ভালোবাসা আদপেই আর হবে না বেহাত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লুৎফুল হোসেন

জীবনটাইতো ভুলে ভরা । প্রেম তো জীবনের নিষ্ঠুরতম ভুলগুলোর একটি বৈ অন্য কিছু নয় । আর ভালোবাসা তো এমন এক উন্মাতাল ঝড়, যা বয়ে যাবার পর প্রতিটি দৃষ্টিপাতে স্মৃতিষ্মান আতীত কেবলি বুকের নদীতে মুহুর্মুহু হাহাকারের বাণ ডেকে যায় । বিধ্বংসী হাওয়ায় সব উড়িয়ে না নিলে তাকে আর ঝড় বলা যায় কি !
প্রকৃত প্রেম মানুষকে সত্যিকার অর্থে নিঃস্ব করে দেয় । তা না হলে পরে বুঝতে হবে তাতে লাগাম পরানো আছে, তাতে যোগ-বিয়োগের অংক কষা আছে, তাতে নির্ভেজাল কিছু জালিয়াতি আছে ! এ যুগে হায়, কেউ কি আর নিঃস্ব হতে চায় !
প্রকৃত প্রেম আজ তাই জলের অভাবে প্রাণ হারানো লতা গুল্মের মতোন নিষ্প্রভতায় বিলীন হয়ে যায় যায় ! এর মাঝে ক’টা দিন হয়তোবা তার শোভা-সুরভি কারো মনে কিয়দ জীবনের রঙ লাগিয়ে দিয়ে যায় … ওটুকুতে কি আর প্রেম তার মমি হওয়া শরীরে প্রাণ ফিরে পায় !

সত্যিকারের প্রেম খুঁজতে আজ তাই আমাদের সাহিত্য পুরান আর প্রত্নতাত্বিকের কাছে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই !!!
দখিনা হাওয়ায় মন উচাটন । উত্তুরে হাওয়া হলে চন-মন । মনটাকে সামলে রাখা বড়ই দায় । এর ভেতরের জিহবাটা বড্ড বেশী লকলকে । এক্কেবারে বেদম বেহায়া । বয়সটা যে বাড়ছে মনকে তা বোঝাবে এমন সাধ্যি কার ! এই যদি চাঁদ দেখে বিচলিত হই তো রূপালী আলোয় থমকে থাকি ! জলের শব্দে মূর্ছা যাই তো, বৃষ্টি পতনে আপনি নিপতনে সিদ্ধ মন। নূপুর কিংবা কংকণ ঝন-ঝন ! সহস্র মৃত্যুতে সহসা নিমগ্ন ভ্রমন !

এই যে সকাল দুপুর রাত ইচ্ছামৃত্যুতে জাগি নিত্য প্রভাত ! এর এতোটুকু কি পারি তাকে / তোমাকে / আপনাকে কিয়দ শুধাতে ! ইচ্ছেরা খোসা ভেঙ্গে বেরিয়ে … মথ … ডানাদুর্মর … গুটিয়ে পুনরায় ডিম্বানু-শুক্রাশয় । ইচ্ছের মৃত্যুগুলো প্রতিদিন একটু একটু করে আমাকেও মেরে রেখে যায় ! আমাকে বাঁচাবে এমন ইচ্ছামৃত্যুর হাত থেকে … জগতে আছে কে সহায় !

এই সেদিন ইচ্ছে করছিলো নীল শাড়ী শ্রাবণ জলে ভিজে কতোটা একাকার হয়, হাত ছুঁয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অপলক দেখবো । পেরেছি কি ! ঘাসের গালিচায় শুয়ে, সবুজের অবাক প্রাণবন্ত বাটিকে প্রগলভ মানুষ আর প্রান্তরের গায়ে মিলেমিশে যাওয়া জলজ্যান্ত তোমাকে অকস্মাৎ হারিয়ে, ভীষণ খুঁজবো । কান্তজীর দেয়ালে মিশে যাওয়া মেটে রঙ্গা মোলায়েম মসলিনে মেলাবো হেঁয়ালীর আঁকিবুকিতে লুকোনো তোমার ছবি । একটাও পারিনি । পেরেছি কি !

ভেবেছিলাম হাজার পাতায় লেখা চিঠি পোস্ট করতে গিয়ে জিপিওতে বাধাবো তুমুল হট্টগোল । ভাবনাগুলো আসলেই বড্ড আবোল তাবোল । বিরক্ত পোস্ট মাস্টার ডেকে বলবেন, ‘ভুল জায়গায় এসেছেন আপনি’ ।

তাহলে যাবোটা কোথায় ! কোথায় আমার আদত গন্তব্য ! তা কি আদৌ জেনেছি অদ্যাবধি !

আদা-রসুন-লংকায় খেয়েছে কয়েক শতাব্দী । বেতন-বাড়ীভাড়া, ইস্কুল-শিক্ষক, ডাক্তার-কবিরাজ, পথ্য আর ভীড়ময় ফুটপাথ – অলৌকিক দীর্ঘস্বাস সব কিছু মিলে আমাকে করেছে তুমুল লন্ডভন্ডে ভীষণ একাকার । এভাবে আরো ক’শতাব্দী পরে আমার মমিরা যখন জেনিফার লোপেজের প্রেমে পড়ে তখন মেরিলিন তীব্র হাসফাঁস করে অথচ বেঁচে থাকতে মন্দিরের দেয়াল কিংবা দিব্য সাক্ষী রমনার বটের শাখা, ওরাও একটুখানি ছুঁয়ে যায়নি এ হাত। মাঝে শুধু জীবনের সবটুকু সময় অনন্য অবহেলায় হয়েছে বেহাত।

কাল সকালেই ঠিক নিশ্চিত জেনো আমি চেপে ধরবো ভালোবাসার হাত । ভালোবাসি কথাটা বলতে উগড়ে দেবো শহর কাঁপানো সুতীব্র চিৎকার । আমি তো এ যুগের নই যে হিসেবের বেড়াজাল মেপে বুঝে বারাধি বার নিজেকে করবো দ্বিধাহীন উজাড় ! পুনঃ পুনঃ অপেক্ষা আর প্রাপ্তির দোলাচলে দুলবো সে আমি নই । এক বিন্দুও নই । মনে রেখো কালই শেষ সকাল ভালোবাসা আদপেই আর হবে না বেহাত।

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com