ভরা বর্ষায় রাজশাহী ক্যাডেট কলেজে…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

নাজবুল এইস খান

তিরিশ বছর আগে ১৩ আগস্ট রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে পাস করে বেরিয়েছিলাম। তার আগের সপ্তাহে, এক মধ্যরাতে কয়েকজন বন্ধু মিলে কলেজ বাউন্ডারির পেরিয়ে পদ্মার পাড়ে। ছয় বছরের কলেজ জীবনে প্রথমবারের মতো শৃঙ্খলা ভেঙে বাউন্ডারির বাইরে। খালিদ হাউসের হাউস প্রিফেক্ট হিসেবে শৃঙ্খলার পরাকাষ্ঠা, তার ওপরে আমার মেজো ভাই রাজশাহী  ক্যাডেট কলেজে শৃঙ্খলার একটা উদাহরণ ছিলেন। কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের ডেমোনেস্ট্রেটর আব্দুল হাকিম স্যার একবার আমাকে বলেছিলেন, হান্নান কে গার্ড থেকে অধ্যক্ষ পর্যন্ত সবাই পছন্দ করতেন। “মনে রেখো তুমি তার ভাই” । কৈশোর উদযাপনে অতি সতর্ক ছিলাম। অতি নিয়মানুবর্তি, পরোপকারে সদা তৎপর মেজো ভাই এবার ফ্লোরিডাতে সিটি ইলেকশনে লড়ছেন। ।

যাহোক, ৩০ বছর আগের সেই রাতে আকাশে চাঁদ ছিলো, ভরা পদ্মার পাড়ে বন্ধু ইসলাম, শাহাব অনেকগুলো গান গেয়েছিলো। কৃষ্ণচূড়া গাছের নীচে গেয়েছিলো – এই সেই কৃষ্ণচূড়া। কৃষ্ণচূড়া গুলো আর নেই তার জায়গায় সুন্দর সাজানো আমবাগান দাঁড়িয়ে আছে। সেই রাতে সঙ্গে রকিব ছিলো। আরেকজন কে ছিলো মনে পরেনা। রুমে ফিরে ডায়েরি লিখেছিলাম। অনেক দিন বাদে, এক ঘটনায় সেই ডায়েরির পাতাটা শাহাবকে ছিঁড়ে পাঠিয়েছিলাম। ও আর ফেরত পাঠায়নি। ১২ বছর ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করে হঠাৎ চিকিৎসা শাস্ত্রে পড়াশোনা করে ফ্লোরিডাতে এখন সে বেশ বড় ডাক্তার। বছর কয়েক আগে ফ্লোরিডাতে গেলেও ওর সঙ্গে দেখা হয়নি। ইসলাম এবং রকিব এর সঙ্গে দেখা হয় প্রায়শ।

ক্যাডেট কলেজ থেকে পাশ করার পর প্রথমবার reunion এ যাই ২০০২ এ। তারপর থেকে ২০০৬, ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২০ সবগুলোতেই সপরিবারে অংশ নিয়েছি। কিন্তু ভরা বর্ষায় আর কখনোই ক্যাম্পাসে ফেরা হয়নি।

আজ সকালে, বাউন্ডারি ভিতরে ঢোকার ইচ্ছে ছিলো না! শুধু বিল্ডিং, সবুজ প্রান্তর যথেষ্ট না। হুইসেল, বুটের শব্দ, দলবেঁধে দৌড়ানোর সময় কেডসের হুপ্ হুপ্ আওয়াজ, নিদেনপক্ষে অনেক কিশোরের কিচিরমিচির। খাঁ খাঁ প্রান্তর হাহাকার জাগাবে।

শেষ অব্দি উঁকি না দিয়ে পারলাম না। যথেষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে মেইন গেইট পেরোলাম। স্মার্ট সিকিউরিটি গার্ড মনের মাধুরী দিয়ে কিছু ছবি তুলে দিলো।

ভেবেছিলাম, একদৌড়ে একদিন রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের ক্যাম্পাসে যাবো। কথা ছিলো পানসি সঙ্গে সাইকেল নিয়ে যাবে। ভোরে পানসির গড়িমসি দেখে সাইকেল নিয়ে একাই বেরিয়ে গেলাম। সময় ফিরে আসেনা। অন্তত ভরা বর্ষা আবার পাবো কিনা কে জানে! যেমন গেট থেকে ঢোকার পর অনেক দূর অব্দি বটলব্রাশ গাছগুলো আর নেই। জায়গা করে নিয়েছে অন্য কোন গাছ। ভেজা সবুজ মখমলে পা ছড়িয়ে বসলাম অনেকটা সময়।

যাওয়া-আসা ৩৭ কিলোমিটার!

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com