বেকার হওয়ার মুখে অষ্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীমঃ অবশেষে বেকার হয়ে যাবার শঙ্কার মুখে পড়লেন অস্ট্রেলিয়ার দুই শতাধিক ক্রিকেটার। সিএও ক্রিকেটারদের একগুয়েমি সিদ্ধান্তের ফলে অনিশ্চয়তার শঙ্কায় পড়েছে ১৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী অ্যাসেজ টুর্নামেন্ট এবং স্মিথদের আসন্ন বাংলাদেশ সফর।  অনিশ্চয়তার হাওয়ায় এলোমেলো হয়েছে তাদের ‘এ’ দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, পরে সীমিত ওভারের সিরিজের জন্য ভারত সফরসূচী। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক টেস্ট ওপেনার এড কোয়ান  ২৭ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট সিরিজ শুরুর সম্ভাবনা দেখছেন না । কোয়ান জানান, ‘‘সম্ভবত  ধাক্কাটা যাবে বাংলাদেশ সফরের ওপর দিয়ে। আমার মনে হচ্ছে সিকিউরিটি ইস্যুর পর এবার চুক্তি ইস্যুতে সফরটা হবে না’’।

বোর্ডের সঙ্গে ওয়ার্নারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সই করার শেষ  সময়ের ছিল ৩০ জুন। কোন পক্ষই নমনীয় না হওয়ায় সম্প্রতি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) দেওয়া নতুন চুক্তি প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটার সব ক্রিকেটার। যদিও প্রথম প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা নতুন করে একটা চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল।  অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার ও ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন সেটাও ফিরিয়ে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ডায়ার এরইমধ্যে সাইমন ক্যাটিচ, শেন ওয়াটসনদের সঙ্গে নিয়ে মিডিয়ার সামনে খোলাখুলি কথাটা বলেও দিয়েছেন। তার ভাষ্য, এই সমস্যা সহসা সমাধান হওয়া একেবারেই অসম্ভব।

ডায়ার ভাষায় , ‘এখন দুই পক্ষ দুই দিকে। কিভাবে কি করা যায় তা দেখছি আমরা কিন্তু খেলোয়াড়রা আসলে বেকার হয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ খেলোয়াড়দের বোর্ড আয়ের বড় ভাগ দিলেও নিচের সারির অন্য ক্রিকেটাররা তা পাবেন না। নতুন এই নিয়মে চুক্তি করতে চাইছে সিএ। সেটাতে রাজি নন কোনো ক্রিকেটারই।তাই এই সৃষ্ট জটিলতার সূত্র ধরে স্টিভেন স্মিথ-ডেভিড ওয়ার্নাররা খুব সম্ভবত আজ থেকেই বেকার হতে চলেছেন।

আর এই অচলাবস্থার জন্য এখন প্রশ্ন উঠেছে অস্ট্রেলিয়া দলের আগস্টের বাংলাদেশ সফরের ভবিষ্যত নিয়ে। অষ্ট্রেলিয় সংবাদমাধ্যমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বোর্ডের অনুমতি ছাড়া কোন টুর্নামেন্টে অংশ নিলে নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে আইসিসির নিয়ম অনুসারেই। এই ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড-খেলোয়াড় টানাপড়েনে এবার কিছুটা বেকায়দায় পড়ে গেলেন আন্দোলনকারী খেলোয়াড়েরাই। তবে এখনও খেলোয়াড়দের কোর্টেই বল রেখেছে সিএ। ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত খেলোয়াড়দের চুক্তিতে সাক্ষর করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এই সময়ের মধ্যেও খেলোয়াড়দের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না মিললে কঠিন সিদ্ধান্তে আসতে পারে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে। অবশয জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই হল দেখার বিষয়।

ছবিঃ গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com