যদি হৃদয়ে লেখ নাম….

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রুদ্রাক্ষ রহমান

নদীতীর থেকে একটু দূরে। গাছ-গাছালির মাঝখান দিয়ে ত্যাড়াব্যাকা হয়ে পথটা চলে গেছে বহুদূরে। সন্ধ্যা নামি নামি করছে। পাখ-পাখালি কোরাস গেয়ে ঘরে ফিরছে। ঠিক এমন মায়াময় সময়ে কোনো এক বাড়ি থেকে হারমোনিয়ামের সুরেলা টানা টানা ধ্বনির সঙ্গে বাতাসে ভেসে আসছে,‘ ললিতা গো, ওকে আজ চলে যেতে বল না/ ও ঘাটে জল আনিতে যাবো না, যাবো না।’
এটা কোনো বানানো কষ্টকল্পনা নয়, একদা এ বাংলার পথে পথে এমন সুরেলা দৃশ্য ছিলো বটে; তখন মধ্যবিত্ত বাঙালির সঙ্গে মান্না দে ছিলেন, হেমন্ত, সন্ধ্যা, গীতা, সতীনাথ, জগন্ময়, ধনঞ্জয়, জটিলেশর, অলিখবন্ধু, পিন্টু, তরুণ, আর কানন দেবীরা ছিলেন। আজ নেই, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে বাঙালির অনেক কিছু।
তারপরও ঝিমধরা দুপুরে কোনো এক রেডিওতে ‘হারানো দিনের গান’ অনুষ্ঠানে যখন বাজ ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, অথবা সে আমার ছোটবোন বড় আদরের ছোটবোন, তখন বিগত যৌবন কেনো এক মধ্যবিত্ত কি একটু স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে না?
সেতারে সুরের ঝংকার তুলছে, অনেকটা সময়। তারপর সেই কণ্ঠ, ‘আমার না যদি থাকে সুর/তোমার আছে তুমি তা দেবে/ তোমার গন্ধহারা ফুল আমার কাছে সুরভি নেবে/ এরই নাম প্রেম।’
বাংলার গন্ডি ছাড়িয়ে হিন্দি সিনেমায়ও তিনি দাপুটে মানুষ। বলা হচ্ছে, হিন্দি সিনেমার শত বছরের ঘটনাময়ভূমিতে তার গাওয়া- শ্রী-৪২০ সিনেমায়, রাজকাপুর-নারগিসের ঠোঁটে, লতাজির সঙ্গে ‘পিয়ার হুয়া ইকরার হুয়া হ্যা/ পিয়ার সে ফির কিয়ো ডরতা হ্যা দিল’- সেরা ১০টি রোমান্টিক গানের মধ্যে একটি। অথবা আনন্দ সিনেমার সেই গানটি- ‘জিনদেগি ক্যায়সে বেহেরি ধায়ে/ কভি হাসায়ে, কাভি ইয়ে রুলায়ে’ সমুদ্রের তট ধরে ম্যাটিনি আইডল রাজেশ খান্নার ঠোঁটে এটা এক ইতিহাস হয়ে রয়েছে।
বাংলা, হিন্দি এবং আরো অনেক ভাষায়, অনেক অনেক গান ছড়িয়ে আছে ভূ-ভারতে এবং প্রযুক্তির কল্যাণে বিশময়। প্রতিদিন তিনি বাজেন। তার গান বাজে।
সময়ের অনিবার্যটানে হয়তো বদলে গেছে অনেক কিছু। ওঠে গেছে ভরা বর্ষায় স্কুলঘরে নাটকের রিহার্সাল, উঠে গেছে বিভিন্ন পার্বণে পাড়ায় পাড়ায় ফাংশান, গানের জলসা; তারপরও তারা রয়ে গেছেন, তারা বাজছেন প্রতিদিন বিভিন্ন মাধ্যমে। কেনো না তাদের ভুলে গেলে পৃথিবী সুরহারা হয়ে যাবে। সেই সুরের মানুষদের একজন, তিনি মহান এক বাঙালি মান্না দে। তিনি গেয়েছেন, ‘যদি কাগজে লেখ নাম কাগজ ছিড়ে যাবে/ পাথরে লেখ নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে/ হৃদয়ে লেখ নাম, সে নাম রয়ে যাবে।’  অন্যকোথাও, অন্য কোনোখানে নয়, তার নাম বাঙালি হৃদয়েই লেখা রয়েছে এবং অবিনশও হয়ে। তিনি মান্না দে। আটানব্বই বছর আগে ১৯১৯ সালের আজকের দিনে তিনি জন্মেছিলেন কলকাতায়। সো, হ্যাপি বার্থ ডে মিস্টার দে, মহান মান্না দে!
 লেখক: গল্পকার

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com