রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হে নূতন,
দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ
তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদ্ঘাটন
সূর্যের মতন
রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন
উদয়দিগন্তে ওই শুভ্র শঙ্খ বাজে
মোর চিত্তমাঝে
চির-নূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ’ (পঁচিশে বৈশাখ; পূরবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

তিনি শুধু নিজেকেই নয় বাঙালির আত্মউন্মোচন করেছিলেন নিজেরে গান-কবিতা আর গদ্যের মধ্য দিয়ে। মানবজীবনের অনুভূতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি। বাঙালির চেতনায়, মেধা ও মননে রবীন্দ্রনাথ সর্বব্যাপী। তিনি একজন কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, গীতিকার ও নাট্যকার। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমাদের রবীন্দ্রনাথ।

আজ বিশ্বসাহিত্যের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রতিভাদের একজন কবিগুরু ররীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মদিন। এই দিনে কবির স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলী।

১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৬ মে (বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনে এখন বাংলাদেশে ৮ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী।
কবি হিসেবে বিশ্বব্যাপী খ্যাত হলেও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন একাধারে একজন সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। পৃথিবীর সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিবর্তনকে তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। তিনি তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন ৫৬টি কাব্যগ্রন্থ, ১১৯টি ছোটগল্প, ১২টি উপন্যাস, ২৯টি নাটক, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, ২২৩২টি গান ও দেশ-বিদেশে দেয়া নানা বক্তৃতার মাধ্যমে।
রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা, গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা, অধ্যাত্মচেতনা, ঐতিহ্যপ্রীতি, প্রকৃতিপ্রেম, মানবপ্রেম, স্বদেশপ্রেম, বিশ্বপ্রেম, রোমান্টিক সৌন্দর্যচেতনা, ভাব, ভাষা, ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য, বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা। রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষা বাংলায় আধুনিক গদ্যরীতির পথপ্রদর্শক। ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তার রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল। কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন। সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন। এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ, অস্পৃশ্যতা, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন। সঙ্গীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমস্ত জীবন ও কর্ম একটি দর্শনের কেথাই বলেছে, সেটি মানবিকতার দর্শন, মানুষকে ভালোবাসার দর্শন, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর দর্শন। আজ হতাশা আর শঙ্কায় নুয়ে পড়া আমাদের এই সময়ে রবীন্দ্রনাথের এই দর্শন জীবনজুড়ে আলো দেখাবে বলেই আশা রাখি।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com