ব্যস্ত নাট্যকার জাকির হোসেন উজ্জ্বল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জাকির হোসেন উজ্জ্বল এসময়ের একজন জনপ্রিয় নাট্যকার। বউচোর, ডাক্তার জামাই, বন্ধু আমরা তিনজন, প্রেমপাগল, বৌ পাগল, ভন্ড প্রেমিক, ভন্ড ডাক্তার, সুইসাইড সাইফুল, প্রীতি ও শুভেচ্ছা, বোকা খোকা, জামাই শশুর, ছেঁড়াপাল, সামান্তার জন্য অর্কিড এরকম অসংখ্য দর্শক প্রিয় নাটকের রচয়িতা তিনি।এখন একই সঙ্গে বিভিন্ন চ্যানেলে চলছে তার তিনটি ধারাবাহিক নাটক।নাটকগুলো হচ্ছে ভ্যাগাবন্ড, রাজু ৪২০ ও শূণ্যতায়।  নাটক ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে কথা হয় প্রাণের বাংলার।

প্রাণের বাংলা: কেমন আছেন?

: ভাল।

প্রাণের বাংলা: বর্তমানে একইসঙ্গে আপনার তিনটা ধারাবাহিক নাটক চলছে।এই বিষয়ে আপনার কি অনুভূতি।

: অনুভূতি অবশ্যই সুখকর।সপ্তাহের প্রতিদিনই আমার নাটক আছে ভাবতে ভাল লাগে।

প্রাণের বাংলা: এত নাটক একসঙ্গে লিখতে অসুবিধা হয় না?

:পরিকল্পনা করে লিখলে অসুবিধা হয় না। তবে আমি কখনোই চাইনি একসঙ্গে আমার এতগুলি ধারাবাহিক নাটক চলুক।এটা আসলে হয়ে গেছে।আর আমি যেহেতু লেখালেখি ছাড়া আপাতত অন্যকিছুই করছি না তাই সেরকম কোন সমস্যা হচ্ছে না।

প্রাণের বাংলা: তিনটি নাটক সম্পর্কে যদি বলেন..

:বিষয় এবং বৈচিত্রে তিনটি নাটক সম্পূর্ণ তিন রকমের।তিনটি নাটকের গল্পের মধ্যেই ভিন্নতা আছে।চমক আছে।

প্রাণের বাংলা: বাংলাভিশনে প্রচারিত হচ্ছে ভ্যাগাবন্ড। ভ্যাগাবন্ড নাটকটি কেমন?

:‘ভ্যাগাবন্ড’ নাটকটি পরিচালনা করেছেন জাহিদ হাসান ভাই।ভ্যাগাবন্ডের কনসেপ্ট যখন আমার মাথায় আসে তখনই আমি জাহিদ ভাইয়ের সঙ্গে শেয়ার করি।বাংলাভিশণে সে সময় তার অন্য একটি নাটক শুরু করার কথা ছিল তিনি সেটা বাদ দিয়ে ভ্যাগাবন্ড শুরু করেন।নাটকে জাহিদ ভাই যে চরিত্রটিতে অভিনয় করছেন তার নাম পুলক। বাস্তবে জাহিদ ভাইয়ের ডাক নামও পুলক।নাটকের নাম শুনলেই বোঝা যায় একটা ভবঘুরে টাইপের চরিত্র।যে ভবঘুরে স্বভাবটা আমাদের অনেকের মধ্যেই আছে।গল্পের প্রয়োজনে সে বিভিন্ন যায়গায় যায়, বিচিত্র সব মানুষের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।বিশ্ববিদ্যালয়ের সবোর্চ্চ ডিগ্রি নিয়েও যে সার্টিফিকেটগুলো পুড়িয়ে দেয় কিছু করবে না বলে। কিন্তু তার ভেতরে বাস করে একজন সত্যিকারে মানুষ। যে সবসময় চেষ্টা করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দাঁড়ায়ও।

প্রাণের বাংলা: জাহিদ হাসানের পরিচালনায় রাজু ৪২০ চলছে এটিএন বাংলায়।এই নাটক সম্পর্কে যদি কিছু বলতেন।

: এই নাটকেও নাম ভুমিকায় অভিনয় করেছেন জাহিদ ভাই।একজন প্রতারক।চোর, বাটপার, পুলিশ অফিসার, ম্যাজিষ্টেট, ঘটক, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, এমপি, মন্ত্রী পযর্ন্ত বিভিন্ন চরিত্রে দেখা যাবে তাকে।ইতিমধ্যে নাটকটিতে এই পযর্ন্ত ১৪/১৫টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সামনে আরো অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করবেন।তবে নাটকের মধ্যেই তিনি এই চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন প্রতারণার কৌশল হিসাবে। তাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে তার দল।এদের নিয়েই তিনি একটার পর একটা পরিকল্পনা করে এগিয়ে যান।

প্রাণের বাংলা: এটি কি নেগেটিভ চরিত্র?

: আপাতদৃষ্টিতে তাই।কিন্তু এই নাটকটি যারা দেখছেন তারা জানেন রাজু কখনোই কোন সৎ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেনি।একজন ঘুষখোর সরকারী কর্মকর্তা একজন অবৈধ চোরাকারবারী, একজন প্রতারক আদম ব্যাপারী, একজন পালাতক খুনি, একজন চাঁদাবাজ, এবং মিথ্যুক এনজিও‘র মালিক, অসৎ ঠিকাদার, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকারী, ধর্ষক ও অবৈধ স্বর্ণ ব্যবসায়ী সহ সমাজের বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত রাজু তাদের টার্গেট করে।কেন করে সেটা গল্পের সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে।

প্রাণের বাংলা: তাহলেতো এই নাটক দু’টো করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়।

: তা হওয়ার কথা কিন্তু সবকিছু একটা পরিকল্পনার মধ্যে থাকে বলে সেটা বোঝা যায় না। এই দুটো নাটক নিয়েই জাহিদ ভাইকে বিভিন্ন যায়গায় যেতে হয়।বার বার লোকেশন পরিবর্তন করতে হয়। রাজু ৪২০ নাটকে একজন পালাতক খুনিকে ধরতে নেপাল ঘুরে আসতে হয়েছে।গল্পের প্রয়োজনে জাহিদ ভাই ছাড় দিতে রাজী নয়।ভবিষ্যতে আরো অনেক যায়গায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে।

প্রাণের বাংলা: আপনার এই দুটো নাটকই জনপ্রিয়তা পেয়েছে।গল্পের বৈচিত্রই কি এর মূল কারণ?

: গল্প অবশ্যই অন্যতম কারণ তবে একমাত্র না।দুটো নাটকে নাম ভুমিকায় বা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন জাহিদ ভাই।তার অভিনয় তার একাগ্রতা এবং পরিচালনা অবশ্যই বড় ফ্যাক্টর।পাশাপাশি নাটক দুটোতে যারা কাজ করছে প্রত্যেই অনেক কষ্ট করছেন।জাহিদ ভাইয়ের পাশাপাশি তার টিমে যারা অভিনয় করেছে প্রত্যেককেই প্রতিবারই নতুন নতুন গেটআপ নিতে হচ্ছে।সবাই মজা করে কাজটা করছে বলেই পর্দায় আমরা একটা ভাল নাটক দেখতে পাচ্ছি।

প্রাণের বাংলা: দুটো নাটকের জন্যতো আপনাকেও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গল্প ভাবতে হচ্ছে।

: সেটাই আমার কাজ।মনে হচ্ছে এ পযর্ন্ত কাজটা ঠিকঠাক ভাবেই করতে পেরেছি।

প্রাণের বাংলা: সম্প্রতি এটিএন বাংলায় শুরু হয়েছে আরেকটি ধারাবাহিক নাটক ‘শূণ্যতায়’।এই নাটক নিয়ে কিছু বলেন।

: শূণ্যতায়।পারিবারিক গল্প।একটি মধ্যবিত্ত পরিবার আর উচ্চবিত্ত এক ব্যবসায়ীকে ঘিরে গল্পটার শুরু।মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে সখের সঙ্গে বিয়ে হয় উচ্চবিত্ত ব্যবসায়ী শহীদুজ্জামান সেলিম ভাইয়ের। দুজনের বয়সের অনেক ব্যবধান।কিন্তু সখ ভালবাসে নিলয়কে। বিয়ের পরদিনই সে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালায়।আর নিজের সম্মানের কথা চিন্তা করে সেলিম ভাই নিজের বৌকে খুঁজে আনতে চেষ্টা করেন। নাটকটি পরিচালনা করছে মনিরুজ্জামান মনির।ডিরেক্টর হিসাবে ও অনেক দক্ষ এবং পরিশ্রমী।নাটকটি প্রচার শুরু হওয়ার পর থেকেই আমি অনেক সাড়া পাচ্ছি।আশা করি এই নাটকটিও দর্শক হৃদয়ে দাগ কাটতে সক্ষম হবে।

প্রাণের বাংলা: সম্প্রতি আপনি একটি চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্ট লিখেছেন।

:হ্যা।চলচ্চিত্রটির নাম ‘ধূসর কুয়াশা’।চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন খ্যাতিমান পরিচাল উত্তম আকাশ।আমার সঙ্গে আসলে প্রথম যোগাযোগ করেন মুন্না।মুন্না এই চলচ্চিত্রের নবাগত নায়ক ও প্রডিউসার।সিনেমার এই সঙ্কটকালে এমন একজন ডেডিকেটেড হিরো আমাকে আশাবাদী করে তুলেছে।আগামী ঈদের পর চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাবে।আশা করি দর্শক একটা ভাল কিছু উপহার পাবে।

প্রাণের বাংলা: ঈদের প্রসঙ্গ চলে এলো। ঈদের জন্য কি করছেন?

: আসলে সত্যি কথা বলতে ধারাবাহিক নাটক নিয়ে এত ব্যস্ত থাকার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও এবার অনেক ডিরেক্টরকে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে।জাহিদ ভাই এর মধ্যে মিঃজ্যাকস এবং লাল গালিচা নামে দুটো নাটক বানিয়েছেন।ডিরেক্টর জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বানিয়েছেন নাটক ‘ভালবাসি তাই’।মিনহাজুল ইসলাম বানিয়েছেন, ‘কাজীর সাথে কারসাজী’ মুসাফির রনি বানিয়েছে টেলিফিল্ম ‘ইচ্ছে হলে ছুঁতে পারি তোমার অভিমান’ জামাল মল্লিকের বৌ-শাশুরী জিন্দাবাদ, সূর্য আহমেদ বানিয়েছে, ‘ভায়রা ভাই’ এছাড়া আরো দুই-তিনটা নাটক বনানোর কথা আছে।

প্রাণের বাংলা: একটা প্রশ্ন প্রায়ই শোনা যায়, আমাদের নাটকের মান কমছে এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?

: দেখেন এখন দেশে এতগুলি চ্যানেল ।সারা বছর এতগুলো নাটক হয়।সব নাটক যে ভাল হবে তেমনটা আশা করাটাওতো ভুল।শতশত নাটকের মধ্যে কিছু নাটকের মান হয়তো খারাপ হতেই পারে তাই বলে গণহারে নাটক খারাপ হচ্ছে এটা বলে দেয়া ভুল।আমি কথাটা বললাম কারণ আমি এই কথাটার সবসময়ই প্রতিবাদ করে আসছি।আর যারা গণহারে বলছে আমাদের নাটকের মান খারাপ আমার বিশ্বাস তারা আমাদের নাটক দেখেনই না। না দেখে সরাসরি এমন একটা নেগেটিভ বার্তা ছড়িয়ে দেয়া অন্যায়।নাটক তৈরীর প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি যেহেতু সম্পৃক্ত আমি জানি একটা নাটক তৈরী করতে একজন ডিরেক্টরকে কতটা পরিশ্রম করতে হয়।আমাদের নাটকের জন্য এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা বাজেট। সীমিত বাজেটের মধ্যে থেকেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে একজন ডিরেক্টর যে নাটকটা বানাচ্ছে সেটাতে তাকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।এখন আমরা যদি আমাদের দেড়-দুই লাখ টাকার নাটকের সঙ্গে দশলাখ টাকার নাটকেরও তুলনা করি সেটা হবে অযৌক্তিক।আমরা আসলে টেলিভিশনের পর্দায় হলিউড-বলিউডের ফিল্ম দেখে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।নাটকের কি সাধ্য ওসবের সঙ্গে কম্পিটিশন করে? তাই আমার মতে নাটক ভালই হচ্ছে।আমরা একটা নেগেটিভ প্রচারণার মধ্যে আছি তাই দর্শক বিমূখ হচ্ছে।

প্রাণের বাংলা: তাহলে আমাদের নাটক দর্শক কম দেখছে কেন বলে মনে করেন?

: বিজ্ঞাপন। আমাদের নাটকের দর্শক কমে যাওয়ার প্রধাণ কারণ হচ্ছে বিজ্ঞাপন।২০ মিনিটের একটা নাটকে যদি ২৫ মিনিট বিজ্ঞাপন দেয় দর্শক তাহলে কিভাবে নাটকটা দেখবে? এত ধৈর্য কি কারো আছে?বিভিন্ন ভাবে আমরা এই কথাটা বোঝাতে চেষ্টা করছি কিন্তু কেউ কর্ণপাত করছে না।ফলে সমস্যাটা থেকেই যাচ্ছে।

প্রাণের বাংলা: এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ কি বলে মনে করেন?

:চ্যানেলগুলোকে অবশ্যই বিজ্ঞাপনের বিকল্প চিন্তা করতে হবে। আমরা চাই বাংলাদেশের প্রতিটা চ্যানেল পে-চ্যানেল হোক।দর্শক যখন টাকা দিয়ে তার চ্যানেলটা দেখবে তখন যে কোন অনুষ্ঠানের মানও অটোমেটিক ভাল হবে।

প্রাণের বাংলা: আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা বলেন।

: লেখালেখির বাইরে আমার তেমন কোন পরিকল্পনা নাই।যতদিন বেঁচে থাকবো লিখে যেতে চাই।

প্রাণের বাংলা: আপনাকে ধন্যবাদ।

: আপনাকেও ধন্যবাদ।ধন্যবাদ আমার নাটকের দর্শকদের।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com