বৈশাখের কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শ্যামল জাকারিয়া

বৈশাখের ভালোবাসা

১.
যে যাই বলে বলুক।
বলুক, তোমার ভালোবাসা এক চোরাবালি।
বলুক- ওখানে যাসনে,
‘ডুবে মরবি’। কার কি তাতে ?
ওখানে ডুবে মরবো বলেইতো-
আমি জন্মেছি।
ওখানে ডুবে মরবো বলেইতো-
অনন্তকাল ধরে আমি কেবল
তোমার দিকেই আসছি।
আম কুড়ানোর সুখের মতো-
কবিতা কুড়াতে কুড়াতে আমিতো-
কেবল তোমাতেই নিমগ্ন।
কেউ কি জানে-
তুমি আমার সমাধির মতো সত‍্য
শেষ কবিতা।
তোমার প্রানের গহীন গভীরে
আমি লুকিয়ে রাখি-
আমার সকল পরাজয়, অভিমান সমূহ।
তোমার চোরাবালিতে ডুবে মরে-
আমি যে শুদ্ধ হই, সজীব হই,
কেউ কি জানে!
আমার সকল অক্ষমতা চোরাবালির
নিবিড় ছোঁয়ায়- নতূন করে গান গায়,
কেউ কি জানে!
আমি তোমার ওষ্ঠে স্থাপন করি
পৃথিবীর সেরা স্থাপত‍্যকলা,
তোমার দেহের নিগূঢ় ভাঁজে-
সাজাই আমি স্বপ্ন বাসর,
কেউ কি জানে!
জানুক তবে-
তোমার ভালোবাসার চোরাবালিতে
ডুবে মরতে মরতে-
আমি বারবার বেঁচে উঠি।
তোমাতেই কুঁকড়ে থেকে আমি তৃপ্ত !
তোমাতেই ভিজে ভিজে আমি সিক্ত !
তোমাতেই জ্বলে জ্বলে আলোকিত !
তোমাতেই লিপিবদ্ধ আমার ইতিহাস !

২.
চোখের ভিতর একটি গোপন ব‍্যক্তিগত চক্ষু থাকে
গোপন চোখের দুষ্টমীতে আরেকটি চোখ দুষ্ট কাঁপে
শান্ত নদীর জলের ঢেউয়ে হলুদ পাতা ভাসতে থাকে
চলিষ্ণু ঐ মেঘের ডানা আমায় কেবল নিবিড় ডাকে
চোখের ভিতর একটি গোপন ব‍্যক্তিগত চক্ষু থাকে।
ঠোঁটের ভেতর একটিগোপন অপেক্ষমান আদিম থাকে
আদিম ঠোঁটের নির্জনতায় অস্থিরতা ভীষন কাঁপে
কম্পমান ঐ ঠোঁটের কোণে একটি ব‍্যাধি বিপুল জাগে
আস্তে ধীরে প্রাচীন ব‍্যাধি বিশাল পাহাড় গড়তে থাকে
ঠোঁটের ভেতর একটিগোপন অপেক্ষমান আদিম থাকে।
বুকের ভিতর একটি গোপন নির্জলা এক হৃদয় থাকে
সেই হৃদয়ে তোমার ভূগোল একটি মানুষ নিপুন আঁকে
একলা রোদে একলা বসে সারাটা দিন আগলে রাখে
রাত্রি গাঢ় হ’লে পরে বুকের ভেতর ভাঙতে থাকে
বুকের ভিতর একটি গোপন নির্জলা এক হৃদয় থাকে।

 

লুৎফুল হোসেন

তয় থাক
সোহাগের চান তারা অহনো দেহোনাই,
দেহোনাই গাঙের পাড়ে একলা হিজল গাছ,
তার ডালে জাদুটোনায় সুর বান্ধা
সুরমা রঙা স্বপ্নবোনা পাখিরে;
দেহোনাই হাইজ লাগা আন্ধাইরে
চাকের মৌমাছির লাহান জোনাকি
কেমনে পাগলা হয় মরণের লাগি,
বেহুশ উড়াল দ্যায় আগুন কিনারে।
তবু তুমি ভাব লও দেখছো বেবাক,
দুইন্যার আসমান জমিন নদী গাঙ।
দেখছো খালি মানুষ, জীবনের রঙ
ছোঁওনের খায়েশে যে উড়াল দ্যায় –
ঘর-দাওয়া দুইন্যা ছাইড়া, স্বপনের
আসমান ছুঁইয়া।  দেহোনাই আমারে
আন্ধাইর রাইতে টিমটিমা কুপির
নাচুনি আগুন কিনারে, দেহোনাই ঝুম
বাদলায় চুপচুপা ভিজা গতরে।
দুইখান চক্ষের দিকে চাইয়া হইলা
জন্মের বেতালা পাগলা মরদ।
সেই তুমি কও খালি দেখছো বেবাক !
মনে লয় চিক্কুর দিয়া কই, ‘তয় থাক’।

আগুন সমুদ্র

নিজের দিকে তাকাইলে মনে হয় শীতের সকাল
সবকিছু দেখা যায় কেমন আন্ধার আন্ধার;
বুকের বাগান থিকা আগুনের হাপ
কথা কয় নিরালায়, কথা না, কথার ভাপ –
চারিদিকে ভাসে তার মেঘের আলাপ;
মনে লয় এমতেই কাটবো জীবন, অ-ন-ন্ত-কাল !

এতোসব বোঝনের দরদ কি কারো আছে !
হাঁইজ নামানি মেঘের লাহান
আসমান ঢাইকা এই যে এমন ভাপ উইঠা আসে,
জানে কেউ ! মেঘের ভিতর কার কলিজার পোড়া গন্ধ ভাসে !
আমি খালি টের পাই – নচ্ছাড় আগুনের দান,
য্যান তারাবাত্তি জ্বলতাছে বেশুমার শরীলে আমার;
আছে কি কেউ, আগুনের ভাষা বোঝে,
বোঝে ছাই ভষ্মের গান, কয়লার লাহা্ন ;
বোঝে বইলা – বোঝনের মতোন খুব
নিকট দূরত্বে আসে ।

তেমন কি আদতেই কেউ নাই –
বুকের ভিতর জল ধরে, ধরে সমুদ্র, মেঘের সমান ধরে আসমান,

যারে আমি দেখামু আমার বুকের ক্ষতখান
দিবো সে নিরাময় অন্তত একখান চুম্বন সমান !

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com