বন্ধু আমরা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কনকচাঁপা শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

সোজা সাপ্টা স্পষ্টবাদীততার জন্যই হোক বা গানের পরিচয়ের কারনেই হোক,বন্ধু আমার বরাবরই কম।মা বলেন তোর ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্যই তোর বন্ধু কম।হতেই পারে।কিন্তু সেই কলকাকলি নতুনকুঁড়ি থেকেই সাবা আমার বন্ধু।গানের রিহার্সাল এর ফাঁকে চুইংগাম বিনিময়, দুল মালা বিনিময় এভাবেই বুঝলাম এই মেয়েটি অন্যদের চেয়ে আলাদা।কত অনুষ্ঠান কত রিহার্সাল করে সময় কাটিয়েছি।একসময় তাকে হারিয়ে ফেললাম।
চুরাশি সালে বাংলাদেশ ব্যাংক এর একটি অনুষ্ঠান এ সাবাকে সহশিল্পী হিসেবে পেলাম।দেখি উজ্জ্বল কমলা ইন্ডিপপ শিল্পীদের মত পোষাকে আশেপাশের সব কিছু রাঙিয়ে বসে আছে।আমাকে দেখেই বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো সেই শিশু বয়সের ভালবাসায়।
এরপর অনেক দিন সামনাসামনি দেখিনি।মেরিল প্রথম আলোর পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠান স্থলে ঢুকবো, সেই একই ভাবে বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর ছাড়েই না।কি শক্তি তার ভালবাসার!
আবার অনেক দিন গ্যপ। ফেসবুকে দেখি আগুনসুন্দরী ঘুরে বেড়ায়।পেয়ে উচ্ছসিত হতেই সাবা রেগে গেলো। উষ্মা দেখিয়ে বকাবকি করছিল বন্ধুকে ভুলে যাওয়ার জন্য! তারপর একসময় শান্ত হয়ে বললো তুই পারিস ও বটে এতো নীরব হয়ে থাকতে।কতগুলা সময় নষ্ট হল বল? টাংগাইল এর ভাষায় বললো বাচুমই আর কয়দিন, এর মধ্যে এতো গ্যাপ দিলে চলবো? আমি হেসে বাঁচিনা!

এরপর ফেসবুকের ইনবক্সে কত কথা,কত দুঃখ শেয়ার! আহা, এই মেয়েটির সঙ্গে কথোপকথনরত উইন্ডোটি আমার হ্যাক হওয়া আইডির সঙ্গে বিলুপ্ত হয়েছে।
জমিদার বংশের কন্যার রূপ আসলেই আগুনের মত ছিল,আত্মমর্যাদা ছিলো জমিদারদের মতই।আর করটিয়ার জমিদারবাড়ির পাশে বয়ে যাওয়া ক্ষীন হয়ে আসা নদীর মতই মন ছিল অসহায়,দুঃখী, কিন্তু স্বচ্ছ, স্পষ্ট, মানবিক এবং বন্ধুবৎসল।
বছর তিনেক আগে আমার বাসায় একটা আনন্দময় দুপুর কাটিয়েছিলাম আমরা,যাওয়ার সময় হাত ধরে অনুরোধ করেছিল,কনক,আসিস কিন্তু আমার বাসায়, যাই যাই করেও যাওয়া হয়নি।এরপর আরো মেলাবার একই অনুরোধ করেছে একই আবদারের সুরে।
আজ শুধু একটি কথাই কানে বাজছে “বাচুমই আর কয়দিন,এতো গ্যাপ দিলে চলবো? আসলেই সাবা,চলে যাওয়ার জন্য, বিশেষ করে তোর মত বহমান নদীর চলে যাওয়ার জন্য উনপঞ্চাশ বছর ভয়ংকর কম সময়!

বন্ধু,আমি তোর কথা রাখতে পারিনি,এই যানজট এর জঞ্জাল মার্কা ঢাকায় থেকে উত্তরা আমার যাওয়া হয়ে ওঠেনি।মাফ করে দিস বন্ধু, দোস্ত আমার! আল্লাহ তোকে তোর বিশাল উদার মনের দামে বেহেস্ত মঞ্জুর করুক।তোর জন্য আমার রোজ রাতের প্রার্থনা। মাফ করে দিস বন্ধু!

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com