বিশ্রামহীনতায় ৬টি সমস্যা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ডা. মিজানুর রহমান কল্লোল

কর্মক্লান্ত দিনের শেষে মানুষের প্রয়োজন হয় একটু বিশ্রামের। বিশ্রাম নিলেই শরীরের কোষগুলো পুনরায় সজীব হয়ে ওঠে প্রস্তুত হয় আরেকটি কর্মমুখর দিনের জন্য। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা ঘুমানোর মাধ্যমে একজন পূর্ণবয়স্ক নারী বা পুরুষ নিতে পারেন সেই বিশ্রামটুকু। ঘুম না এলেও বিছানায় অলসভাবে শুয়ে থেকে শরীরটাকে শিথিল করে নেয়া যায় বিশ্রামে। বিশ্রামের অভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। আমাদের সামাজিক কারণে অনেকে প্রয়োজনীয় বিশ্রামটুকু নিতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে বিশ্রামহীনতায় উদ্ভূত পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবেলা করবেন?
১. মাথাব্যথা
বিশ্রামহীনতায় মাথাব্যথার উদ্রেক হতে পারে। মাথার এক পাশে কিংবা পেছনটায় কিংবা পুরো মাথায় ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা ঘাড়ে কিংবা কাঁধে ছড়িয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় আপনার ঘরটি পুরোপুরি অন্ধকার করে দিন। কিছুক্ষণ শুয়ে থাকুন বিছানায়। তারপর হালকা নাশতা করে ব্যথানাশক ওষুধ যেমন- প্যারাসিটামল খেয়ে নিন। মাথাব্যথার কারণে বমির উদ্রেক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বমিবিরোধী কোনো ওষুধ সেবন করুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘুমাতে যাবেন।
২. অনিদ্রা
বিশ্রামহীনতা থেকে দেখা দিতে পারে অনিদ্রা। অনিদ্রায় যারা ভোগেন তারা বুঝতে পারেন অনিদ্রা কী দুঃসহ যন্ত্রণা! সন্ধ্যার পর চা, কফি কিংবা অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকতে হবে। ধূমপান অবশ্যই বর্জনীয়। রাত ১০টার দিকেই বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করবেন। প্রতিদিন ঘুমানোর সময়টা একটি নির্দিষ্ট ছকে ফেলবেন। ঘুম না এলেও বিছানায় শুয়ে থাকুন। ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাবেন না। হালকা কিছু নাশতা খেয়ে তারপর ঘুমাতে যান।
৩. কোষ্ঠকাঠিন্য
বিশ্রামহীনতায় আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্যে প্রচুর পরিমাণ পানি খেতে হবে আপনাকে। খাবারের তালিকায় যোগ করতে হবে প্রচুর শাক-সবজি। রাতে শোয়ার আগে হালকা গরম দুধ খেতে পারেন। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ খাওয়া ঠিক হবে না।
৪. অনিয়মিত মাসিক
মেয়েদের ক্ষেত্রে বিশ্রাবহীনতার জন্য মাসিকে সমস্যা দেখা দেয়। নির্দিষ্ট সময় অন্তর মাসিক না হয়ে সেটা অনিয়মিত হতে থাকে। কখনো কখনো মাসিক যন্ত্রণাদায়ক হয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে কিছুক্ষণের জন্য পা তুলে শুয়ে থাকতে হবে। চেষ্টা করতে হবে যথেষ্ট পরিমাণে ঘুমানোর। কাজের ফাঁকেও একটু বিশ্রামের সময় খুঁজে নিতে হবে।
৫. অল্পতেই রেগে যাওয়া
বিশ্রামহীনতার ফলে স্নায়ুর ওপর খুব চাপ পড়ে, এতে করে সামান্য কারণে রেগে যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। এ সময় একটা জিনিসেরই প্রয়োজন আপনার। তা হলো- বিশ্রাম এবং বিশ্রাম। কাজের বেশি চাপ থাকলে অফিস থেকে কিছু দিনের জন্য ছুটি নিন। একঘেয়েমি কাটিয়ে ওঠার জন্য বেড়িয়ে আসুন কোথাও। মজার কোনো ছবি দেখুন। বন্ধুদের নিয়ে মেতে উঠুন আড্ডায়।
৬. যৌনমিলনে আশঙ্কা
বিশ্রামের অভাবে যৌনমিলনে এক ধরনের আশঙ্কা দেখা দেয়। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে যায়। সঙ্গীকে ঠিকমতো তৃপ্তি দিতে পারব কিনা- এ ধরনের চিন্তার উদ্রেক হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত ক্লান্তির ফলে যৌনমিলনে অনীহা দেখা দেয়। এ সময় আপনার যথেষ্ট বিশ্রামের প্রয়োজন। নিজের প্রতি আস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজনে যৌনসঙ্গীর সঙ্গে আলাপ করবেন। কেউ কেউ এরকম অবস্থায় অ্যালকোহল পান করতে চান। কিন্তু অ্যালকোহল পরে জটিলতার জন্ম দেয়। যৌনমিলনের আগে এক কাপ কফি পান করতে পারেন। এতে আপনার ক্লান্তি ভাব কেটে যাবে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, অর্থোপেডিকস ও ট্রমাটোলজি বিভাগ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ, ২ ইংলিশ রোড, ঢাকা।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com