মেঘ মুলুকের সেই দেশে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিবব্রত দেচৌধুরী

( নিউইয়র্ক থেকে): ম্যাট্রিক পরীক্ষা শেষে আমার তখন অখন্ড অবসর তার উপর গ্রীষ্মের ছুটি । সুযোগ এলো শিলং এ যাবার! প্রকৃতির নিবিড় ভালোবাসায় বেড়ে উঠা আমার তরুণ মন যেনো হাতে চাঁদ পেলো! শুরু হলো অজানাকে জানার শিহরণ নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গোনা। অবশেষে নীল আকাশে সোনালী আলোর হাসি ছড়িয়ে এলো বহু প্রত্যাশার সেই দিন !


দিদি-মনিদার সঙ্গে আমি আর নূপুর। শিলচরের তারাপুর বাস টার্মিনাল থেকে যথা সময়ে আমাদের বাস ছাড়লো।… জানালার পাশের সিটটাতে বসলাম আমি, আমার পাশের সিটে নুপুর। একটু দূরের সিটে দিদি আর মনিদা । আশপাশের কোনো এক যাত্রীর চুল থেকে আসা জবাকুসুম তেলের মৌ মৌ সুবাস, লাগছিল বেশ! সময় কাটানোর জন্য সঙ্গে নিয়েছিলাম StarDust। রেখা , মিঠুন আর কুমারগৌরবদের রূপালী খবর পড়ে পড়ে চলে গেলো ঘন্টা দুই ।

এরই মাঝে অনেকটা পথ মাড়িয়ে Sonapur বাজারে আমাদের যাত্রা বিরতী। পথের ধারের লাল পাহাড়ের গা ঘেঁষে ছন বাঁশের ছিমছাম ছবির মতো সুন্দর একটা রেষ্টুরেন্ট, ওখানেই lunch সারা হলো- মিহি চালের ভাত, mutton curry আর পাহাড়ি মাছের ঝোল দিয়ে। ক্যাশ কাউন্টারে লাল নীল ডোরা কাটা মেখোলা পরা ছোট ছোট চোখের অথচ মায়াবী চেহারার এক পাহাড়ি মহিলা , ঠোঁটে তাঁর খৈ পানের গাড়ো লাল লিপস্টিক , বছর দু’একের ছোট্ট একটা শিশু সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে ওঁর বুকের মাঝে আলতো করে বাঁধা।

ওঁর কাঁছে খাওয়ার bill পরিশোধ করে আমরা আবার বাসে উঠতে যাবো, ঠিক তখনি শুরু হলো ঝিরঝিরিয়ে বৃষ্টি। এরই মাঝে বাস আবার আমাদেরে নিয়ে যাত্রা শুরু করলো আঁকা বাঁকা পাহাড়ি পথ ধরে। এখান থেকে পথটা শুধুই চড়াই, পাহাড়ের গা ঘেঁষে ঘোরে ঘোরে পথটা উপরে উঠে গেছে, পথের দু’ধারে উঁচু উঁচু পাইন আর ইউক্যালিপটাস গাছের সারি, পথের ডান দিকে কোথাও কোথাও গা ছিম ছিম করা গভীর খাঁদ। ড্রাইভার একটু অন্যমনষ্ক হলেই আর রক্ষা নেই! ধীরে ধীরে দৃশ্যপট বদলে যেতে লাগলো! বেশ ঠান্ডা অনুভব করলাম, ভাগ্যিস সঙ্গে সোয়েটার নিয়েছিলাম।

জানালায় চোখ রেখে তন্ময় হয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছি, বহু দূরে, নিচে ছবির মতো সাজানো গ্রাম, ছোট ছোট পুতুল পুতুল ঘর বাড়ী, সুপারি গাছ, আঁকা বাঁকা নদী, ওই তো আমার শহর, সিলেট! কোথাও মেঘের চাদর গায়ে জড়িয়ে নীল পাহাড়ের ঢেউ, পথের ধারে নাম না জানা রংবেরংয়ের ফুল যেনো আমাদেরে স্বাগত জানাচ্ছে! কোথাওবা নীল পাহাড়ের বুক চিরে সফেদ ঝর্না। প্রান ভরে দেখছি আমি, শুধু দেখছি! হঠাৎ নুপুর বল্লো, “এই দেখ দেখ, আমাদের বাসটা কে ছুঁয়ে মেঘ ভাসছে!” , আহা কী দারুণ, মনে হলো জানালাটা খুলে একটু ছূঁয়ে দেখি! একী, আমি স্বপ্ন দেখছি না তো! এতোদিন যাকে শুধু দুর আকাশেই দেখেছি ,অধরা ভেবেছি ,আজ সেই মেঘ আমার এতো কাছকাছি! তার শুভ্রনীল ভালোবাসার ছোঁয়া আমার হাতে, আমার গালে!

এযে স্বর্গীয় এক ভালোলাগা অনুভূতি, তা বলে বুঝানো যায়না, শুধুই অনুভব করা যায়! মনে মনে বললাম-
” দোহাই তোদের একটুকু চুপ কর,
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর! “

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com