রাণীর রান্নাঘরে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তাঁর রাজ্যপাটের ৬৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এই কৃতিত্ব ইংল্যান্ডের রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের একার। ৯১ বছর বয়সে রানী এলিজাবেথ এখনো সুস্থ্য শরীরে দেখাশোনা করছেন তাঁর রাজ্যপাট। তাঁর কাজের সূচীর খাতাও থাকে বেশ ব্যস্ত। কখনো বিদেশী অতিথির সম্মানে থাকে রাজকীয় ডিনার, কখনো আবার তাঁর প্রাসাদে বিদেশী রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সরকারী কর্মকর্তাদের আনাগোনা। দেখা করতে আসেন ঈংল্যান্ডের মন্ত্রী, আর্চবিশপ অথবা অন্য কোন অতিথি। এখনও স্মিত হেসে সবাইকেই সময় দেন রাণী।

কিন্তু এই বয়সে ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শরীর ঠিক রাখেন কীভাবে তিনি? সম্প্রতি সিএনএন অনলাইন নিউজ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আবিষ্কার করেছেন রাণী এলিজাবেথের সুস্থতার মূল চাবি পরিমিত আহার। সিএওনএন‘র সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে একদা রাণীর একান্ত রসুঁইখানার প্রধান ড্যারেন ম্যাকগ্রাডি জানিয়েছেন, খাবারের ব্যাপারে রাণী মাতার কখনোই খুব একটা মাথা ব্যাথা নেই। তিনি বেশী চিন্তিত থাকেন তার ঘোড়া আর কুকুরদের নিয়ে।

ড্যারেন ১৯৮২ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্য্ন্ত রাণীর রান্নাঘরের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জানান, রাজবাড়ির কোন রাজকীয় আপ্যায়নের অনুষ্ঠান না থাকলে সামান্য গ্রিল করা খাবার আর সেদ্ধ মাছই রাণীর বেশী পছন্দের। সঙ্গে থাকে সামান্য সবজি অথবা স্যালাড। তবে সেখানে আলু বা স্টার্চ জাতীয় খাবারের চিহ্ন থাকে না। ড্যারেনের মতে, খাবারের ব্যাপারে কঠিন নিয়ম মেনে চলেন রাণী। এই নিয়মের এদিক-ওদিক হওয়ার কোন অবকাশ নেই। আর এই নিয়মই তাঁকে এই বয়সেও মুক্ত রেখেছে অসুস্থতার আগ্রাসন থেকে।
ড্যারেনের কাছ থেকে রাজবাড়ির খাবারের প্লেট-বাটি নিয়েও মজার তথ্য জানা গেছে।রোণীকে পরিবেশন করার জন্য এখনো সেখানে যে প্লেট ও অন্যান্য পাত্র ব্যবহার করা হয় তার সবই ১৮০০ শতাব্দীর। সব থালা অথবা বাটি রাণী ভিক্টোরিয়ার নামাঙ্কিত। ড্যারেন পরিবারের অনেককেই নতুন কিছু খাবারের পাত্র কেনার কথা বললে তারা রাজি হননি। সবারই এক কথা, আমাদের টাকা লাগবে নতুন ঘোড়া কিনতে।
রাণী সাধারণত বাকিংহাম প্রাসাদে উৎপন্ন খাবার দিয়েই খেতে ভালোবাসেন। বলা যায় ব্যাপারটা অনেকটা নিজের ক্ষেতের চাল, পুকুরের মাছ আর মাচার সবজি দিয়ে অন্ন গ্রহণ করা। তবে খাবার না-পছন্দ রাণী এলিজাবেথের চকলেট ভীষণ প্রিয়। বিশেষ করে ডার্ক চকলেট খেতে এখনো তিনি ভালোবাসেন। মিল্ক চকলেটের ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ খুবই কম।
রাণী এলিজাবেথ সারাদিনে চার গ্লাস ওয়াইন পান করে থাকেন বলে শোনা যায়। কিন্তু ড্যারেন এই তথ্য অস্বীকার করে বলেন, তিনি সবদিন ওয়াইন পান করেন এমন নয়। তবে সকালের দিকে তাঁর বেশী পছন্দ ‘জিন অ্যান্ড ডুবন’ নামে জিন দিয়ে তৈরী বিশেষ ধরণের ড্রিংক।তাঁর রাতের পানীয় হিসেবে তোলা থাকে জার্মান সুইট ওয়াইন।
রাণী এলিজাবেথ এখনো স্বাস্থ্য সচেতন একজন নারী। সকালবেলা এই ৯১ বছর বয়সেও তিনি ঘোড়ায় চড়েন। পোষা কুকুর নিয়ে এ ঘন্টা হাঁটেন রাজপ্রাসাদের বাগানের রাস্তা ধরে।


ড্যারেন ম্যাগ্রাডি শুধু রাণী নয় সড়ক দূর্ঘটনায় তাঁর পুত্র বধূর রান্নাঘরের দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন।ডায়নার রাজকীয় বিবাহ বিচ্ছেদের পরেও ড্যারেন তাঁর রান্নাঘরেই কাজ করতেন। তিনি সিএনএনকে জানান, রাজকুমারী ডায়নাও খাবারের ব্যাপারে ছিলেন ভীষণ সচেতন।তাঁর খাদ্য তালিকায় সবজি ছিলো প্রধান আইটেম। রেড মিট একেবারেই স্পর্শ করতেন না রাজকুমারী।
রাজপরিবারের রান্নাঘরের সেইসব খাবারের রেসিপি নিয়ে ‘দ্য রয়াল শেফ অ্যাট হোম’ নামে বই প্রকাশ করছেন ড্যারেন।

শায়লা নাসের
তথ্যসূত্রঃ সিএনএন অনলাইন
ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com