ভিউকার্ডে রাজ্জাক-লক্ষী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

মর্জিনা মতিন কবিতা

সেই সময়, খুব ছোট যখন আমরা ভাইবোনেরা, আব্বা প্রতি সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জ যেতেন, ব্যবসার কাজে। বাড়ি (সিরাজগঞ্জ) আসার সময় আমাদের জন্য অনেক কিছু নিয়ে আসতেন। ঈদের আগে নিয়ে আসতেন আমাদের জন্য ভিউকার্ড। চলচ্চিত্রের নায়ক নায়িকাদের ছবি। উলটো পিঠে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা লেখার জন্য দাগ টানা আলাদা আলাদা জায়গা। প্রেরক আর প্রাপকের নাম লেখার জন্য আলাদা জায়গা। বেশির ভাগ ছবি একক- শাবানার, ববিতার, কবরীর, রোজিনার। তবে সবচাইতে বেশি পেতাম শাবানার কার্ড। ভিউকার্ডে প্রায় সব ছবি একই রকম- শাবানা ‘ইউ কাট’ গলার, কনুই বরাবর লম্বা ‘গ্লাস’ হাতার ব্লাউজ পরা, জর্জেট প্রিন্টের শাড়িতে, ডান গালে তিলসমেত ভূবনভোলানো হাসি, একগুচ্ছ ফুল উনার বুক বরাবর, ফুলগুলো বাগানের গাছের না কি ফুলদানির, বুঝা যেত না ওই রকম অর্ধেক ছবিতে। কিন্তু, ছবি তোলার ওই স্টাইলটা আমার অনেক ভালো লাগত, মনে মনে ভাবতাম, আমিও বড় হয়ে এই রকম করে ছবি তুলব…

একবার দেখি আব্বা এনেছেন রাজ্জাকের ছবিওয়ালা এক ভিউকার্ড। সাথে উনার স্ত্রীও আছেন। আব্বা বললেন, রাজ্জাকের স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী।

আমরা সেই সব ভিউকার্ড সখীমহলে চালাচালি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতাম। কার্ডে লিখতাম প্রচলিত সেই সব ছড়া-
‘নিত্য নতুন জামা পরে ঘুরবে বাড়ি বাড়ি

একটুখানি সময় পেলে এসো মোদের বাড়ি।’..

‘গাছের পাতা নড়ে চড়ে
তোমার কথা মনে পড়ে।’

আমি সব কার্ড বিলিয়ে দিয়েছিলাম, আমার যেগুলো দেয়ার, মনে আছে- রাজ্জাক আর লক্ষ্মীর যুগল ছবিটা আমি কাউকে দেই নাই। যত্ন করে রেখে দিয়েছিলাম প্রিয় আরো অনেক কিছুর সঙ্গে- প্রিয় ফুলের পাঁপড়ি আর বিচি, প্রিয় রঙের সুতোর টুকরো, প্রিয় ফাউন্টেন পেন আরো প্রিয় কিসের কিসের সঙ্গে যেন।

রাজ্জাক-ও-তার-স্ত্রী

…এরপর জীবনে বেগ এসেছে, আবেগ ফিরে গেছে।
বাংলা সিনেমা আর দেখা যায় না পরিবারের সবাই মিলেমিশে, সিনেমা দেখতে ঘরে আর আসে না পাড়া প্রতিবেশি।
রাজ্জাকের সঙ্গে দেখা যায় না শাবানা, ববিতা, কবরী, রোজিনাকে। রাজ্জাকদের সমসাময়িক অন্যদেরকেও না।
আলমগীর, ফারুক, জসিম- কাউকে না। রাজ্জাককেও না।

যখন একবার দেখলাম রাজ্জাককে, কয়েক বছর আগের এক পত্রিকার শিরোনামে, দেখে অবাক হয়ে গেলাম, অনেক পরিণত উনি এখন- বয়সে, কথাবার্তায়, ভাবনাচিন্তায়।
চেহারায় পরিপক্কতা আর আভিজাত্য।
এত সুন্দর উনি তারুণ্যেও ছিলেন না!
পরিণত মানুষ এত সুন্দর হন!
রাজার মতো, নায়করাজ, নায়কদের রাজা!
আমি রীতিমতো অভিভূত।

…সেদিন নিউজফিডে তার মৃত্যু সংবাদ পেলাম।
নিয়মিত নামাজ পড়ি।
তার রুহের মাগফিরাত চাইলাম আল্লাহর কাছে, নামাজ শেষে। তাকে নিয়ে কিছু লিখতে একটু দেরি হয়ে গেল। কিন্তু দোয়া করতে মোটেই দেরি হচ্ছে না। এই বিলম্বিত স্ট্যাটাস তার কোন কাজে না এলেও আমার বিশ্বাস, আমার কষ্টমাখা দোয়াগুলো তার কাজে আসবে…

রাজ্জাকের জন্য শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা।

ছবি:গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com