যখন বিব্রত..

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জসিম মল্লিক,টরন্টো থেকে

প্রতিটা মানুষকেই কখনও না কখনও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখী হতে হয়। একজীবনে মানুষ কত যে বিব্রত হয় তার কোনো লেখাযোখা নাই। সব ঘটনা মনে রাখাও সম্ভব না। অনেক ছোট খাট কারনে যেমন মানুষ বিব্রত হয় তেমনি আবার অনেক বড় কারনেও অনেকে বিব্রতবোধ করে না। বিষয়টা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর। ব্যক্তির উপর। আমার জীবনেও অনেক বিব্রতকর ঘটনা আছে। খুব তুচ্ছ তুচ্ছ ঘটনা তাও মনে থাকে। তিনটি ঘটনা শেয়ার করছি..।

ঘটনা এক.
আমার বয়স তখন ১২/১৩ হবে। তখন থেকেই আমি সিনেমার পোকা। স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখি আর মার হাতের পিটুনি খাই। সে সময় শুক্রবার মর্নিং শোতে ইংরেজী সিনেমা চলতো। বরিশাল বিউটি সিনেমায় ’হানিমুন অব দ্যা টেরর’( ছবিটা ১৯৬১ সালের) নামে একটি সিনেমা মুক্তি পেল একদিন। ইংরেজী সিনেমা সম্পর্কে তেমন কোনো ধারণা নাই। কখনো দেখিনি। শুধু বাংলা সিনেমা দেখি। রাজ্জাক কবরীর সিনেমা হলেই দেখতে ছুটে যেতাম। হানিমুন অব দ্যা টেরর ছবির পোষ্টারে লেখা ছিল ’শুধুমাত্র প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য’। আমাদের ক্লাসের নাসির ছিল একটু পাকনা তখন থেকেই। বই পড়ে পড়ে পাকা হয়েছে। বলল, ঘটনা আছে চল যাই দেখে আসি। একদিন সত্যি সত্যি গেলাম। ডিসি ক্লাসের টিকিট কেটে ঢুকতে যাচ্ছি দেখি আমার বড় ভাই। বড় ভাইকে আমরা যমের মতো ভয় পাই। তার ভয়ে রীয়ার স্টলের টিকিট কেটে ঢুকতে যাচ্ছি দেখি আমার মেঝ ভাই। সেও বড় ভাইর ভয়ে রীয়ার স্টলে এসেছে! সেদিন মেঝ ভাই আমাকে দেখে ফেলাটা ছিল ভয়ানক ব্রিবতকর!

ঘটনা দুই.
কবরী আমার প্রিয় অভিনেত্রী। স্কুলে পড়ার সময় চিত্রালী পত্রিকা থেকে কবরীর সাদা কালো ছবি কেটে বইয়ের মধ্যে লুকিয়ে রাখতাম। রাত গভীর হলে দেখতাম। কবরীর হাসি নিয়ে আমি চিত্রালী এবং পূর্বানীতে অনেকগুলো লেখা লিখেছিলাম। এমনকি আমি মনে মনে কবরীর বাগানের মালিও হতে চেয়েছি। একবার এক ঈদে রাজ্জাক কবরীর ’রংবাজ’ ছবিটা মুক্তি পেল। সেটা ১৯৭৫ সাল। ছবিটা কিভাবে দেখবো সুযোগ পাচ্ছিলাম না। তক্কে তক্কে ছিলাম। একদিন সুযোগ এসে গেলো। বড় আপা রংবাজ সিনেমাটা দেখতে যাবেন। বড় আপাকে বললাম আমিও দেখতে চাই। আপা কিছুতেই আমাকে নেবেন না। অনেক অনুনয় বিনয় করার পর রাজী হলেন। সিনেমা চলছে। গান হচ্ছে…. অই হই হই রঙ্গিলা রঙ্গিলা রে, রিম ঝিম ঝিম বরষায় মন নিলা রে, আমি যে কি করি আহারে সুন্দরী জানি না কখন সে মন নিলরে…গানের শেষে দু’জনেই ঝোপের আড়ালে চলে গেলো। কবরী তখন সিক্ত বসনা। ভয়াবহ অবস্থা! দু’জনেই শুয়ে পরেছে। রাজ্জাকের পায়ের নিচে কবরীর দুই পা ছটফট করছে। কেনো কে জানে! বড় আপা এই দৃশ্যটির সময় আমার দিকে কড়া চোখে তাকাচ্ছিল। সিনেমা থেকে বের হয়ে বলল, তোকে আর কোনোদিন সিনেমা দেখতে নিয়ে যাব না।

ঘটনা তিন.
ইতিহাস এভাবেই ফিরে আসে। একই ঘটনা ঘটল আমার ছেলে অর্কর ক্ষেত্রে। সেটা ১৯৯৭ সাল। জেমস ক্যামেরনের ’টাইটানিক’ তখন মুক্তি পেয়েছে। বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। ঢাকার মধুমিতায় বিরামহীন চলছে। আমি একদিন গেলাম দেখতে। আমার সঙ্গে আমার ছেলে অর্ক। অর্কর বয়স তখন সাত। ঠিকঠাক মতো দেখছি সিনেমা। অর্ক তখন থেকেই ভাল ইংরেজী বোঝে এবং বলতে পারে। স্কলাস্টিকার পোলাপান একটু পাকনা হয়। এক পর্যায়ে সেই আলোচিত দৃশ্য। কেট তার বস্ত্র খুলছে আর লিউনার্দো সেই অপরূপ দেহ বল্লরির স্কেচ করছে। বেশ লম্বা দৃশ্য। আমি প্রায় ঘেমে যাচ্ছিলাম। কারন আমি চাচ্ছিলাম না অর্ক এই দৃশ্যটা দেখুক। আগে জানলে কি আর নিয়ে আসতাম! মনে হচ্ছিল অর্কর চোখ চেপে রাখি। আর অর্কও অপার বিস্ময়ে সেই অচেনা দৃশ্য দেখছে! এর বহুবছর পর ২০০৩ সালে হলিউডে কেট উইন্সলেটের সঙ্গে আমার দেখা হলো। তার ’লাইফ অব ডেভিড গেল’ ছবির প্রিমিয়ারে। নিকোলাজ কেজও ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। কেট কোনো এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ওই রকম একটা দৃশ্যে অভিনয় করা আমার উচিত হয়নি..।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com