মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভারত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীমঃ সময়টা ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ। প্রথম খেলতে নেমেই স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে হারিয়ে চমক দেখানো বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এসে একটা ম্যাচেও জয়ের দেখা পায় নি।

ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অঘটন ছিল ২০০৭ বিশ্বকাপে পোর্ট অফ স্পেনের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাঁচ উইকেটের হার। মাশরাফির আগুন ঝরা বোলিংয়ে ৪ উইকেট , আর তামিম সাকিব মুশফিকের অর্ধশত রান। বাশারের নেতৃত্বে ১৯৯ রান করা শিরোপা প্রত্যাশি ভারত প্রথম পর্বেই বিদায় নেয় । একই বছর সাউথ অফ্রিকার বিপক্ষেও জয় পায় বাশারের বাংলাদেশ ।গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাডিলেডের মাঠে ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। ২০১১ সালে ঘরের মাঠের বিশ্বকাপেও ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।

প্রেক্ষাপট এবার ভিন্ন। পরিণত টাইগার দল। সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারলে যেকোনো দলকে হারাতে সক্ষম। ২০০৭ বিশ্বকাপের দুঃস্মৃতি এখনও ভোলেননি সৌরভ । গাঙ্গুলি চিন্তিত ,ভারতীয় দলকে সর্তক করলেন । তিনি মনে করেন বাংলাদেশ ফাইনাল খেলার যোগ্যতা রাখে। ভারতের জেতার সম্ভাবনা সত্তর ভাগ বলে মনে করেন তিনি। প্রিয় ক্রিকেটারের তালিকায় মাহমুদউল্লাহকেই এগিয়ে রাখলেন সৌরভ। তবে মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং পজিশন নিয়ে বিস্মিত গাঙ্গুলি।

আগামীকাল বার্মিংহ্যামের এজবাস্টনে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল খেলতে নামবে মাশরাফি বিন মর্তুজার বাংলাদেশ দল। এদিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির হট ফেভারিট ইংলিশদের হারিয়ে ফাইনালে পৌছে গেল পাকিস্তান ।পাকিস্তানের বোলিং অক্রমন আর ব্যাটিং দৃঢ়তা দুই দলের মধ্য পরিস্কার জয় পরাজয়ের পার্থক্য । যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন অঘটন তবে মাঠের খেলায় যোগ্যতম দল হিসাবেই পাকিস্তান ফাইনালে।

পাকিস্তানের এই জয়ে কিছুটা হলেও নড়েচড়ে বসেছে ভারত-বাংলাদেশ । টাইগারদের বিশ্বাস ভারতকে হারিয়ে ২০১২ এশিয়া কাপ ফাইনালের মত এবার বাংলাদেশও চ্যাম্পিয়ন ট্রফির ফাইনালে খেলবে। আর ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহেলিরও সুরেও কিছুটা নমনীয়তা । জেতার জন্য মরিয়া দুই দলেরই পরিকল্পনার পরিবর্তন ঘটছে ঘন ঘন । তবে বাংলাদেশের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার নাম বৃষ্টি ।

বার্মিংহ্যামের এজবাস্টন ভারতের জন্য ফেবারিট ভেন্যু বলছেন ভারতীয় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। মানতে রাজী নন বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। আপাত দৃষ্টিতে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে শক্তিশালী হলেও সম্প্রতি দুর্দান্ত ফর্মে আছে টাইগাররা। একর পর এক রেকর্ড গড়ায় ক্রিকেট বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রে এখন টিম বাংলাদেশ। তামিম থেকে মোসাদ্দেক সবারই শতরান করার যোগ্যতা আছে । বোলিং বিভাগটা ভারতের  কাছাকাছি হলেও এখনও সেই প্রমান রাখতে পারেনি বাংলাদেশ । ফিল্ডিং এ ভারত এগিয়ে থাকছে টাইগারদের চেয়ে । অন্যদিকে প্রেসার ম্যাচ খেলতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ । আর আইসিসির টুর্নামেন্টে মাঠের খেলায় সবসময় ভারত বাংলাদেশ থেকে চাপে থাকে বেশি। পরাজয়ের সংখ্যাটাও ভারতের দিকে ভারী।

এই আসরের বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে থাকার কথা রয়েছে রিচার্ড ক্যাটেলবার্গ ও কুমার ধর্মসেনার। আর থার্ড আম্পায়ার হিসেবে থাকবেন নাইজেল লং। ফোর্থ আম্পায়ারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রিচার্ড ইলিংওয়ার্থকে। ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস ব্রড।

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com