লংগুদুর আগুন ও কিছুকথা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তন্দ্রা চাকমা

আমার মেয়ে আজ আমায় জিজ্ঞেস করেছে এই দেশটা কি আমার নয়? এই দেশে কি করে কিছু মানুষ হুমকি দেয় কয়েক লক্ষ আদিবাসীদের। আমরা আসছি দ্বিগুণ হয়ে তোদের মেয়েদের ধর্ষণ করতে এই ধরনের হুমকি সে দেখেছে আমার এক ফেসবুক বন্ধুর   ওয়াল এ । সে অনেক ভয় পেয়েছে। আমার মেয়ে তার মাতৃভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামের এই আগুন দেখেছে অনেক বার। মায়ের সঙ্গে মিছিল মিটিং এ গেছে অনেক বার। এই স্বাধীন দেশে জন্ম যার তাকে আমি কি বলি, এর উত্তর দেশ শাসকরা দিতে পারবেন । তার শঙ্কা আমি জানিয়ে দিলাম।

আসলে এই পার্বত্য চট্টগ্রামে কিছুদিন পর পর এই ধরনের ঘটনা ঘটে। একটা লাশ পাওয়া যায় আর আগুন জ্বলে। এই লাশের আগুনের শেষ নেই। এই কাপুরুষতা মূলক আগুন কাকে কি দেয় জানিনা।

এবার আসি ঘটনায়, আমি ফেসবুকে আজ কাল কম আসি। বৃহস্পতিবার বিকালে ফেসবুক খুলতেই আমি এক জনের ওয়ালে জানলাম দিঘিনালার রাস্তায় এক বাঙালী মোটর সাইকেলের ড্রাইভারের লাশ পাওয়া গেছে তার ছবি সে দিয়েছে। এই লাশের ছবি দিয়ে সে শঙ্কা প্রকাশ করছিলো- লাশ পাওয়া গেল, না জানি কি হয়। পরদিন শুক্রবারে তার আশঙ্কা সত্য হয়, লাশ নিয়ে প্রতিবাদ করার পর লংগুদুতে ৩০০ ঘরবাড়ি নিমেষে জ্বালান হয় । সেই আগুনে এক বৃদ্ধা পালাতে না পেরে জীবন্ত পুড়ে মারা যায়। তার স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারতো। কিন্তু যারা আগুন দিয়েছে তারা তাকে সেই সুযোগ দিল না। সকালে তার পোড়া দেহের ছবি দেখলাম ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির রাঙ্গামাটির প্রতিনিধি হিমেল চাকমার ফেসবুক পেইজে । কি ভয়াবহ সেই ছবি। একটু আগুনের আঁচ লাগলে কেমন কষ্ট আশাকরি তা আমরা সবাই জানি, কিন্তু ঘরে চারিদিকে আগুন আর দমবন্ধ হয়ে পুড়ে মরা যে জানিনা কতজন তা অনুভব করছেন?

আমি এখানে খবরটা বিস্তারিত লিখলাম না, কারন তা আপনারা ইতিমধ্যে বিস্তারিত জেনেছেন। আচ্ছা ধরুন এই লাশ ঢাকার বনানীতে পাওয়া গেছে তার বাড়ি লংগুদু তাহলে কি আপনি লংগুদুতে আগুন দিবেন ? এই ধরনের লাশ তো বাংলাদেশের অন্যকোন খানে পাওয়া যেতে পারতো। উল্লেখ্য, সেই মৃত ব্যাক্তির বাড়ি লংগুদু। তাকে পাওয়া গেছে দীঘিনালা যাওয়ার পথে। দেশে আইন আদালত এখনও আছে, প্রশাসন আছে, সেখানে না গিয়ে কোন যুক্তিতে আপনি লংগুদুর ৩০০ ঘর জ্বালিয়ে দেন? এটা কি উদ্দেশ্য প্রণোদিত নয় ? মিডিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী সে যুবলীগের নেতা। তাদের দল তো ক্ষমতাতেই আছে তাহলে বিচার আচার তো তাদের হাতেই আছে তাই না! তাহলে সেখানে না গিয়ে নিজের পায়ে কেন কুড়াল মারলেন? কেন নিজের দল, দেশের ভাবমূর্তিতে কলংক লেপন করলেন? আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যখনি যেই দল ক্ষমতায় যায় সেই দলে কিছু আগাছা ঢুকে নিজের দেশ ও দলের ভরাডুবি করে। আজকাল আর সেই পুরান ওষুধে কাজ হবে না। আপনি আগুন দিবেন কেউ দেখবে না, শুনবে না , জানবে না ও কিছু হবে না, সেই দিন শেষ । এত হতাশার মাঝেও সেই আশা আমার মাঝে আজ কাজ করছে।

এতকিছুর পরও কিছু ভাল উদাহরণ হোল এক নিখোঁজ বৃদ্ধাকে কিছু বাঙালী যাদের মানবতা এখনও মরেনি তারা বাঁচিয়েছেন এবং আমার ফেসবুকের কিছু বাঙালী বিবেকবান বন্ধু প্রতিবাদ করেছেন। ধিক্কার জানিয়েছেন। এই ধরনের বিবেকবান দেশে যত বাড়বে  আমরা ততো গণতন্ত্রের স্বাদ গ্রহন করতে পারবো । সেই সব বিবেকবানদের আমি স্যালুট জানাচ্ছি ।

বিশেষ নোট আমার মেয়ের লেখা ইংরেজিতেঃ I seriously don’t want to live in a country where people think it’s justified to rape/kill indigenous people simply because to them, we aren’t humans. Because according to these racist people, it’s justified to kill us because we are animals.

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com