যায় যায় দিন…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিবব্রত দেচৌধুরী

এয়ারপোর্টের প্রায় গা ঘেঁষেই আমাদের বাড়ী , 
গাড়ি দিয়ে যেতে যেতে প্রায়ই দেখি বিরাট বিরাট প্লেন যেনো মাথা ছুঁইয়ে উড়ে যাচ্ছে, অথছ আশ্চর্য্যজনক ভাবে আমাদের এলাকাটা বেশ নিরিবিলি , মাঝেসাঝে নিরবতা ভেংগে শা শা করে দু চারটে গাড়ি বাড়ীর সামনের রাস্তা দিয়ে চলে যায়, এই যা , তা ছাড়া তেমন কোনো শব্দ দুষণ নেই এখানটায়। ভাগ্যিস ঢাউস ঢাউস প্লেনের গতিপথ গুলো বাড়ীর উপর দিয়ে যায়নি , তাই রক্ষে ।
বাড়ীর সামনে বিরাট এক তুঁতফলের গাছ , সামারে প্রচুর ফল হয় গাছটাতে , যা আবার আমার জন্য এক বাড়তি ঝামেলা। প্রতি দিন গাছ থেকে ফল পড়ে আঙ্গিনা নোংরা হয়ে যায় তাই আমাকেই ঝাঁট দিয়ে তা পরিষ্কার করতে হয় । মাঝে মাঝে ভাবি গাছটা কেঁটেই ফেলব, কিন্তু তা আর হয়না কখনো , নিজের কাছেই নিজে হেরে যাই ।আমার ভেতরের অন্য আমি তখন আমাকে বলে , এই গাছটা আছে বলেই সকাল সন্ধ্যে – চড়ুই , রবিন সহ আরো কতো নাম না জানা পাখীরা আসে এখানে । গান গায়, শীষ দিয়ে যায়।
কত শত শ্রান্ত দুপুরে গাছের ছায়ায় বসে ঝিরিঝিরি বাতাসে দোল খাওয়া। গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে আকাশের ময়ূরকন্ঠী নীল দেখে আমি পুলোকিত হই। তাই গাছ টা থেকেই যায় , এক অজানা ভালো লাগায়!
তুঁতফলের এই গাছটা হয়তো এমনি করেই থেকে যাবে আরো বহুদিন, কখনো অবহেলায় আবার কখনো ভালোলাগায় ।শুধু থাকবেনা আমাদের পেরিয়ে যাওয়া এই মূহুর্ত গুলো।
বাড়ীর সামনের এক চিলতে ফুলবাগানের পাশে রাখা হেলান চেয়ারটায় বসে আমি যখন লিখছি ,তখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে ছুঁই ছুঁই , আকাশের মেঘের আবির ছড়িয়ে সূর্য চলেছে অস্তাচলে। হিমেল বাতাসে শীতের পদধ্বনি , চৌরাস্তার মোড়ের বেকারীটার কাছে ফুটপাতের উপর তখনো মাঝ বয়েসি কিছু লোক ক্যারাম খেলায় মত্ত, হিমেল হাওয়ার প্রতি যেনো ওরা একেবারেই উদাসীন, তবু চুপি চুপি পায়ে সময় পেরিয়ে যায় , সময় ফুরিয়ে যায়!

ছবি:লেখক

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com