বেঙ্গল বই…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কাওসার চৌধুরি

ঢাকায় প্রথমবারের মত একটি অত্যাধুনিক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হল-‘বেঙ্গল বই’ যার নাম।

এটাকে শুধুমাত্র ‘গ্রন্থাগার’ বলাটা কতখানি যুক্তিসঙ্গত হলো জানিনা; তবে এটা গ্রন্থ-প্রেমিকদের একটি মিলনস্থানে পরিনত হবে ছয়দিনের মাথায়। ছয়দিন বলছি এই কারনে, গতকাল থেকে পাঁচদিনব্যাপি উদ্বোধনী উৎসব দিয়ে শুরু হলো এই মিলনমেলার। সুতরাং ৫ দিন পরে ছয়দিনের মাথায় শুরু হবে ‘নিয়মিত-চরিত্রের’ মিলনমেলা।

গতকাল তো এই ‘বেঙ্গল বই’ বাড়িটিতে ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই অবস্থা!
এমনিতেই বেঙ্গলের যে কোন অনুষ্ঠানেই দর্শকশ্রোতা উপচে পড়ে, সে জায়গায় এই রকম ভিন্নতর একটি আয়োজনে ঢাকার শিল্প-সাহিত্যের সেবক আর সংস্কৃতিসেবীরা প্রায় ভেঙ্গে পড়েছিল এই বেঙ্গল বই কেন্দ্রে।

কেন্দ্র বলছি ভিন্ন কারনে।
ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের মিনা বাজারের পাশদিয়ে একটুখানি লালমাটিয়ার দিকে এগোলেই একেবারে চোখের সামনে ‘বেঙ্গল বই’! তিনতলা বাড়ির (১/৩ লালমাটিয়া, ব্লক- ডি, ঢাকা-১২০৯) পুরোটা জুড়েই বইয়ের আয়োজন।

বলে নেয়া ভালো-
এখানে শুধু বই বিকি-কিনিই নয় কিন্তু! বইয়ের পাশাপাশি রয়েছে নানান আয়োজন। বিশাল গ্রন্থভাণ্ডার দেখতে দেখতে একটু ক্লান্ত বোধ করছেন; কোন অসুবিধা নেই। প্রতি তলায় রয়েছে আপনার জন্য রকমারী আয়োজন। বেঙ্গল বই এসবের নাম দিয়েছে- বৈঠকখানা, বইয়ের হাট, চা-শিঙাড়া (উনাদের বানান), বারান্দার কফি, খাতাকলম, চিলেকোঠার কাবাব, ইশকুলের বই, আকাশকুসুম!

আসলে ‘বেঙ্গল’তো বেঙ্গলই!
বেঙ্গলের বিকল্প বেঙ্গল একাই। এঁদের সৃষ্টিশীল আইডিয়ার কোন শেষ নেই। বেঙ্গলের নিয়মিত সঙ্গীতানুষ্ঠান, আলোচনা কিংবা চিত্রকলা প্রদর্শনী উপভোগ করেননি কিংবা করেন না- এমন সু-জন ঢাকায় একেবারেই হাতে গোনা! তাঁদের গ্যালারি আর ক্যাফেটি আপাতত পূনর্নির্মানাধীন রয়েছে। ওই ভবন থেকে এই ‘বই-ভবনে’র দূরত্ব মাত্র ২০০ গজ হবে কি-না কে জানে (আমি আবার অংকে কাঁচাই রয়ে গেলাম)!

আসলে এই ভবনের পরিবেশটাই অসাধারণ।
একেবারে নিচের তলায় রয়েছে পুরনো বইয়ের মেলা। এখানে বসে চা-কফি পান করতে করেতেই বই-এ ডুব দিয়ে আপনি ঘুরে আসতে পারেন বিশ্বজগতের যে কোন স্থান থেকে। এসব বই-মেলার বিভিন্ন ‘মেলায়’ কি কি সব যেন আলাদা রকমের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে চারটায় নির্ধারিত সময়েই শুরু হল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
ভবনের বাঁ-পাশের চমৎকার সবুজ চত্বরে শুরু হয় এই অনুষ্ঠান। আগেই বলেছি- অনুষ্ঠানে দর্শক সমাগম ছিলো দেখবার মত। আমিতো একবার ল’ন থেকে ছবি তুলিতো পরেরবার চলে যাই দোতলায়। এরমাঝে আবার বিভিন্নজনের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ। সঙ্গে আবার ‘ওই প্রশ্নের’ উত্তর দেই ‘চুরি-যাওয়া’ জিনিসপত্র আদৌ উদ্ধার হল কিনা!

এরমাঝেই অবশ্য আমার অনেক প্রিয় মানুষের সঙ্গে দেখা হল দীর্ঘদিনের ব্যবধানে।
চুরি-যাওয়া জিনিসের ‘ক্ষত’ চেপে ধরে হাসবার চেষ্টা করি। জীবন আসলে এরকমই! এগুলো ‘জীবনের’ই একটি অংশবিশেষ মাত্র!

উদ্বোধনী-মঞ্চে ছিলেন-
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং ‘বেঙ্গলের প্রাণ’ লুভা নাহিদ চৌধুরী। বেঙ্গল পাবলিকেশনের প্রকাশিত মুক্তিযুদ্ধের ব্যক্তিক আখ্যান- Stories from Edge: Personal Narratives of the liberation War- বইটির মোড়ক উন্মোচনের মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘বেঙ্গল বই’।

বাংলার জয় হোক।
বেঙ্গল বই-এর জয় হোক।
পাড়ায় পাড়ায় গড়ে উঠুক লাইব্রেরী।
ফিরে আসুক আমাদের সেই বই-পড়ার অভ্যাস।

ছবি: লেখক

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com