ফাঁস হলো সিআইএ-এর স্মার্ট টিভি ও ফোনের মাধ্যমে হ্যাক করার কৌশল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বিশ্বজুড়ে গোপন তথ্য ফাঁস করে সাড়া ফেলে দেয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকস এবার এমন গোপনীয় সব দলিল ফাঁস করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হ্যাকিং কর্মসূচীর বিস্তারিত উঠে এসেছে।  বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইএ বিভিন্ন সাইবার অস্ত্র ও ম্যালওয়ার ব্যবহার করে উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, ওএসএক্স, লিনাক্স কম্পিউটার ও ইন্টারনেট রাউটার হ্যাক করে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে উইকিলিকস দাবি করেছে। নজরদারির এসব সফটওয়্যারের বেশিরভাগ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলেও স্যামসাংয়ের টেলিভিশনে স্পাইওয়ার বসানোর টুলস বানাতে তারা ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ফাইভের সহায়তা নিয়েছে বলেও উইকিলিকসের ভাষ‌্য। তারা বলছে, ‘ভল্ট সেভেন’ নামে সিআইএ-র বিস্তারিত হ্যাকিং কৌশলের প্রথমটি তারা প্রকাশ করেছে। সিআইএ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্বের বেশি কিছু করছে কি-না সে বিতর্ক উসকে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ‌্য। এসব তথ‌্যের সত‌্যতা নিয়ে কোনো মন্তব‌্য করতে রাজি হননি সিআইএ বা এমআই ফাইভের কর্মকর্তারা।

সিআইএ হেডকোয়ার্টার

মঙ্গলবার উইকিলিকস নিজেদের ওয়েবসাইটে  ৮ হাজার ৭শ’ ৬১টি নথি প্রকাশ করে উইকিলিকিস জানায়, এটিই এ-যাবৎকালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাটির তথ্যচুরির সব চেয়ে বেশি নথি ফাঁসের ঘটনা। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সিআইএ’র গুপ্তচরবৃত্তির ধরন ও কৌশল প্রকাশ পেলো। এবারের নথিগুলো ‘ইয়ার জিরো’ শিরোনামে প্রকাশ করে উইকিলিকস জানায়- ‘ভল্ট-সেভেন’ সাংকেতিক নামে ধারাবাহিকভাবে সিআইএ’র আরও নথি প্রকাশ করা হবে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সাইবার অ্যাডভোকেট এডওয়ার্ড ম্যাকএন্ড্রু বলেছেন, এই সাইবার নিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার ঘটনা সিআইএর জন্য উদ্বেগজনক, কারণ ইতিমধ্যে তাদের প্রযুক্তি অন্যদের হাতে চলে গেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়- অ্যাপলের আইফোন, গুগলের অ্যান্ড্রয়েড, মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ এমনকি স্যামসাং স্মার্ট টিভিতেও বিভিন্ন ম্যালওয়ার ও ভাইরাস ছড়িয়ে তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে সিআইএ। পাশাপাশি হোয়াটস অ্যাপ, উইবো, সিগন্যাল, টেলিগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ক্ষতিকর ম্যালওয়ার ছড়িয়ে তথ্য হ্যাক করেছে সংস্থাটি।

সিআইএ’র কর্মীরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ২০১৩ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত সময়ে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে জানায় উইকিলিকস। তবে, ফাঁস করা গোপন এ নথিপত্র সম্পর্কে সিআইএ’র মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করেননি।  উইকিলিকস জানিয়েছে, সিআইএ প্রায় ১ হাজার ম্যালওয়্যার সিস্টেম তৈরি করেছে। ভাইরাস, ট্রোজনসহ এসব ম্যালওয়্যার লক্ষ্যে থাকা ইলেক্ট্রনিক্স যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে সহজেই। উইকিলিকসের ফঁস করা ২০১৪ সালের এক নথিতে দেখা যায়, স্যামসাংয়ের এফ৮০০ রেঞ্জের স্মার্ট টিভিগুলোকে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে ‘উইপিং অ‌্যাঞ্জেল’ কোড নামে। সেখানে এমন এক স্পাইওয়‌্যার বসানো হয়েছিল, যাতে ব‌্যবহারকারী টিভি বন্ধ করলেও আদতে তা বন্ধ হত না। স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে ব্যবহারকারীকে ধোঁকা দিলেও আসলে তা থাকত সিআইএ-র নিয়ন্ত্রণে।  এসব টিভি আশপাশের শব্দ রেকর্ড করত; পরে টিভি আবার চালু হলে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে সেসব শব্দ সিআইয়ের সার্ভারে পাঠিয়ে দিত। সিআইএ-র ‘ফিউচার সেকশন’ বিভাগ পরে ওই টিভিগুলো দিয়ে ব্যবহারকারীর অজান্তে ‘স্ন্যাপশট’ নেওয়ারও ব্যবস্থা করে বলে ধারণা করছে উইকিলিকস।

সিআইএ তাদের এসব হ্যাকিং সরঞ্জামাদি দিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন, মাইক্রোসফট সফটওয়্যার, স্যামসাং স্মার্ট টিভিতে প্রবেশ করে তথ্য চুরি করে থাকে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের তথ্যও চুরি করা সম্ভব। উইকিলিকস এমন সময় এসব তথ্য ফাঁস করল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পূর্বসূরি বারাক ওবামার বিরুদ্ধে তার ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ তুলেছেন। এফবিআইকেও দুষেছেন তিনি।

উইকিলিকস বলছে-  সিআইএ যানবাহনের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ ব‌্যবস্থাও কব্জা করার চেষ্টা করেছে এবং এর মাধ‌্যমে হয়ত হত‌্যাকে দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়া সম্ভব। যেসব কম্পিউটার ইন্টারনেটে যুক্ত নয়, সেগুলোতে ঢুকে পড়ার কৌশলও উদ্ভাবন করেছে সিআইএ। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর অজান্তে তার কম্পিউটারের গোপন অংশে বা ইমেজ আকারে তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব। জনপ্রিয় ভাইরাসরোধী সফটওয়্যারগুলোকে আক্রান্ত করার কৌশলও সিআইএ উদ্ভাবন করেছে।  রাশিয়া এবং অন্যান্য জায়গা থেকে ‘চুরি করা’ ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে সিআইএ হ্যাকিং কৌশলের একটি লাইব্রেরি তৈরি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যেসব হ্যাকার কাজ করেন, তাদের এসব টুল পাঠানো হয়; এমনকি অনেক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও অননুমোদিত উপায়ে এই কৌশল ব্যবহার করে থাকে বলে উইকিলিকসের ভাষ‌্য। এক বিবৃতিতে উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বলেছেন, সাইবার অস্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের ‘ব্যাপক ঝুঁকি’ এসব নথিতে প্রকাশিত হয়ে পড়েছে।

ছবি ও তথ্যঃ ইন্টারনেট।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com