ভালো-মন্দের প্রাণের বাংলা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এক বছর অতিক্রম করলোপ্রাণের বাংলা’। মহাকাল কে প্রশ্ন করলে উত্তর আসবে, ক্ষণকাল মাত্র। কিন্তু আমাদের কাছে সময়টা একশ বছর। যেন,একশ বছর সময় কাটালাম পাঠক আর লেখকদের ভালোবাসার গভীর আলিঙ্গনে। সেই আলিঙ্গন তৈরী করলো ভালোবাসার ঘর।সেই ঘর বৈরী এক  সময়ের মাঝে নতুন করে বেঁচে থাকার আশা দিলো, বেড়ে ওঠার স্বপ্ন দেখালো।

‘প্রাণের বাংলা’ একটি পত্রিকাই তো। এর বেশীকিছু নয়। কিন্তু আমাদের কাছে, আমাদের নিয়মিত লেখকদের কাছে একটা প্ল্যাটফর্ম, বিশ্বজুড়ে বাঙালীর মৈত্রী তৈরীর ছোট্ট এক সেতু। প্রাণের বাংলার এক বছর তাই আমাদের কাছে সম্পর্কের একশ বছর, ভালোবাসা আর পথ চলার প্রত্যয়। প্রাণের বাংলার জন্মদিনে লেখকরা জানিয়েছেন তাদের প্রতিক্রিয়া। তাদের ভালো মন্দের অনুভূতি। আমাদের এবারের প্রচ্ছদ আয়োজন সেই অনুভূতির গাঁথা মালা নিয়েইভালো মন্দের প্রাণের বাংলা।

খায়রুল আনোয়ার

প্রাণের বাংলা : নতুন কিছু, ভালো কিছু,প্রাণের বাংলা: অন্যরকম কিছু

কোন জানান না দিয়েই আত্মপ্রকাশ। সাম্প্রতিক সময়ে কি সংবাদপত্র, কি টেলিভিশন- রেডিও অথবা অনলাইন বেশ ঢাক-ঢোল বাজিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রাণের বাংলা এর কোনটিই করেনি। একবারেই নীরবে ইরাজ আহমেদ, আবদিা নাসরীন কলি সাংবাদিক জুটির নতুন কিছ, ভালো কিছু করার উদ্যোগ এই প্রাণের বাংলা। দৈনিক সংবাদ পত্রের পাতায় রাজনীতি, দুর্ঘটনা, খুন-খারাবী অনিয়ম-দুর্নীতিই যেন প্রধান খবর। রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহর, উপজেলা পর্যায়ে অাজ অনলাইন পোর্টাল চালু আছে। এসব অনলাইনেরও অধিকাংশ চলছে গতানুগতিক ধারায়। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। প্রধান দু’তিনটি অনলাইনতো পৃথিবী জুড়েই প্রবাসীদের মাঝে জায়গা করে নিয়েছে।

অসংখ্য পোর্টালের ভিড়ে কেন আরেকটি অনলাইন পোর্টালের উদ্যোগ নিতে গেলেন ইরাজ-কলি জুটি ? কোন রকম আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই কেন তারা এতটা দু:সাহসী হলেন? তাহলে সাহস দেখানো এই জুটি সম্পর্কে কিছু না বললেই নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অবস্থায় ইরাজ আহমেদের সাংবাদিক জীবনের সূচনা। এক নম্বরের সাপ্তাহিক পত্রিকা, পাক্ষিক, দৈনিক, দেশের প্রথম ট্যাবলয়েড, জাতীয় সংবাদ সংস্থা-সাংবাদিকতার কোন অঙ্গনেই না কাজ করেছেন ইরাজ? দেশের প্রথম বেসরকারী টিভি চ্যানেলে কাজ করার জন্য নির্বাচিত হয়েও যোগ দেননি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতা পেশায় আছেন ইরাজ আহমেদ। রাজনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, আন্ডারওয়ার্ল্ড-সব বিষয় নিয়েই ইরাজ রিপোর্ট করেছেন।

টেবিলে বসে থাকা রিপোর্টার নন, যাকে এক কথায় বলা যায় ‘স্ট্রীট’ রিপোর্টার। ইরাজের সাংবাদিকতা শুরু সাপ্তাহিক বিচিত্রা দিয়ে। সম্পাদক ছিলেন শাহাদত চৌধুরী। সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে যার তুলনা আর কেউ নন বলেই মনে করি। শুধু সাংবাদিক নন ইরাজ, একজন কবি, গল্পলেখক, নাট্যকার। সাংবাদিকতা-সাহিত্য যার পেশা-নেশা, তিনি তো ভিন্ন ধরনেরই কিছু করবেন। আর সেই তাগিদ থেকেই প্রাণের বাংলা।

ব্যক্তি জীবনের জুটি, প্রাণের বাংলারও জুটি। এবার সম্পাদক আবদিা নাসরিন কলি সম্পর্কে কিছু বলতে হয়। কলি দু’টি নামী দৈনিক পত্রিকা ভোরের কাগজ ও দৈনিক সংবাদে সাংবাদিকতা করেছেন। ফিচার বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। পেশাগত জীবন যাদের বৈচিত্রে পরিপূর্ন, তারা যখন কোন উদ্যোগ নেন তখন অন্য রকম কিছুই তো হওয়ার কথা। প্রাণের বাংলা যারা নিয়মিত পড়েন, দেখে থাকেন, তারা সেই ছাপ লক্ষ্য করে থাকবেন।, সব শ্রেণির মানুষের পাঠ্য খোরাক প্রাণের বাংলায় খুঁজে পাওয়া যায়। সিরিয়াস বিষয়ের পাশাপাশি, ফিচার, সঙ্গীত, সাহিত্য, হারানো দিনের সিনেমার নায়ক-নায়িকা অজানা অম্ল-মধুর কাহিনী, খেলা-ধুলা, রান্না-বান্না, রূপচর্চা, স্বাস্থ্য, ভৌতিক বিষয়, পেছনে ফেলে আসা মফস্বল শহরের স্মৃতি আনন্দ-বেদনার গল্প, ভ্রমন- কি নেই প্রাণের বাংলায়। দেশের সাংবাদিক, লেখক টেলিভিশন মঞ্চের তারকারা বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট জনদের পাশাপাশি পশ্চিমবাংলার সংবাদপত্র, টিভি চ্যানেলের পরিচিত মুখ নিয়মিতভাবে প্রাণের বাংলায় লিখছেন। ইরাজ ও কলির সঙ্গে আছেন প্রাণশক্তিতে ভরপুর সুমন, শামীম। দুই সহোদর তরুণ প্রযুক্তি বিদ্যায় যাদের রয়েছে পারদর্শীতা। অসম্ভব পরিশ্রম করা যাদের নেশা।

প্রাণের বাংলা এক বছর পূর্ন করলো। বর্ষপূর্তিতে প্রাণের বাংলা কিছুটা সাফল্য দাবি করতেই পারে। কোন আর্থিক পুঁজি ছাড়াই ভালো একটি অনলাইন পোর্টাল করার অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে সম্বল করে মাত্র চারজনের একটি টিম প্রাণের বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রাণের বাংলায় আরও নতুন নতুন কিছু করার সুযোগ রয়েছে। সম্পাদক পরিষদের নিশ্চয়ই সেই ভাবনা আছে। কর্মীর সংখ্যা যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি দেশে-প্রবাসে প্রাণের বাংলার প্রচারের প্রয়োজন আছে। প্রচারেই প্রসার, কথাটা তো বেশ চালু। পোর্টালের পাতায় যারা অনেক কিছুর স্বাদ পেতে চান, যান্ত্রিক জীবনে মনটাকে স্বস্তি আনন্দ দিতে চান, তারা প্রাণের বাংলায় নিমগ্ন হবেন- এক বছর পেড়িয়ে এসে এমন আশা তো করা যেতেই পারে। ( বার্তা বিভাগ প্রধান, এনটিভি )

দেখতে দেখতে একবছর বয়স ছুতে পারার অভিনন্দন রইলো প্রাণের বাংলার জন্য।

রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা

প্রাণের বাংলা … সত্যিই প্রান জুড়ানো অনলাইন পত্রিকা। প্রাণ ছোঁয়া সব আর্টিকেল থাকে। আমি ধীরে ধীরে এর সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছি।আমার কাছে অবশ্য প্রাণের বাংলা মানেই কলি আবিদা বুবু।হয়তো পক্ষপাত হবে, তবুও আমি এভাবেই ভাবি।বুবু আমাকে দিয়ে কাটাঘুড়ির জন্য লিখিয়ে নিচ্ছেন,এ যেন বড়বোনের যায়গা থেকে আমার মনের আগল আদর করে খুলে দিতে ভালবেসে সাহায্য করছেন।রোজ রোজ লেখক কে তাগাদা দেয়া সোজা নয়।জীবনের কত কিছু ভুলে গেছিলাম,বুবুইতো বুকের আঙিনায় খুঁচিয়ে, খুঁড়ে হৃদয়ে জমে থাকা ভালবাসা তরল করে বের করে আনেন। এ ভালবাসা আমি প্রাণের বাংলায় এসেই পেলাম। সংগীত শিল্পী হিসেবে এ পোর্টাল- এ আমি আমাদের দেশের বড় বড় শিল্পীর ধারাবাহিক জীবনী পড়তে চাই।শিশুতোষ লেখাও আমার চাহিদার মধ্যে রইলো। দেখতে দেখতে একবছর বয়স ছুতে পারার অভিনন্দন রইলো প্রাণের বাংলার জন্য। সত্যিকারের শুভকামনা, হৃদয়ের বাম অলিন্দ থেকে। (কন্ঠশ্রমিক)

‘প্রাণের বাংলা’ প্রাণের তোড়ে

আন্জুমান রোজী, কানাডা থেকে

লেখালেখির বিষয়টা সম্পূর্ণ আমার নিজের। ইচ্ছে হলে লিখি,ইচ্ছে না হলে লিখি না। খুববেশি ভেতর থেকে তাড়না না এলে, ঠিক লিখতেও পারিনা। কখনও কখনও কিছু ভাব বাক্য শব্দ মনের মধ্যে অনুরণিত হলে তা কবিতা আকারে বেরিয়ে আসে। আবার মাঝেমধ্যে সামাজবৈরী কোনোকিছু দেখা বা শোনামাত্র মননে মগজে তাৎক্ষণিক নাড়া দিলে সেই বিষয় নিয়ে লিখতে বসে যাই। লিখি কিছু ম্যাসেজ সমাজকে দিতে, লিখি কিছু বক্তব্যকে পরিস্কার করে তুলে দিতে সমাজের চোখে। লেখক হওয়ার জন্য লিখিনা। লেখক হতে অনেক সাধনার প্রয়োজন, আমি সেই সাধনার মধ্যে নেই। আমি লিখি বিবেকের তাড়নায়, আমি লিখি নিজস্ব এক দায়বদ্ধতা ও ভালোলাগার জায়গা থেকে। এ দুয়ের মধ্যে একটাই উদ্দেশ্য, সমাজ ও মানুষের সুস্থধারায় জীবনযাপনে সহায়ক কিছু ম্যাসেজ দিয়ে যাওয়া। লেখালেখির জগতে আমার এই নিজস্ব পথচলাতেও মাঝেমধ্যে কিছু ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটে। অনেকটা প্রাণের তাড়নায় ঘটে। এই ব্যতিক্রম ঘটনা ঘটিয়ে দেয় অনলাইন পত্রিকা ‘প্রাণের বাংলা’। ‘প্রানের বাংলা’র সম্পাদক আবিদা নাসরিন কলি হঠাৎ একদিন বললেন, ” আপনার ফেইসবুক ওয়াল থেকে একটা লেখা নিতে চাই।” আমি বললাম, ‘নিন।’ এইতো শুরু। শুরুটা লির্লিপ্তের মতো হলেও পরে আর সেভাবে থাকেনি। হয়ে গেলো প্রাণের তাড়না। ইনবক্সে বিষয় উল্লেখ করে লেখা চেয়ে ম্যাসেজ দেন, আর আমিও সঙ্গে সঙ্গে বলে দেই, ঠিক আছে। এই যে কলি আপার ম্যাসেজ পাওয়ামাত্রই লেখার বিষয় নিয়ে ভাবতে বসে যাওয়া। সেই সূত্রধরে লিখতে বসে যাওয়া, এই বিষয়টা আমাকে প্রায়ই খুবই ভাবায়। কারণ, আমি কোনো ফরমায়েশি লেখা লিখতে পারি না। অথচ ‘প্রাণের বাংলার” কী এমন যাদু আছে যে আমি অধীনস্থের মতো লিখতে বসে যাই। সে যাইহোক, কলি আপার এই সম্মোহন শক্তির কাছে আমি ঋণী। সবচেয়ে অবাক বিষয় হলো, আমি প্রাণের বাংলার যাত্রাপথের শুরু থেকেই আছি। এতো এতো পাঠকের আনাগোনা দেখে আমার মনে হতো, ‘প্রাণের বাংলা’র যাত্রা অনেক-অনেক বছর ধরে। অথচ ২৭ মার্চ ‘প্রাণের বাংলা’র প্রথম জন্মবার্ষিকী। কলেবরে সগৌরবে প্রকাশিত ‘প্রাণের বাংলা’র বিচরণ সত্যই বিস্ময়কর। মুগ্ধ হতে হয়, নতুন নতুন লেখার বিষয় নির্বাচনের সঙ্গে মূর্ত কী বিমূর্ত ছবির সামঞ্জস্য এবং তার উপস্থাপনা দেখে। পরিমিত রঙের ব্যবহারও চোখজুড়িয়ে দেয়। ঘর গেরস্থালী থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটা বিষয়ের উপর নজর রেখে সুচারুভাবে প্রকাশ, প্রশংসার দাবী রাখে বটে। এপার বাংলা, ওপার বাংলা; দু’বাংলার সমান পদচারণায় বাংলা শিল্প সংস্কৃতির চলারপথকে আরো উজ্জীবিত করে বৈকি। একবছরে ‘প্রাণের বাংলা’র আড়ম্বরপূর্ণ পথচলায় প্রাপ্তির যোগটাই হয়তো বেশি হবে, তবে কিছুকিছু বিষয়ে একটু বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। যেমন, বানান, শব্দের ব্যবহার এবং বাক্যগঠনের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা। এতে ষোলকলা পূর্ণ হয়ে প্রাণের বাংলা হয়ে যাবে আমার মতো অনেক লেখকের প্রাণের আশ্রয়। হবে পাঠকের নির্ভার প্রণোদনা। সবশেষে ‘প্রাণের বাংলা’র পথচলায় আমি একজন সহচর বলে গর্ববোধ করছি। এগিয়ে চলার পথেই আমার পা, ‘প্রাণের বাংলা’ও এগিয়ে যাবে দেশ সমাজ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, সেই প্রত্যাশায় আগামীর সুন্দর দেখি। শুভ জন্মদিন প্রাণের বাংলা। ( লেখক )

এমন দাবীর কাছে হার মেনে শুরু হল প্রাণের বাংলায় লেখা

আহসান শামীম/shamim

আহসান শামীম

হঠাৎ বন্ধু ইরাজের ফোন। প্রাণের বাংলার বর্ষপূর্তি । লেখা দিতে হবে । হারিয়ে গেলাম নষ্টালজিয়ায় । আশির দশকে ইরাজের হাত ধরেই লেখালেখির পথচলা । প্রথমে তৎকালীন জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তারপর অধুনালুপ্ত দৈনিক বাংলায় খেলার পাতায় । ১৯৯০ সালের পর লেখা লেখি থেকে দুরে সরে গেলাম কিছুটা ব্যাক্তিগত কাজের অজুহাতে ।
১৬ বছর পর আবার লেখালেখি জগতে ফিরে আসা। সেখানেও ছেলেবেলার বন্ধু ইরাজ। এক পারিবারিক আড্ডার মাঝে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত । কলি ভাবীকে ( বন্ধু ইরাজের সহধর্মিনী) দেখিয়ে ইরাজ বলে উঠল এই যে শামীম তোমার খেলার পাতার জন্য লিখবে এখন থেকে । ভাবীও কোন ভনিতা না করে সরাসরি বলে দিলেন লেখা দিতে হবে । এমন দাবীর কাছে হার মেনে শুরু হল প্রাণের বাংলায় লেখা ।
স্থান সংকুলন না হওয়ায় অনেক ভাল লেখাও হারিয়ে যায় অন্য লেখার অন্তরালে । এরকম কিছু মান- অভিমান। সেই প্রাণের বাংলা বর্ষপূর্ত হচ্ছে । কেমন দ্রুত একটা বছর কেটে গেল। ভিন্নস্বাদের অনলাইন ম্যাগাজিনের একজন নিয়মিত লেখক হিসাবে প্রানের শুভেচ্ছা , প্রাণের বাংলা সংশ্লিষ্ট সবাইকে । প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির শূন্যতা পুরন করে আগামীদিনের পাঠক কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠুক আমাদের প্রাণের বাংলা । ( ক্রীড়া বিশ্লেষক)

দক্ষিণের খোলা জানালা

রুদ্রাক্ষ রহমান

পত্রযুগ থেকে হালের নিউজ পোর্টাল, এসব লেখালেখি, মানুষ বস্তুত কী বলতে চেয়েছে? আর যা বলতে চেয়েছে, তা কি বলতে পেরেছে? বলাবলি কি শেষ হয়ে গেছে?
আমার দিক থেকে উত্তর হলো ‘না’। না, শেষ হয়ে যায়নি। গেলে আরেকটি জানালা খুলে যেতো না আমার জন্য, আমাদের জন্য, ঠিক এক বছর আগে। ‘প্রাণের বাংলা’কে আমি একটা জানালা, দক্ষিণমুখী খোলা জানালা মনে করি। সপ্তাহান্তে ফুরফুরে শীতল হাওয়া ঢুকে পড়ে সেই জানালা দিয়ে। মন জুড়িয়ে যায় সেই হাওয়ার পরশে।
একদা আমরা পরিপূর্ণ সাহিত্য পত্রিকা বলতে ‘দেশ’কে বোঝাতাম। কলকাতা থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি সাপ্তাহিক হিসেবে চলেছে দীর্ঘ, দীর্ঘ কাল। তারপর কর্তৃপক্ষ আর্থিক লাভ-লোকসানের অংক কষে দেশকে পরিণত করেছেন পাক্ষিকে। ওপার বাংলার দেশ’র বাইরে আরো অনেক সাহিত্য পত্রিকা, লিটলম্যাগ সময় মাতিয়েছে। ঢাকাও পিছিয়ে ছিলো না সময়ের স্রোত থেকে। সাহিত্য পত্রিকা না হয়েও এক ‘বিচিত্রা’ এদেশে অনেক নামী লেখক সৃষ্টি করেছে।
দুনিয়াজুড়ে এখন তথ্য-প্রযুক্তির দাপট। সেই হররার মধ্যে কাগজে ছাপার পত্রিকা একটুতো পিছু হটেছেই। সময়টা যখন অল লাইনের, তখন প্রাণের বাংলা অন্য বাতাস দেয়, অন্য হাওয়া হয়ে ঘুরে বেড়ায় ঢাকা, কলকাতা, লন্ডন, নিউইয়র্ক আরো কত কত শহরে। প্রাণের বাংলা একই সুবর্ণ রেখা দিয়ে বেধে ফেলে কলকাতার রিনি বিশ্বাস আর লন্ডন প্রবাসী কবি শামীম আজাদকে। প্রাণের বাংলা খুললেই স্মার্টসব গদ্য, কখনো কখনো পদ্যও। সাহিত্যের খবরা-খবরের সঙ্গে স্মৃতি কথা, কবি আর কবিতাস্মরণ, প্রিয়শহর আরো কত কী!
এখন অভ্যাসটা এমন দাঁড়িয়েছে বৃহস্পতিবার সকালটা শুরু হয় আমার প্রাণের বাংলা দিয়ে। পড়ি আর মাঝে মধ্যে ইচ্ছে হলে লিখি যা মনে চায়। সবকিছু মিলিয়ে প্রাণের বাংলা আমার কাছে একটা নান্দনিক ভোর, পাখি ওড়া সকাল, রোদ ঝলমলে দুপুর, দখিনা বাতাস দেয়া উড়ু উড়ু  বিকেল, স্নিগ্ধতায় ভরা টাপুর টুপুর সন্ধ্যা আর রাতের মতো আপন-নির্জনতা। সেই প্রাণের বাংলার বছরপূর্তি আমার কাছে বৃষ্টিনামা আনন্দের মতো। তাই এর মহাকালপ্রাণ কামনা করছি। (গল্পকার)

মনকেমন-মনভালো, সবেতেই  একটা বছরে খুব কাছের বন্ধু হয়ে আছে ‘প্রাণের বাংলা’…

রিনি বিশ্বাস, কলকাতা থেকে

কথা নেই বার্তা নেই, হুড়মুড় করে এক পাহাড় মনখারাপ জাপটে ধরলো সক্কাল সক্কাল… পরিস্থিতির অবনতিও হতে পারতো, এমন সময়ে এসেছিল ‘প্রাণের বাংলা’র ডাক… মনকেমনের সকালে মনভালোর হাতছানি… প্রাণের ডাক, বাংলার ডাক..একসঙ্গেও যেমন-আলাদাও তেমনি, শব্দদুটির অদ্ভুত জোর; অদ্ভুত টান… সেভাবে তখনও ‘সো্শ্যাল মিডিয়া’র সঙ্গে পরিচয় হয়নি কারুরই ; আমারও ‘অর্কুটের’ সঙ্গে তখন সদ্য আলাপ.. সেখানে প্রাণের টান তৈরি হল যার সঙ্গে- সে ‘প্রাণের বাংলা’র প্রাণ-কলি… বন্ধুত্বের চাইতে অনেক-অনেক বেশি কিছু তৈরি হল এই মানুষটির সঙ্গে… দিন গড়িয়ে বছর গেল, ক্যালেন্ডার বদলালো, বাড়লো দুজনেরই বয়সও; সেদিনের সেই মাধ্যমটিও হারিয়ে গেল.. কিন্তু টানটা অটুট আজও… তাই ডাকটা যখন এই মানুষটির কাছ থেকে এলো, তখন ‘প্রাণের বাংলা’র বন্ধুত্বের হাত না-ধরার কোন কারণই ছিলনা; ধরলামও হাত… নাকি ‘প্রাণের বাংলা’ ধরলো আমার হাত… এটাই বোধহয় সত্যি.. প্রাণের বাংলা আমাকে ধরে রেখেছে; নাহলে গত ৩৬৫ টা দিনে হয়ত আরো খানিকটা ছড়িয়ে যেতাম অগোছালোভাবে; ছড়িয়ে যাওয়া সেই অংশটুকু হয়তো আর খুঁজেও পাওয়া যেতনা কোনদিন, যদি না ‘প্রাণের বাংলা’ থাকতো… মনকেমন-মনভালো, সবেতেই গত একটা গোটা বছরে খুব কাছের বন্ধুর মত-নির্ভরতা হয়ে কাছে আছে ‘প্রাণের বাংলা’… কত অজস্র কথা মনে জমে যায় রোজ; জমে যায় অহেতুক অভিমান আর অকারণ দুঃখ; সেসব যে কলমে আসতে পারে, সেসব যে অন্য কারুর কাছে পৌঁছনো যায়-তা দেখালো ‘প্রাণের বাংলা’ই.. আনন্দ ভাগ করলে বাড়ে-শুনেছিলাম, মনকেমন উজার করলেও যে আর সকলের আনন্দের শরিক হওয়া যায়-তা বুঝলাম ‘প্রাণের বাংলা’ পরিবারের একজন হয়ে… যদিও ‘প্রাণের বাংলা’র বয়স মাত্র এক, কিন্তু কেন যেন মনে হয় বহু যুগের সম্পর্ক আমার তার সঙ্গে… যেন এই সম্পর্ক দীর্ঘজীবী হয়, যেন আরো ভালোবেসে আরো ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকতে পারি তার সঙ্গে আগামীতে… এই মুহূর্তে এটুকুই চাওয়ার.. (সঞ্চালক ও বাচিক শিল্পী)

প্রথম সংখ্যা থেকেই ছিল চমক

ইশতিয়াক নাসির

অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো নিয়ে আমার মধ্যে বরাবরই খুব অবজ্ঞার একটা ব্যাপার ছিল। যত রকমের ফালতু সংবাদ আছে, সেগুলোতে রংচঙ মাখিয়ে হাস্যকর উপায়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করাই যেন এই নিউজপোর্টাল গুলোর কাজ।আমি নিজেও অনেক রকম মজা করতাম এসব সাইটগুলো নিয়ে। এর মধ্যেই গত বছর আমি যখন মীরাক্কেলে কাজ করার জন্য কলকাতায় ছিলাম, ঢাকা থেকে এক বন্ধু জানালো সে এবং আরো কয়েকজন মিলে একটা অন-লাইন ম্যাগাজিন বের করতে চায়। আমি নিয়মিত সপ্তাহে একটা করে লেখা দিতে পারবো কিনা? লেখা দেয়া কোন ব্যাপার না, কিন্তু আমি সত্যিই টেনশনে ছিলাম, না জানি কেমন হবে সেই অনলাইন ম্যাগাজিন। যদি আর দশটা ফালতু সাইটের মত হয়, তাহলে মান সম্মান যা আছে সব শেষ!কিন্তু প্রথম সংখ্যা থেকেই ছিল চমক। গতানুগতিক সব সাইট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, কেমন যেন একটা স্নিগ্ধতা মেশানো গেট-আপ নিয়ে হাজির হলো ‘প্রাণের বাংলা’। আমি লেখা দিলাম, সেটা পাবলিশও হলো। অদ্ভুত সুন্দর একটা অনুভূতি। এমন না যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমি এর আগে লিখিনি কিন্তু কোন একটা ওয়েব সাইটে সম্পূর্ন নিজের একটা কলাম ‘বয়স ১৯’ রেগুলার লিখতে পারাটা খুব আনন্দের ব্যাপার। সেই আনন্দ বহুগুনে বেড়ে যায় যখন দেখি ‘প্রাণের বাংলায়’ আমি ছাড়াও আরও অনেক নামীদামী গুণী মানুষেরা লেখেন। সেটা শুধুমাত্র বাংলাদেশ থেকেই না, ওপার বাংলারও অনেক পরিচিত, মেধাবী লেখকের লেখা স্থান পেয়েছে ‘প্রাণের বাংলা’র পেইজে।সেই যে লেখা শুরু হলো আজও চলছে।একটা একটা করে জমতে জমতে আজ পর্যন্ত অনেক গুলো লেখা হয়ে গেছে।জানিনা কোনদিন লেখক হতে পারবো কিনা, তবে ‘প্রাণের বাংলা’কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই আমাকে এই সুযোগ করে দেয়ার জন্য। যদি কখনও, কোনদিন আমার লেখার জন্য কেউ প্রশংসা করে, তবে প্রথমেই এর জন্য কৃতিত্বের দাবীদার হবে ‘প্রাণের বাংলা’। আমার লেখক হিসেবে জন্ম নেয়ার আঁতুড় ঘর যদি মিরাক্কেল হয়, তাহলে ‘প্রাণের বাংলা’ কে বলব একটা সাজানো গোছানো লাইব্রেরী যেখানে আমার কিছু লেখা পাঠকরা পড়ে আনন্দ পান।‘প্রাণের বাংলা’র এক বছর পূর্তিতে অনেক অনেক শুভকামনা আর ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদ রইল। (স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান)

আমি তো সুধা মাটির গন্ধ মেশানো অকৃত্রিম নাড়ীর সম্পর্ক খুঁজে পাই

শিবব্রত দেচৌধুরী, নিউ ইয়র্ক থেকে

প্রাণের বাংলা, ছোট্ট দুটি শব্দ কিন্তু তার অর্থ টা কতো সার্বজনীন। চোখ বোঁজে একটু ভাবুনতো , কি মনে হয়? আমি তো সুধা মাটির গন্ধ মেশানো অকৃত্রিম নাড়ীর সম্পর্ক খোঁজে পাই। অবচেতন মনটা যেনো গেয়ে উঠে – চল ফিরে যাই মাটির টানে, মাটি মোদের সবার প্রাণে! মনে হয়, বর্তমান পৃথিবীর এই যান্ত্রিক জীবনের মাঝেও মায়ের স্নেহ, বোনের সোহাগ আর ভাইয়ের আদর নিয়ে কে যেনো ওখানটায় দাঁড়িয়ে আছে আমার প্রতিক্ষায়! ইংরেজীতে একটা কথার প্রচলন আছে – “Morning shows the day” প্রাণের ২৭ মার্চ এক বছরে পদার্পণ করবে । বয়সের হিসেবে নেহায়েৎ শিশু কিন্তু ইতিমধ্যেই বিশ্ব বাংলা তথা বিশ্ব দরবারে তার আসন পাকা পোক্ত করে নিয়েছে , যথেষ্ট বৈচিত্র , বিচক্ষনতা ও মুন্সিয়ানার সঙ্গে। প্রাণের বাংলার সব ক’টা বিভাগই ইতিমধ্যে সারা বিশ্বের পাঠক কুলের আস্থা ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে । বিশ্বায়নের এ যুগে সমসাময়িক আর দশটা web magazine থেকে প্রাণের বাংলা ভিন্ন এবং স্বমহিমায় উজ্জ্বল । আমার ধারনা, প্রতিটি প্রকাশনার শেষে পাঠকের মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকলে একদিকে পাঠকরা ও যেমন তাৎক্ষনিক ভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবেন তেমনি পাঠকের মতামতের ভিত্তিতে ম্যাগজিন কর্তৃপক্ষ ও সহজে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারবেন। পরিশেষে, এই শুভ লগনে প্রাণের বাংলার সর্ব সুমঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি । আজকের এই চারা গাছটি তার শাখা প্রশাখা বিস্তার করে অচিরেই মহীরুহে পরিনত হবে এ আমার দৃঢ বিশ্বাস । প্রাণের বাংলার সম্পাদক মন্ডলী, কলাকুশলী, পৃষ্টপোষক এবং সর্বপোরি প্রাণের বাংলার প্রতি রইল আমার অন্তরের অন্তস্থল থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা।(প্রবাসী লেখক)

বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষই বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন ‘প্রাণের বাংলা’র

দীপারুণ ভট্টাচার্য্য, দিল্লী থেকে

‘প্রাণের বাংলা’র সঙ্গে আমার পরিচয় প্রায় মাস ছয়েক। এরই মধ্যে সে আমার বেশ বন্ধু হয়ে উঠেছে। এখন প্রশ্ন হলো, সুদূর দিল্লির এক মানুষের বন্ধু কিভাবে হয়ে উঠতে পারে ভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকাটি? আসলে উন্নততর প্রযুক্তির সুবাদে গোটা পৃথিবীটাই আজ মানুষের কাছে আর অধরা নয়। পৃথিবী যেন এক Global Village আর ঢাকা তারই অন্তর্গত একটা ছোট পাড়া। এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘প্রাণের বাংলা’ এই বিশ্ব-গ্রামের একটি কাগজ। তাই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষই বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন ‘প্রাণের বাংলা’র। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষ মানুষের কাছাকাছি এসেছে। আজ এই যোগাযোগের একটা বড় অংশ কিন্তু ইন্টারনেট নির্ভর। যা ক্রমাগত দৃঢ় করে চলেছে একের সঙ্গে অন্যের নিবিড় যোগাযোগ ও বন্ধন। স্মার্ট ফোন নামক যন্ত্রটির সাহায্যে নবীন প্রজন্ম প্রায় তালুবন্ধি করে ফেলেছে গোটা বিশ্বটাকে। আর এই প্রয়াসকেই সার্থক ও সুন্দর করে চলেছে ‘প্রাণের বাংলা’। আজ সবুজায়ন, উষ্ণায়ন ইত্যাদি শব্দ গুলি ক্রমাগত উঠে আসছে শিরোনামে। সুকান্ত ভট্টাচার্য তাঁর কবিতায় বলেছেন, ‘এ পৃথিবীকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নব জাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ এ অঙ্গীকার আমাদের সকলের। আর তা পালন করতে গেলে আমাদের জীবনকে ধীরে ধীরে করে তুলতে হবে কাগজ হীন। ই-পত্রিকা ‘প্রাণের বাংলা’ সে পথেরই পথিক। আমার বিশ্বাস আগামী বিশ্বের লেখা পড়ায় সব থেকে বেশি গুরুত্ব পাবে অনলাইন পত্রিকা, ম্যাগাজিন বা ব্লগ গুলি। ‘প্রাণের বাংলা’ এ কাজটি শুরু করেছে সঠিক সময়, সঠিক পদ্ধতিতে ও সঠিক উপস্থাপনার মাধ্যমে। একজন পাঠক হিসাবে ‘প্রাণের বাংলা’র প্রথম জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই। শুভেচ্ছা জানাতে চাই সেই সব মানুষদের যারা অন্তরালে থেকে নিরলস ভাবে পরম যত্ন সহকারে এই প্রয়াসকে সুন্দর রূপ দিয়ে চলেছেন প্রতিদিন। আশা করি বাংলাকে যাঁরা গর্বের সঙ্গে স্থান দিয়েছেন প্রাণের ভিতর; ‘প্রাণের বাংলা’কেও তাঁরা কাছে টেনে নেবেন। আপন করবেন, আপন গুনে। শুভ জন্মদিন ‘প্রাণের বাংলা’। (প্রকৌশলী, লেখক)

 

প্রাণের বাংলা প্রাণের কথা বলে

ইভা আফরোজা খান

‘প্রাণের বাংলা’ আমার প্রাণের কথা বলে। ছোট ছোট বিভাগ যেগুলো আছে যেমন আমার শহর, জীবনকাব্য, কাটাঘুড়ি, সর্বজয়া,হেঁশেল, কুরুক্ষেত্র, নির্বাচিত এই বিভাগগুলো পড়তে খুব ভাল তেমনি এর নামগুলোও খুব সুন্দর। যারা লেখেন তারা সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতা নিয়ে মানসম্মত লেখা লিখেন। মনের কথাগুলো ফুটে ওঠে তাদের লেখায়। আর এইসব লেখকদের উপরে আরো একজন যিনি আছেন, নামেই তিনি সুপরিচিত। পত্রিকায় যাদের লেখা অতি মনোযোগ দিয়ে ও আগ্রহ নিয়ে পড়তাম তিনি তাদের অন্যতম। আবিদা নাসরীন কলি আপার স্নেহভাজন হতে পারাটাও কিন্তু এই প্রাণের বাংলার কল্যাণেই। আর এর সমন্বয় যিনি করেন শামীম জাহিদ, তাকেও ধন্যবাদ আমাকে সুযোগ করে দেয়ার জন্য। অল্প কজনার সঙ্গে পরিচয় হয়েছে সম্রাট, সুজন ( শুধু রেসিপি দেননা, রান্না করেও খাওয়ান), সুমন…প্রতীক্ষায় থাকি আবার কবে হবে আড্ডা …। (লেখক)

পাঠক প্রতিনিয়ত পাচ্ছেন নতুনত্বের স্বাদ

ফয়েজ আহমেদ

কিছু দিন আগেও সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম ছিল ছাপাখানা কেন্দ্রিক। তথ্য প্রযুক্তির দ্রুত ও প্রায় অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা ছড়িয়ে পড়েছে গোলার্ধের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। অনলাইন পোর্টাল এমনই নব সংযোজন যা- যে কোন সময়, যে কোন দূর্গম জনপদে চলে যেতে পারে। প্রতিটি জনগোষ্টির মুক্তবুদ্ধি ও তার মনোজাগতিক মুক্ততথ্য ছড়িয়ে দিতে পারে অল্প সময়ের মধ্যেই। ‘প্রাণের বাংলা’অনলাইন পোর্টাল/ম্যাগাজিনটি দু’দিন পর একটি বছর পূর্ণ করবে। এই একটি বছরে তাদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিকে ছাড়িয়ে যে বিষয়টি স্পষ্টত। তা হলো বাংলার যে অবিনাশী চেতনা, শিল্পসংস্কৃতি-সাহিত্যের যে সৌন্দর্যবোধ; তা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার প্রয়াস। যেমনি করে বিশ্বনন্দিত দাশর্নিকগণ- রুশো, ভলতেয়ার, থমাস পাইন, জুনিয়াস ও জন উইকিস এরা সমাজ বদলের লক্ষে সংবাদপত্রে লিখেছেন। আধুনিকতার পথে তাঁদের জনগোষ্ঠিকে অগ্রসর করেছেন। অবশ্য ‘প্রাণের বাংলা’র প্রতিশ্রুতিটাও এমনই ছিল- ‘ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক বাঙালীর বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর জীবন কথা। আমাদের নীতি একটাই দেশপ্রেম, চাই দুর্নীতিমুক্ত, দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ।’
সম্পাদক আবিদা নাসরীন কলি  স্রোতে গা ঢেলে দিয়ে উজানে যাবার পথে না গিয়ে, পাড়ি দিচ্ছেন পাঠকের সৌন্দর্যবোধ ও আধুনিক মনন সৃষ্টির লক্ষে। ফলে পাঠক প্রতিনিয়ত পাচ্ছেন নতুনত্বের স্বাদ। পাঠক আমি, ইচ্ছে করলেই দিনের যে কোন সময়ই ‘প্রাণের বাংলা’ য় চোখ বোলাতে পারি। কিন্তু তা করি না। দিন শেষে এ শহরের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ যখন ঘুমাতে যান, আমিও ঘুমাতে যাই। ঘুমাতে যাবার আগে অতি-মনোযোগ দিয়ে একেক করে পড়তে থাকি সম্পাদকীয়, প্রচ্ছদ, কাটাঘুড়ি, সর্বজয়া এবং সাহিত্য। দ্বিধাহীন ভাবে বলতে পারি প্রতিটি বিভাগ এবং উপবিভাগের লেখাগুলোতে রুচিশীলতার বহিঃপ্রকাশ রয়েছে।
সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ‘প্রাণের বাংলা’য় সর্বজয়া নামের যে উপবিভাগটি রয়েছে তা ‘আপন মনে’ বিভাগের অন্তর্গত। যেখানের নারীদের কথা বলা হয়, নারীদের কথা কথা শোনা হয়। এটিকে আলাদা ভাবে বিভাগ করা যায় কিনা এ বিষয়টি ভাবার অনুরোধ। ‘প্রাণের বাংলা’ ম্যাগাজিনটির প্রচ্ছদসহ দশটি বিভাগ রয়েছে। এ দশটি বিভাগের আবার বাইশটি উপবিভাগ রয়েছে। সমন্বের মাধ্যমে কিছু উপবিভাগ কমালে পাঠকের সুবিধা হয় বলে আমি মনে করি। ‘প্রাণের বাংলা’ তার সৃজনের স্বকৃয়তা নিয়ে বহুদূর যাবে। এটা আমার মনোবাসনা; আজকের দিনের প্রাথর্না। (সাংবাদিক)

রুচিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বি প্রাণের বাংলা…

নিজামুল হক বিপুল

২৭ মার্চ এক বছর পূর্ণ করছে ‘প্রাণের বাংলা ডট কম।’ দেশপ্রেম, দুর্নীতি ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ- এই নীতি নিয়ে বছর আগে আত্মপ্রকাশ করা ব্যতিক্রমধর্মী অনলাইন পোর্টাল। বছর আগে জন্ম নিলেও আমি প্রাণের বাংলা’র সঙ্গে পরিচিত হয়েছি মাস ছ’এক আগে। অফিসে বসে মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন অনলাইন ঘাটাঘাটি করা স্বভাবজাত। সেই ঘাটাঘাটি করতে গিয়েই হঠাৎ একদিন চোখে পড়ল প্রাণের বাংলা নামের সাইটটি। প্রথম দর্শনেই যেন হৃদয় কাড়লো। এর মেকআপ, গেটআপ, পেইজ সাজানো, রুচি সম্পন্ন লেখা সবকিছুই আমাকে আকৃষ্ট করল। এ কারণে প্রতিদিনই নিয়মিত দেখা হয় এটি।
প্রাণের বাংলা’র সম্পাদকীয় লাইন দেখে মনে হলে, আমার অতিপরিচিত দু’জন মানুষই এর জন্ম দিয়েছেন। সঙ্গত কারণেই প্রাণের বাংলার প্রতি ভালোবাসাটুকু দিনে দিনে আরো গাঢ় হল। গত কয়েক মাস রুচিশীল এই অনলাইনের নিয়মিত পাঠক ছিলাম। মাস তিনেক হল এর সঙ্গে নিজে সম্পৃক্তও হলাম। ইরাজ ভাই আর কলি আপার সঙ্গে কথা বলে শুরু করলাম লেখালেখি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি লেখাও ছাপা হয়েছে।
১৭ মার্চ কলি আপার একটি মেসেজ। ২৭ মার্চ এক বছর পূর্ণ হচ্ছে প্রাণের বাংলা’র। তাই ২২ মার্চের মধ্যে ৩০০ শব্দের একটা লেখা দিতে হবে প্রাণের বাংলা’র ভালো-মন্দ বিভিন্ন দিক নিয়ে। খুব কঠিন কাজ। আমি পাঠক হিসেবে কেমন জানি না। তবে নিয়মিত এই অনলাইনের প্রায় সব লেখা পড়ে মুগ্ধ। এর প্রতি একটা গভীর প্রেম, ভালোবাসা, সখ্য হয়ে গেছে। অনেকটা অন্ধ প্রেম বা ভালোবাসার মত। এমন ভালোবাসার একটি প্রতিষ্ঠানের ভালো-মন্দ দিক নিয়ে কিছু লেখা বা বলা সত্যিই খুব কঠিন। তারপরও সম্পাদকের আদেশ এবং তাড়া লিখতে হবে।
আমার কাছে মনে হয়েছে, দেশের হাজারো অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। যেগুলোর বেশিরভাগই দৈনন্দিন সংবাদ ভিত্তিক। ঘটনা-দুর্ঘটনার খবরই যেগুলোতে বেশি থাকে। সেই দিক বিবেচনা করলে এসব পোর্টালের কাছ থেকে রুচি সম্পন্ন, নান্দনিক, সৃষ্টিশীল, সব পাঠকের পাঠযোগ্য অনলাইন পাওয়া বেশ দূরূহ। আমার কাছে মনে হয়েছে সেই ঘাটতির জায়গাটায়ই ‘প্রাণের বাংলা’ অনন্য, একক এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বি। অসাধারণ শৈল্পিক উপস্থাপনা, শব্দের গাঁথুনি, নতুন এবং ব্যতিক্রমি কিছু করার প্রত্যয় ফুটে উঠেছে প্রাণের বাংলার পরতে পরতে। ব্যতিক্রমী প্রচ্ছদ প্রতিবেদন, আত্মজৈবনিমূলক নির্বাচিত লেখা দারুন আকৃষ্ট করে।
আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি বেশ পরিপূর্ণ। তারপরও যদি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন লেখা নিয়মিত জায়গা পায় তাহলে ভালো হয়। একই সঙ্গে সফলতার গল্প, সফল মানুষের গল্প, সফল প্রতিষ্ঠানের গল্পও জায়গা পেতে পারে। আরেকটি বিষয় বলে শেষ করতে চাই। নিয়মিত দেখার কারণে যেটা বেশি চোখে পড়ে সেটা হচ্ছে- মাঝে মধ্যেই দেখা যায়, অনেক লেখার ফ্রন্ট ভেঙ্গে গেছে। সেটা ‘জিরো’ তে নিয়ে আসলে খুবই ভাল হয়। সবশেষে বলবো ভালো থাকো প্রিয় ‘প্রাণের বাংলা।’ ভালো থাকো অনন্তকাল…। (সাংবাদিক)

‘প্রাণের বাংলা’র জন্য শুভেচ্ছা

হোমায়েদ ইসহাক মুন

একটা বছর, মানে ৩৬৫দিন। প্রতিটাদিন থেকে একটা একটা দিন যখন আমাদেও জীবন থেকে চলে যায় তখন ব্যাপারটা নিয়ে আমরা আর ভাবিনা। ৩৬৫দিন লম্বা একটা সময় মনে হলেও সার্বিক ভাবে তা কেবল চোখের পলক ফেলার মতই ঘটনা। এইতো ‘প্রাণের বাংলা’-এর যে এক বছর হয়ে গেল তা টের পেলাম প্রিয়ভাজন কলি আপার লেখা দেওয়ার অনুরোধ পেয়ে। আমার কাছে মনে হচ্ছে এই তো সেইদিন প্রাণের এই পএিকার সূচনা হলো। আমার লেখা ছবি ছাপা হলো। আমি আনন্দ চিত্তে সবার সঙ্গে তা ফেইসবুকে প্রচার করলাম। একটা পএিকার এক বছর সময়কাল যেমন অনেক বড় কিছুনা তেমনি এই সময়ে মিডিয়ার দৌরাত্ব আর হাবিজাবি অনলাইন পএিকার ছড়াছড়ির ভিড়ে প্রাণের বাংলা যে সগৌরবে টিকে গেল এটাতো অনেক বড় ব্যাপার। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের পক্ষে এর লেখা ঝোকা নিয়ে বিশ্লেষন করা দূরূহ ব্যাপার। তারপরও বলতে পারি প্রাণের বাংলা এর লেখাগুলো দিয়ে মোটা একটা দাগ টানতে পেরেছে। আর আমার লেখাতে পাঠকেরাও যে একটু মুখ তুলে চোখ বুলিয়েছেন তাতে মনটা আরো তৃপ্ত হয়েছে। আমরা যারা কাগুজে পত্রিকায় কাজ করেছি তাদের যে বিশেষ অনুভূতি হয়,অনলাইন পত্রিকায় সে অনুভূতি অনেকাংশে আসেনা মনে করি, তবে এটা বলতে পারি প্রাণের বাংলায় আমি কাগুজে পত্রিকার একটা স্বাদ পাই। এটা শ্রদ্ধেয় কলি আপার জন্যই সম্ভব হয়েছে। লেখকদেরও তিনি যথার্থ মূল্যায়ন করেছেন। প্রাণের বাংলার এক বছরপূর্তিতে জানাই প্রাণঢালা ভালবাসা। পাঠকরা এতোকিছুর ভিড়ে এখানে চোখ বোলানোর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। তাদের কারনেই এটি সারা পৃথিবী জুড়ে যত বাংলাভাষা-ভাষী মানুষ ছড়িয়ে আছে তাদের প্রাণের কথা বলতে পারবে। আমি সাধারনত ভ্রমণবিষয়ক লেখালেখি করি তাই এই বিষয়ে কিছু আলোকপাত করবো। খুব সুন্দর পরিবেশনায় প্রতি সপ্তাহে ‘দেশে-বিদেশে’ বিভাগে ভ্রমণের লিখাগুলো ছাপা হয়ে থাকে। ভ্রমণবিষয়ক লেখায় তার সাহিত্য আর বর্ণনার সঙ্গে সঙ্গে সেই বিষয়ক ছবিতে সমৃদ্ধ হয়। এ ক্ষেএে ভাল ভাল ছবি দিয়ে পাতাকে পাঠকদের কাছে আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে হবে। ভ্রমণের লেখা যেন আামদের মনে সেই স্থানে যাবার জন্য বাসনা তৈরি করতে পারে। আর ভাল ছবি এর লোভকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ‘প্রাণের বাংলা’ যেন পাঠক আর লেখকদের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন করতে পারে এ শুভ কামনাই করি। (লেখক ও ট্রাভেলার )

আবেগের আলাদা উত্তাপ ছিল বলেই ছাড়াছাড়ি হয়নি আমাদের।

রাহুল পন্ডা, কলকাতা থেকে

প্রাণের বাংলা’-র সংগে আমার পরিচয় গত বছরের মাঝামাঝি, ঢাকার গুলশনে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর। সেদিনের ঘটনার অভিঘাত বহু মানুষের মতো আমাকেও আমূল নাড়িয়ে দিয়ে গিয়েছিল, আকস্মিক যন্ত্রণায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়েই সোশ্যাল সাইটে লিখে ফেলেছিলাম অগোছালো কিছু শব্দমালা। সে লেখাই কীভাবে যেন ছিটকে গিয়ে চোখে পড়েছিল শ্রদ্ধেয় দিদি, কলি আবিদা নাসরিনের। পরে তা ছাপা হয় ‘প্রাণের বাংলা’ সাপ্তাহিকে। এক সঙ্গে পথচলার সেই শুরু। আবেগের আলাদা উত্তাপ ছিল বলেই তারপরে আর ছাড়াছাড়ি হয়নি আমাদের। গত এক বছরে বেশ কিছু লেখালিখি আমি করেছি, অসাধারণ ফটোগ্রাফি আর কোলাজে সেসব পত্রিকার পাতায় সাজিয়ে দিয়েছেন টিম ‘প্রাণের বাংলা’। যেজন্য কলিদি এবং পত্রিকার সংগে যুক্ত প্রত্যেককেই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। এ তো গেল ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসেব। কিন্তু আদত খুশির খবর যেটি, ‘প্রাণের বাংলা’ মার্চের শেষে এক বছরে পা রাখতে চলেছে। অর্থাৎ স্বাবলম্বনের দিকে এক পা এগিয়ে গেল আমাদের প্রিয় সাময়িকী। যে বৈচিত্র্য এবং নিপাট সাবলীলতা নিয়ে পথ চলা শুরু হয়েছিল, তা শিকড়ের নিহিত চাঞ্চল্যে শক্ত মাটি পেল। সময় পেলেই ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটটি উলটে-পালটে দেখি আমি, ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখার লালসা তার অন্যতম কারণ বটে, কিন্তু পত্রিকাটির নিজস্ব আকর্ষণও কম কিছু নয়। ‘আমার শহর’ বলে যে সিরিজটি ক্রমাগত পত্রিকার পাতায় প্রকাশিত হয়ে চলেছে, তার প্রায় সব লেখাই আমি আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। আশ্চর্য অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাঋদ্ধ স্মৃতিচারণগুলি যেকোন পাঠককে মুগ্ধ করে, আঁকড়ে ধরতে ইচ্ছে করে স্বীয় জন্মভূমি, নিজস্ব মফসসলকে। ‘সাহিত্য’ বিভাগটিও একই রকম উৎকর্ষতাকে ধারণ করে। ‘কবির শহর, কবিতার শহর’ শীর্ষক একটি নিবন্ধ পড়েছিলাম কিছুদিন আগে, এমন আশ্চর্য আত্মস্থতা প্রায় চোখে পড়ে না এখন। ফেলুদার পঞ্চাশ বছর ঘিরে কভারস্টোরিটিও একইরকম স্বাদু, সাহিত্যের পাঠকের জন্য নির্ভেজাল আনন্দের দোসর। একঘেয়ে প্রাত্যহিকতার মধ্যে এই স্বতন্ত্র অনুভবগুলি সবসময়ই আলাদা মাত্রা বহন করে আনে, এবং ‘প্রাণের বাংলা’ সেই চেষ্টাই ক্রমাগত করে চলেছে। পরিশেষে এটুকুই বলার, ‘প্রাণের বাংলা’ এগিয়ে চলুক, অনাগত ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ সাফল্য লাভ করুক। হার্দিক ভালোবাসা রইল। (লেখক)

 

প্রাণের বাংলা শুধু একটি ম্যাগাজিন নয়, এটি একটি সুবিশাল গ্রন্থশালা

সম্রাট

কোন দেশ ও জাতি গঠনে সুশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের বিকল্প নেই, একজন আলোকিত মানুষ তখনি আলোকিত হয়ে আলো ছড়ায়, যখন তার আশেপাশের আলোকিত মানুষের সংখ্যা বেড়ে যায়। আলোকিত মানুষই পারে জাতীয় উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখতে। ঠিক তারই ধারাবাহিকতায় ক’জন মানুষের হাত ধরেই ”প্রাণের বাংলা” আর আমার ও পথ চলা। ”প্রাণের বাংলা” শুধু একটি ম্যাগাজিনে (পত্রিকা) নয় এটি একটি সুবিশাল গ্রন্থশালা। যেখানে দেশ, বিদেশ, সাহিত্য, সাস্কৃতি, উদ্যোক্তা, ভ্রমণ, ভোজন, বিনোদন সব কিছুই আছে। আমি আমার পরিচিত, ছোট ভাই ও বন্ধু মহলে আড্ডাস্থলে যখন আলোচনায় কোনো বিষয়ের উত্তর বা কোনো কিছুর জানার জন্য ”প্রাণের বাংলা”র নাম কানে ভেসে আসে তখন সত্যি অনেক ভালোলাগে ও গর্ববোধ হয়। ”প্রাণের বাংলা”র পরিবারের সকলের সঙ্গে, লেখনীর মাধ্যমে থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। ”প্রাণের বাংলা”র ১ম বর্ষ পূর্তিতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুভাকাংখীদের আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ভালোবাসা জানাচ্ছি। (ফটোগ্রাফার ও লেখক)

প্রত্যেক বাঙালীর ভালোবাসার জায়গা প্রাণের বাংলা

সাবরীনা শারমীন বাঁধন

‘প্রাণের বাংলা ‘ দুটি শব্দ কিন্তু এর মধ্যে মায়া আছে, ভালোবাসা আছে,শেকড় আছে। শেকড়ের টান,মায়া আর ভালোবাসা ছাড়া কোন কাজই সুন্দর, প্রাণবন্ত হতে পারে না। কারণ প্রত্যেক বাঙালীর ভালোবাসার জায়গা বাংলায়। ভালোবাসা আর মায়ার সংমিশ্রনেই তৈরী হয়েছে একটি নিউজ পোর্টাল, যার নাম ‘প্রাণের বাংলা’ এবং এটি বাঙালীর ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করেছে। যেকারণে আমার পছন্দের তালিকায় ‘প্রাণের বাংলা’। এই পোড়া দেশে,ঘুনে ধরা সমাজে, চারিদিকের অস্থিরতায় এক পশলা বৃষ্টির মতই এই পোর্টালটি। কারণ এখানে দেশ-বিদেশের খবর, রকমারি রান্না,ফ্যাশন থেকে শুরু করে গল্প বা ভ্রমন কাহিনী আছে। আছে ফেসবুক আড্ডাও! আছে প্রতিভাবান, সফল মানুষের জীবনের টুকরো টুকরো গল্প যা পড়ে আমি আনন্দিত হই,আমার মন শান্ত হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি এই পোর্টালটির উপর কৃতজ্ঞ কারণ তারা আমার লেখা ছাপিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন।আমার না বলা কথা,আমার ভালোলাগা তারা ছাপিয়েছেন। আমাকে অনেক গুণী লেখকের পাশে জায়গা করে দিয়েছেন। ধন্যবাদ ‘প্রাণের বাংলা’। ধন্যবাদ সম্পাদক কলি আবিদা নাসরিন ও গোটা টিমকে। তাদের পরিশ্রম ও সততা সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামী ২৭ মার্চ “প্রাণের বাংলা’র ” এক বছর পূর্ণ হওয়া উপলক্ষে অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা। সততা ও নির্ভীকতা তাদের চলার পথকে মসৃন করবে । (লেখক) 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com