বিদায় খোকা ভাই…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোস্তফা ফিরোজ

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

আমেরিকা যাই ১২ সেপ্টেম্বর। পরদিন জ্যকসন হাইটে আলাউদ্দিন হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে যেয়ে হুট করে দেখা। কয়েকজনের ভিতরে বসা একজনের সেই পরিচিত কন্ঠস্বর ‘দিপু কেমন আছো তুমি’। চমকে উঠলাম। কন্ঠ চিনলাম। কিন্তু মানুষটাকেতো চিনতে পারছি না। এটা কোন খোকা ভাই? ২০১৩ সালে ঢাকায় যে খোকা ভাইকে দেখেছিলাম সব সময় খোলামেলা প্রানবন্ত হাসিখুশি মুখে,এখন দেখছি যন্ত্রনা কাতর শুকিয়ে ছোট হয়ে যাওয়া একটি মানুষকে। জানলাম, হাসপাতাল থেকে কেমো থেরাপি দিয়ে এসেছেন। কয়েক বছর থেকে তিনি মরন ব্যাধি ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। চিকিৎসার সময় তার অনুপস্থিতিতে নিম্ন আদালত তাকে সাজা দিয়েছে। আপীল করতে দেশে যাবেন সেই শারীরিক অবস্থা নেই। রাজনৈতিক অবস্থাও প্রতিকূল। খেতে খেতে টুকটাক কথা হচ্ছিল। কিন্তু আমার বুকটা এমন দুমড়ে গিয়েছিল যে ঠিকভাবে কথা বলতে পারছিলাম না। বার বার অতীতের সঙ্গে খোকা ভাইকে মেলানোর চেষ্টা করছিলাম। খাবার শেষে তিনি লাঠিতে ভর করে উঠলেন। বাইরে এসে গাড়ির উঠে সীটে বসতে তার খুবই কষ্ট হচ্ছিলো। মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেলো। ঢাকা ফেরার আগের দিন রাতে গেলাম বাসায়। নিজেই এসে দরজা খুলে দিলেন। বাসায় একা চুপচাপ বসে বসে টিভি দেখছিলেন। দেশের খবর খুঁজছিলেন। তেমন কথা হলো না। আমার কিছু কথা ছিলো বলতে পারলাম না। তার শরীরের অবস্হা দেখে আমার মুখ দিয়ে কথা বের হলো না। বিদায় নেয়ার সময় বললেন, দোয়া করো আমার জন্য। শরীর ভালো না। আর দেখা নাও হতে পারে। এবার চোখ ছল ছল করে উঠলো। খোকা ভাইয়ের কাছ থেকে আমিও সত্যি মনে মনে বিদায় নিয়ে আসলাম। স্বাধীন বাংলাদেশের এমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পরাস্থ করুণ মুখ আর দেখতে চাই না। ভালোবাসার কাছের মানুষ থেকে দূরে থাকাই মনে হয় ভালো। রাজনীতির কথা বাদ দিলাম। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। মুক্তমনা উদার মানুষ, যার সামনে বিএনপিরও সমালোচনা করা যায়। সবার কথা শোনেন। নিজে বলেন কম। সংস্কৃতিমনা ক্রীড়ানুরাগী আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই মানুষটি শুধু রাজনীতির কারনে এভাবে বলি হবেন? একথা ভাবতে ভাবতে ফিরে আসছিলাম। ভাবলাম প্রধানমন্ত্রীকে এসব কথা কিভাবে বলা যায়। তিনি রোহিঙ্গা শরনার্থীদের জন্য জোরালোভাবে কথা বলেছেন। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কেন রাজনৈতিক শরনার্থী হয়ে আমেরিকা থাকবেন? যে দেশটা যুদ্ধ করে স্বাধীন করলেন, সেই দেশটা তার জন্য কেন নিরাপদ হলো না? তিনি মারা গেলে লাশ দেশে আসলে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন, আর জীবিত অবস্থায় নিরাপদে দেশে ফিরে আইনের আশ্রয় নিতে পারবেন না? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খোকা ভাই এখন জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে। তাই রাজনৈতিক বিবেচনা ভুলে গিয়ে আপনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পাশে দাঁড়ান। এতে আপনি আরো সম্মানিত হবেন।
আমেরিকা সফরের অনেক কাহিনী লিখেছি। এতোদিন লিখিনি খোকা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হবার প্রসঙ্গটি। এই জন্য বিবেক যন্ত্রনা দিচ্ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম দেখা হবার বিষয়টি গোপন রাখবো। কি বিপদে আবার পড়ি একথা ভেবে। কিন্তু বিবেকের যন্ত্রনায় তাড়িত হয়ে শেষে এই জবানবন্দী দিলাম।

ছবি: লেখক ফেইসবুক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com