মহারাজা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কনক চাঁপা

তাঁর সঙ্গে দেখা পয়লা দেখা হয় ছিয়াশি সালে। একটা অনুষ্ঠানে। নাম জেনে নিয়ে বললেন এই টুকুন মেয়ে কিভাবে এত ভাল গাইলে? তুমি ছবিতে গেয়েছো? আমি নিরুত্তর! উত্তর দিতে পারলে তো? মহানায়ককে চোখের সামনে দেখে হত বিহবল হয়ে গেছিলাম। এর পর একটা প্লেব্যাক রেকর্ডিং এ দেখা। তিনি বললেন আমি জানতাম এ জায়গাটা তোমার। তুমি তোমার করে নাও, আশীর্বাদ। আমি তখনো তাঁকে দেখি। এরপর উনি যত ছবি প্রযোজনা করেছেন সবগুলো ছবিতেই আমার গান থাকতো। আমাকে ডাকতেন কনাচাঁপা। বাঘমামা কে ডাকতেন জামাইবেটা। যেন নিজের মেয়েজামাই। আমি ভাবতাম আমার সময়ে যদি রাজ্জাক কবরী পেতাম! উনি বলে বসলেন আহা, আমাদের সময়ে যদি তোমাকে পেতাম! টুক করে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতেই বললেন ‘এ মেয়ে তো পাগলি আছে ‘!

এত বড় একজন মানুষ অথচ এত সহজ, ভাবাই যায় না। তার রেকর্ডিং এ সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে তিনি খাবার খেতেন , রেকর্ডিং এ ভাত খাইনা বলে তিনি বলতেন ওকে কাবাব এনে দাও! যেন খেতেই হবে। সব সময়ই তিনি তাঁর পরিবার নিয়েই চলাফেরা করতেন। তাঁর সন্তানেরা তাঁর ভদ্র শিক্ষায় শিক্ষিত, এ ব্যাপার গুলো অনেক চিন্তা না করেই বোঝা যেতো।

আমাদের ছোট বেলায় দেখা রাজ্জাক ততদিনে অনেক পরিণত। সুদর্শন রাজ্জাক ততদিনে হয়েছেন রাশভারী, অনেকটাই চুপচাপ এবং অবশ্যই আরও সুন্দর, এবং তিনি এ বয়সেও হাসলেই বুঝে যেতাম এই হাসি তাঁকে মহারাজা হতে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে।

তাঁর সাবলীল ও সব সময়ের আধুনিক অভিনয় বাংলা ভাষাভাষী কেউ কখনোই ভুলবেননা এ কথা বলাই বাহুল্য। তার প্রতিভা, তার অবদান নিয়ে কথা বলার সাহস আমার নেই তবে আমি এটুকু বুঝি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দাড়ানোর জন্য তার শক্তি ব্যবহার করেছে স্বচ্ছন্দ্যে। নিজেকে তিনি বাংলাদেশকে দিয়েছেন উজাড় করে।

নায়করাজ … যেখানেই যান, ভাল থাকুন। আল্লাহ আপনাকে শান্তি দিন।


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com