ফুলেশ্বরী

  •  
  •  
  •  
  •  
  • 0
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

রাশেদা ফেরদৌস

রাশেদা ফেরদৌস পপি। পেশায় ছিলেন মানুষ গড়ার কারিগর। নিভৃতচারী মিষ্টভাষী মানুষটি সম্প্রতি অবসর নিয়েছেন কাজ থেকে। বন্ধুরা টেনে এনেছেন সাহিত্যের অনলাইন গ্রুপে। লেখাও প্রকাশিত হয়েছে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় সংকলনে। বানান আপা বলে ডাকেন কেউ কেউ শুদ্ধ বানানের প্রতি তাঁর একনিষ্ঠ অনির্ণীত পক্ষপাত দেখে। কিন্তু এসব কিছু ছাপিয়ে তাঁর ধ্যান জ্ঞান ছাদ বাগান ঘিরে। পিবিয়ানদের অনুরোধে প্রাণের বাংলার পোস্টবক্সে তাই ওনাকে পাওয়া যাবে ওনার গাছেদের গল্প নিয়ে।

দুপুরমণির সাতকাহন

দুপুরমণি ফুল এখন
আমার ছাদবাগানে
কী আনন্দ, কী আনন্দ !!

দীর্ঘদিন ধরে এই দুপুরমণি ফুলের বীজ খুঁজে বেড়িয়েছি। অবশেষে এক বন্ধু তার গ্রামের বাড়ি থেকে বীজ এনে দিলেন ।
সেই বীজ সংগ্রহ করে লাগানোর পর চারা আর গজায় না। দুঃখে কলিজা ফাটে। কয়েক দফা বীজ বপনের পর একটা চারার দেখা পেলাম। ধীরে ধীরে পাতা মেলছে, একটু একটু করে চারা বাড়ছে। হুম বুঝলাম দুপুরমণির গাছ বেড়ে উঠছে।
তারপর থেকেই দিন গোণা। একসময় গাছে পিচ্চি পিচ্চি কলি এলো এবং একফাঁকে কলি ফুলে রূপ নিলো আমার অগোচরে।
হঠাৎ ফুল দেখে চমকে উঠলাম,
আমি শুধু তাকিয়েই থাকলাম ।
পরিপূর্ণ টকটকে লাল ফুলটা
কী যে চমৎকার দেখতে !!

চোখের কোণ ভিজে উঠলো আর হুড়মুড় করে চোখের সামনে চলে এল শৈশববেলা।
খুলনার দৌলতপুরের বাসায় ন’বছর বয়সে প্রথম নিজহাতে লাগানো এই দুপুরমনি ফুলের গাছ। ধূসর স্মৃতি…..সম্ভবত শৈশবের সাথী বনানী, শিবানীদের পিসির (বাবলুদের) বাড়ি থেকে চারা এনে লাগিয়েছিলাম। অনেক ফুল ফুটেছিল গাছটাতে। পিচ্চি মিথুনকে(ভাই) কোলে নিয়ে ছবিও ছিলো গাছের পাশে। ছবিটা খুঁজে পাচ্ছি না, দুঃখজনক।
একারণেই বুঝি এই ফুলের প্রতি এত টান অনুভব করি ।
পাবনা ফার্মের বাসাতেও একটা গাছ ছিলো।
ঢাকাতে অনেক খোঁজ করে নিউমার্কেটে হঠাৎ দুপুরমণি গাছের দেখা পেয়েছিলাম। তখন নিউমার্কেটে দোকানগুলোর সামনে টানা বারান্দার নিচে ড্রেনের পাশ দিয়ে কিছু গাছ লাগানো থাকতো । ওখান থেকে বীজ সংগ্রহ করেছিলাম কিন্তু চারার দেখা পাইনি। কী কারণে কী জানি…….?
এর অনেক পরে দুপুরমণির দেখা পেয়েছিলাম বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরের ভিতরে পুকুরপাড়ে। বেশ বড় একটা গাছে প্রচুর ফুল ফুটে আছে। দেখে তো আমার মাথা নষ্ট– হুম পুরাই নষ্ট…..
পুকুরপাড় আবার কাঁটাতারের বেষ্টনীতে বেষ্টিত ছিলো। বেশ দেনদরবার করে বীজের ব্যবস্থা করলাম। সেই বীজ লাগালাম বাড্ডা হাছিনা আপাদের বাড়িতে। অনেকগুলো গাছ হয়েছিলো আর ফুলও ফুটেছিলো প্রচুর । আহা ফুলের দেখা পেয়ে কষ্ট সার্থক মনে হলো।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো ২০০৪ বন্যায় সব গাছ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলো। আমার অতি প্রিয় দুপুরমণি আবার আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেলো। হায় রে আমার দুপুরমণি রে. . . . .

দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবার পেয়ে গেলাম।
আমার দুপুরমণি এখন আমার ছাদবাগানে।
এবার সাদা দুপুরমণিও ফোটা শুরু হয়েছে । আগে কখনো দেখিনি সাদাটা।
সাদা রঙের দুপুরমণি হয় সেটাও জানতাম না।

দুপুরে ফোটে বলেই বোধহয় নাম দুপুরমণি। সারাদিন প্রস্ফুটিত থেকে পরদিন সকালে উপুড় হয়ে পড়ে থাকে গাছতলে। কী যে ভালো লাগে দেখতে এবং কুড়িয়ে নিতে।
নাম কিন্তু আরো অনেকগুলো আছে—– দুপুরচণ্ডি, বন্ধুলী, বন্ধুক, কটলতা,
দুপুর মালতি, Noon Flower,
Midday Flower….

ফুল থেকে ফল এবং ফল শুকিয়ে বীজ। সেই বীজ ছড়িয়ে দিয়েছি বন্ধুবান্ধবের তরে। বন্ধু দীপার মতে বীজ হচ্ছে, স্বপ্ন বা সম্ভাবনা। তাই স্বপ্নই ছড়িয়ে দিচ্ছি সবার মাঝে।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com