রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তিয়াষ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

থ্রিলার…।
বরাবরই পড়তে খুব ভালবাসি…। কিন্তু ঘাড় গুঁজে পাতার পর পাতা ইংরেজি পড়াটা বড় বেদনাদায়ক বলে, ভাল থ্রিলার খুব কমই পড়া হয়…। তা-ও কিছু পড়েছি বাংলায়, তবে সেগুলোর বেশির ভাগেরই থ্রিল-ঘুড়ির সুতো গুটিয়েছে কল্পবিজ্ঞান…। যেগুলো তা নয়, সব কিছুর পরেও মনে হয়েছে, ঠিক যেন জমলো না…।

তার পর ইদানীং তো বই পড়াই কমেছে কত…।

এমন সময় হাতে পেলাম, মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনের লেখা, রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি…। হ্যাঁ, এটাই বইটার নাম…।
“রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি”।

টানটান ঘটনার ততোধিক টানটান বর্ণনা, সেই সঙ্গে হাড়-হিম করা সত্যের মুখোমুখি হওয়া…। পড়তে পড়তে চোখ টনটন করলেও যে বইগুলো আর নামিয়ে রাখা যায় না, এ বই সেই গোত্রে পড়ে…।

গল্পের শুরু হয়, বাংলাদেশের সুন্দরপুর নামের কোনও এক শহরতলির একটি রেস্তোরাঁর কথা দিয়ে…। সেই রেস্তোরাঁর নামেই বইটির নাম…। হ্যাঁ, রেস্তোরাঁটির নাম “রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি”। তবে এই নামের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের তেমন কোনওই সম্পর্ক নেই…। যেটুকু রহস্য নামের পিছনে আছে, সেটুকু বাকি গল্পের কাছে নস্যি…।

মোট কথা, এই রেস্তোরাঁ, রেস্তোরাঁর অতুলনীয় স্বাদের খাবার এবং সে সব খাবারের রেসিপি আবিষ্কর্তা রেস্তোরাঁর মালকিন— এই নিয়ে স্তরে স্তরে জট পাকে সাসপেন্স…। ঘন সাসপেন্স…। এক সাংবাদিকের হাত ধরে সুতো খুলতে খুলতে এগোন লেখক…। পাঠকও পাশাপাশি এগোয় মন্ত্রমুগ্ধের মতো…। সাংবাদিক ছাড়াও আতর আর ফালুর মতো কিছু চরিত্র বুনে থাকে লেখক-পাঠকের এই যাত্রাপথে… সাজানো থাকে কবর, কুমির, আগুন…। সে যাত্রার শেষে মরীচিকার মতো থাকেন রেস্তোরাঁ মালকিন, মুশকান…।

তার পর শেষে গিয়ে দেখা যায়…. ধুর মশাই, আমায় কি Rajaদা পেয়েছেন নাকি, যে সব বলে দেব…?? বইটা আমি তাঁর কাছ থেকেই নিয়ে পড়েছি…। কিন্তু বই দেওয়ার আগে তিনি আমায় দু’টো লাইনে গল্পটা বলে দিয়েছেন…। যদিও ওটুকু শুনে ফেলেছি বলেই আমি সে দিন আর এক মুহূর্ত দেরি না-করে রাত্রিবেলা গিয়ে রাজাদার বাড়ি থেকে বইটা হাইজ্যাক করে নিয়ে এসেছিলাম, তবু রাজাদাকে ক্ষমা করিনি এমন অসাধারণ একটি সাসপেন্স থ্রিলারের কী-লাইনটা আগেই বলে দেওয়ার জন্য…!
ভাল সাংবাদিকের এই এক দোষ, খুব অল্প কথায় সবটা বলে দিতে পারা…! সুতরাং এ বই কেউ পড়তে চাইলে রাজাদার থেকে সাবধানে থাকবেন…।

তবে এটুকু বলি, এই থ্রিলার এই জন্যই এত ভাল লেগেছে, এতে এতটুকু গাঁজাখুরি গল্প নেই…। উপরন্তু, উপন্যাসটি একটি সত্যি ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে…। মানে গোটা উপন্যাসটাই যে সত্যি তা বলতে পারি না, তবে বাস্তবের সংবাদমাধ্যমে আলোড়ন ফেলা একটি ঘটনার পরিপ্রেক্রিতে এ উপন্যাসের সূচনা…। চরিত্রগুলিও জ্যান্ত…। গল্প হয়তো, তাদের একসঙ্গে পথ হাঁটানোটুকুই…।
সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি হল…… নাহ্, বলব না…। গল্পের শেষে গিয়ে রোম খাড়া করে জেনে নিতে হবে…। আর সাসপেন্সের দরজাগুলো খোলার ধাক্কায় সামলে রাখতে হবে নিজেকে…।

Mohammad Nazim Uddin দাদাকে অসংখ্য, অসংখ্য কুর্নিশ…বাংলা ভাষায় এমন উচ্চমানের একটি থ্রিলার পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য…। কোনও রকম পাশ্চাত্যের ছায়া ছাড়াই বাংলাদেশের মাটিতে যে এমন থ্রিলার বোনা যায়, তা কখনও জানতে পারতাম না…!

শ’তিনেক পাতার বই, ২৭০ টাকা দাম। বাংলাদেশের বাতিঘর প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে বছর দুয়েক আগে…।

কলকাতায় কী ভাবে পাওয়া যাবে জানি না, তবে Rimpa কে বললে ও চেষ্টা করতে পারে ‘পাঠক সমাবেশ’-এর মাধ্যমে এনে দেওয়ার…।

আর এই রইল পিডিএফ লিঙ্ক… দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চাইলে পড়া যেতে পারে…।

https://drive.google.com/…/0B7okWPjwp5KDM2FWR3FBd0l4UGs/view

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com