রেণুকা জী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

দীপারুণ ভট্টাচার্য্য

২০১৩ সালের মে মাস। প্রথমে সোময়েত্রীর হলো পরপরই হলো আমার। রোগটির একটি মিষ্টি নাম আছে, বসন্ত। অফিসে যাওয়ার প্রশ্ন নেই তাই Work from home. তৃতীয় সপ্তাহে হাঁপিয়ে উঠলাম। রোগটা তখন চলে গেছে। আরও কয়েকদিন কাটলে সম্পূর্ণ চিন্তা মুক্ত হবো। বাড়ী থেকেও বেরোতে পারছিনা। এক দম বন্ধ করা অবস্থা। হঠাৎ মনে হলো পালাই। কিন্তু মে মাসের ভরা গরমে কোথায় যাবো! মামা বলল, রেণুকাজী’র নাম। সে তো পাহাড়, আমি কি পারবো। মামা বলল, পেরে যাবি।

সেই আমার প্রথম পাহাড়ে গাড়ি চালানোর শুরু। না জায়গাটা তেমন উঁচু নয়। কালআব থেকে মাত্র ৬৫কিমি হালকা খাড়াই পেরিয়ে, নাহান হয়ে রেণুকাজী। দিল্লি থেকে ৩৬০ কিমি দূরে হিমাচল প্রদেশের এই ছোট্টো ও সুন্দর জায়গাতে গাড়ি চালিয়ে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল প্রায় সাত ঘন্টা। রেণুকাজী লেকের ধারে পর্যটন বিভাগের হোটেল। লেকের পাড়ের এক সাধারণ ঘর নিলাম। No AC, দরকার ও হলোনা। চারিদিকে পাহাড় ঘেরা অঞ্চলের মাঝে সুবিশাল (হিমাচল প্রদেশের সব চেয়ে বড়) এক পবিত্র সরোবর, রেণুকাজী।

ভগবান পরশুরামের মায়ের নাম ছিলো রেণুকা। পিতার আজ্ঞায় তিনি মাতাকে হত্যা করেছিলেন, এইখানে। কেন করেছিলেন? সে অন্য দিন বলবো। রেণুকা দেবীর নাম অনুসারে এই লেকের নাম রেণুকাজী। লেকের পাশে আছে এক পাহাড়ি পার্ক। কথিত আছে ঐ পার্কের এক ঝর্ণা থেকেই এই লেকের সৃষ্টি। গিয়ে দেখলাম মে মাসের ভরা গরমেও সেই ঝর্ণাতে জল অনেক।

লেকের পাড়ে রেণুকাজী’র সুন্দর মন্দির। বছরে একবার বসে রেণুকা মেলা। লেকে বোটিং করার ব্যবস্থাও আছে। লেকের এক পাশে আছে একটা মিনি চিড়িয়াখানা। রাতে হোটেলের বাগানে বসে আমি সিংহের গর্জনও শুনেছি। আশেপাশে কয়েকটি মন্দির আছে কিন্তু সেবার দেখা হয়নি সবকিছু। হোটেলের ম্যানেজার বলেছিল, ‘পাওটা সাহেব’ ঘুরে আসুন। পাওটা সাহেব গুরুদ্বারা, হ্যাঁ নাম শুনেছি অনেক। বেরিয়ে ছিলাম কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পর আর যেতে পারলাম না। আটকে গেলাম গিরি নদীর সৌন্দর্যে। ‘গিরি’ একটা ছোট্ট নিশ্চুপ নদী। নীচে এসে যমুনাতে মিশেছে। গিরি নদীর উপর একটা ব্যারাজ আছে সেখানে। দুদিকে উঁচু কালো পাথরের খাদে সবুজ জল। মন ভোলানো সৌন্দর্য অনুভবের জন্য বানানো হয়েছে একটা আড়ম্বর হীন পার্ক। সেখানে ঢুকে দেখি রয়েছি শুধু আমরাই। হে ঈশ্বর এই অপার সৌন্দর্য কি তবে শুধু আমাদের জন্যই। হতবাক হওয়া ছাড়া গতি ছিলো না।

ধীর পায়ে নেমে গেলাম নদীর কাছে। চোখে মুখে জল ছিটিয়ে স্নিগ্ধ হলাম। পাশেই ছিলো এক আম বাগান কি জানি কে মালিক। কে যেন বলেছিলেন, ‘সবকা মালিক এক’।
দ্বিধা হয় ভাবে পেড়ে নিলাম একটা কাঁচা আম। পাথরে ভেঙে সেই আমের স্বাদ পাচ্ছিলাম।

আহা, কি সময় কাটিয়েছি দু-তিনটে দিন। তাই আবারও যাচ্ছি। এবারের দোলে চলেছি রেণুকাজী। সঙ্গে থাকবে এক বন্ধু ও তার পরিবার।

দ্বিতীয় বার কেমন লাগলো রেণুকাজী, ফিরে এসে জানাবো।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com