মিশরে আবারও মমি রহস্য

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিশরে তুতেন খামেনের মমি নিয়ে শুরু হয়েছে মহা হাঙ্গামা। গেল বছরের নভেম্বরে মিল বিশেষজ্ঞ গবেষকদের একটি দল বিশেষ ধরণের রাডার দিয়ে তুতেনখামেনের কবর আরেক দফা পরীক্ষা করেন। আর তাতেই বের হয়ে আসে চমকপ্রদ তথ্য। গবেষকরা রাডারের তোলা ছবিতে পিরামিডের ভেতরে খামেনের কবরের উত্তর আর পশ্চিম দেয়ালের পেছনে দুটি আলাদা দরজার অস্তিত্ব আবিষ্কার করেন। ছবি বলছে এই দুই দিকের দেয়ালের পেছনে ফাঁপা জায়গার কথা জানান দিচ্ছে তাদের রাডার। গবেষকরা অনুমান করছেন, সেখানে সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রকোষ্ঠ থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের অনুমান ওই দুটি প্রকোষ্ঠের মধ্যেই থাকতে পারে রাণী নেফারতিতির সমাধি, যার খোঁজ আজও তারা পান নি। ।
মজার ব্যাপার হচ্ছে মিশরীয় গবেষকরা অজ্ঞাত কারণে এই দুটি নতুন প্রকোষ্ঠের অস্তিত্বের কথা মেনে নিতে চাচ্ছেন না। আর তাতেই শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়। বৃটেনের গবেষক নিকোলাস রিভি কিন্তু রাডারের ছবি দেখে অনুমান করছেন ওই অনাবিষ্কৃত কক্ষে থাকতে পারে তুতেনখামেনের সৎ মা রাণী নেফারতিতির সমাধি। কিন্তু মিশরের প্রত্নতত্ব বিভাগের সাবেক মন্ত্রী মনে করছেন, এসব নতুন ছবি নতুন সমাধির ব্যাপারে যথাযথ তথ্য দিতে পারছে না।
এসব বিতর্কের অবসান ঘটাতে এ বছর মিশরের রহস্যময় পিরামিডের ভেতরে আবারও খনন কাজ শুরু করার কথা ভাবছেন প্রত্নতাত্বিকরা। কিন্তু মিশরীয় কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানাচ্ছেন এখানেই। তাদের কথা হচ্ছে, তুতেনের সমাধির ভেতরে আর কোন গোপন প্রকোষ্ঠের অস্বিত্ব নেই। খামোখা খোঁড়াখুড়ি চালিয়ে পিরামিডের বারোটা বাজাচ্ছেন গবেষকরা।
তিন হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে মারা যান প্রাচীন ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ফারাও রাজা তুতেনখামেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। কয়েক শতাব্দী থেকে তুতেনখামেনকে নিয়ে চালু আছে অনেক গল্প-উপকথা। তাই ১৯২২ সালে তার সমাধি আবিষ্কারের পরপরই শুরু হয় গবেষণা, খুলতে থাকে রহস্য জট। কিন্তু এখনো সব রহস্যের সমাধান মেলেনি।

তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কারের ঘটনা ছিল গবেষণার ইতিহাসের অন্যতম এক আলোচিত ঘটনা। সেই বিখ্যাত আবিষ্কারের ৯৬তম বার্ষিকী শুরু হয়েছে। সম্প্রতি গবেষকরা প্রকাশ করেছে সেই সময়ের কিছু রঙিন ছবি।

১৯২২ সালের খননকার্য চলাকালে বিখ্যাত ব্রিটিশ ফটোগ্রাফার হ্যারি বার্টন ছবিগুলো তোলেন। নতুন করে প্রকাশিত রঙিন ছবিগুলো আসলে আগের ছবির নেগেটিভ থেকে নেওয়া। আগের ছবিগুলো ছিল শাদা-কালো। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে ছবিগুলোকে রঙিন করা হয়েছে।

১৯০৭ সালে ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষক হাওয়ার্ড কার্টার রাজার সমাধির খননকার্য শুরু করেন। কার্টার যদিও ১৮৯১ সাল থেকেই মিশরের ছিলেন এবং তখন প্রাচীন মিশরের অধিকাংশ সমাধি আবিষ্কৃত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তখনো খুব সামান্যই তথ্য ছিল রাজা তুতেনখামেন সম্পর্কে, তাই তার সমাধিটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

এর পর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে অনুসন্ধান চালায় গবেষকরা। ১৯২২ সালের ৪ নভেম্বর কার্টার ও তার দল তুতেনখামেনের সমাধি আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। মিশরের আরেক প্রাচীন শাসক ষষ্ঠ রামসেসর সমাধির ঠিক কাছেই ছিল তুতেনখামেনের সমাধি। ১৯২২ সালের ২৬ নভেম্বরে কার্টার ও তার সহকর্মী প্রত্নতত্ত্ববিদ লর্ড কার্নারন প্রায় দৈবগুনে খুঁজে পান তুতেনখামেনের সমাধি।
তুতেনখামেনের মমি, অলংকৃত শিলালিপি সম্বলিত প্রস্তর শবাধার, রাজার সোনার মুখোশসহ প্রায় পাঁচ হাজার প্রাচীন শিল্পকর্ম পাওয়া যায় সে সময়। তুতেনখামেনের সমাধিক্ষেত্রে একটি মাত্র সমাধির সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু এখন গবেষকরা যে নতুন দুটি প্রকোষ্ঠের উপস্থিতির কথা অনুমান করছেন তাদের ধারণা সেখানেই রয়েছে দ্বিতীয় সমাধিটি। আর সেই সমাধিই সম্ভবত রানী নেফারতিতির। কারণ এখন পর্জন্ত নেফারতিতির সমাধির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সম্ভবত ১৩৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তার আকস্মিক মৃত্যু হয়। সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত ছিলেন তিনি।

এর আগে আরেক নারীর মমি পাওয়া গিয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে এসেছিলেন যে, সেটি রানী নেফারতিতির মমি এবং তিনিই সম্ভবত তুতেনখামেনের মা। যিনি ছিলেন প্রধান ফেরাউন আখেনাতেনের স্ত্রী। কিন্তু অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজ প্রত্নতত্ত্ববিদ ডা. নিকোলাস রিভস জানিয়েছেন, এ ধারণাটির পক্ষে আসলে শক্ত কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং এখন আবার নতুন করে শুরু হতে যাচ্ছে নেফারতিতির সমাধিরে অনুসন্ধান।

মনসুর রহমান
তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট
ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com