আধা কাপ, কোকো পাউডার ২ টেবিল চামচ, চকলেট সিরাপ ১ টেবিল চামচ, জয়ফল, দারুচিনি গুঁড়ো সামান্য, ডিম ৩টা, পানি ২ কাপ।

প্রণালী :

ডিম, কোকো পাউডার, চকলেট সিরাপ, চিনি ও পানি এক সঙ্গে ব্লেন্ড করুন। কড়াইয়ে ঘি ঢেলে গরম করে সুজি, ঢালুন। সুজি ভাজা হয়ে গেলে বেসন দিয়ে নাড়তে থাকুন। এরপর ব্লেন্ড করা মিশ্রণ ঢেলে দিন। পানি শুকিয়ে তেল ওপরে ভেসে উঠলে জয়ফল-দারুচিনি গুড়া মিশিয়ে চুলা থেকে নামান। ঠান্ডা হলে সাজিয়ে পরিবেশন করুন

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com