যাবো এবার নেপালের নাগরকোট

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাড়ির পাশেই পড়শী নেপাল। ঘুরতে চাইলে বছরের যে কোন সময়ই অাপনি নেপাল যেতে পারেন। নেপাল মানেই তো পাহাড়, কুয়াশা, প্রকৃতির এক অসম্ভব সুন্দরের আয়োজন।  প্রাণের বাংলায়  নেপালের সেইসব  সুন্দর জায়গা নিয়ে থাকবে নিয়মিত প্রতিবেদন।

  সময় কাঠমুন্ডু থেকে ৩২ কি.মি. পূর্বে নাগরকোটের অবস্থান।যেখান থেকে হিমালয়ের জমকালো সূর্যোদয় দেখা যায়।পর্যটকরা কাঠমুন্ডু থেকে গিয়ে নাগরকোটে রাত্রি যাপন করে সূর্যোদয় দেখার জন্য।নাগরকোটের  বৈশিষ্ট্য হলো পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু স্থানে এটি অবস্থিত।হিমালয়ের সর্বোচ্চ শিখরের নাম প্যানরোমা। হিমালয়ের আরো কিছু চূড়া যেমন- মানাস্লু, গণেশ হিমেল, লেঙ্গান, চোবা ভাম্রি গৌরীশঙ্কর নাগরকোট থেকে স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়। বিশেষত বসন্তকালে দর্শনার্থীরা নাগরকোট ভ্রমণে যায়। এ সময় বিভিন্ন রকমের ফুল ফোটে এখানে।  পৃথিবীর মানুষজন যেখানে মাঠ থেকে উপরের দিকে তাকিয়ে আকাশকে দেখে। সেখানে নাগরকোটের বাসিন্দারা নিচের দিকে তাকিয়ে আকাশ দেখে।  এভারেস্ট ছাড়াও বেশ কয়েকটি চূড়া এখান থেকে দেখা যায়। এর মধ্যে লাংটাং, মানাসলু, গৌরীশংকর অন্যতম।

পথের দু’পাশে পাহাড় থেকে খুব সরু ঝিরঝিরে ঝর্ণা নেমে এসেছে বিভিন্ন জায়গায়। ঘরের উঠোনে মুরগি আর শূকরছানার ঘোরাঘুরি। শুকোতে দেওয়া ভুট্টা আর আলু বোখারা (পিচ)। লাল আপেলের মতোন গাল আর সরু চেরা চোখের শিশুরা। ঘরের দ্বারে জপ মালা হাতে মন্ত্র পাঠরত ঐতিহ্যবাহী তিব্বতি পোশাকের বৃদ্ধা।

যাবার সময়…

নাগরকোট ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে ভালো সময় এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টা । এ সময়ের তাপমাত্রা ১০-১৫ ডিগ্রির নিচে কখনও নামে না। আবার ২৩ ডিগ্রির বেশি ওঠে না। তবে ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি সময়টা খুব খারাপ। ৩ ডিগ্রি পর্যন্ত নেমে যায় তাপমাত্রা। ১৪ ডিগ্রির উপরে কখনও তাপ ওঠে না। কুয়াশার চাদর মেখে হিমালয় কন্যা তখন দীর্ঘ শীতনিদ্রায় কাতর থাকেন।

যাত্রাপথে…

কাঠমুন্ডু থেকে রওনা দিয়ে রিং রোড ছাড়িয়ে তালকোট পার হয়ে শুরু হয় পাহাড়ের গা ঘেঁষে সরু পেঁচানো রাস্তা।এই রাস্তা আকাশের দিকে মুখ করে ২০০০ মিটার ওপরে উঠে গেছে। কাঠমুন্ডু থেকে নাগরকোট গাড়িতে যেতে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। একদিকে পাহাড়, অন্যদিকে উপত্যকা।

 কিছু কিনবেন…

পশমিনা থেকে শুরু করে কানের দুল, ইয়াকের হাড়ের জিনিসপত্র,কাঠের কাজ, পাথরের চুড়ি, মালা, নেপালি কুকরী নানা সাইজের, নানা ভঙ্গিমার বরাভয় মুদ্রায় গৌতম বুদ্ধের মূর্তি সবই এখানে আছে ।

রাত্রিবাস…

 ক্লাব হিমালয়ানের কথা না বললেই নয়। ওদের প্রায় সবগুলো রুম থেকেই হিমালয় দেখা যায়। নিজস্ব অবজারভেটরিও আছে। ব্যয় একটু বেশি।তবে উন্নতমানের কিছু হোটেলও আছে। তাছাড়া মাঝারি মানের হোটেল আর ব্যক্তিগত গেস্ট হাউসও আছে এখানে। তবে পানির সমস্যা প্রকট। বড় হোটেলগুলোতে নিজস্ব পানি পরিবহন এবং উত্তোলনের ব্যবস্থা আছে।

ছবি:গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com