প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ গাড়ি দ্যা বিস্ট

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী গাড়ি বলে কথা। সেটার ব্যাপারই আলাদা। এই নতুন গাড়ির কাজকারবার হবে সিনোর পর্দায় দেখা জেমস বন্ডের গাড়িটির মতোই। যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের জন্য নতুন করে গাড়ি বানানোর রেওয়াজ অনেক দিনের। এবার সেই রেওয়াজ অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও এই নতুন লিমুজিন ব্র্যান্ডের গাড়ি তৈরী। সেই গাড়ির ক্ষেত্রে প্রথম যে দুটি বিষয় প্রধান্য পেয়েছে তা হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির সংযোজন আর প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা। এবারের গাড়িতেও রাখা হয়েছে আগের চেয়ে আরও অত্যাধুনিক সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

গাড়িটির টেস্ট রানও হয়ে গেছে কয়েকবার। হোয়াইট হাউস কর্তৃপক্ষের ঘোষণা এলেই গাড়ির চূড়ান্ত ভার্সনটি নামানো হবে। জানা গেছে, এখন গাড়ির রঙ শুধু কালো রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত গাড়ির রঙ থাকবে কালো আর সিলভার। দানবীয় আকৃতির এই গাড়ির নাম রাখা হয়েছে ‘দ্যা বিস্ট’ বা পশু। এ নাম রাখার কারণ হলো আসলেই গাড়িটি পশুর মতো শক্তিশালী।গাড়িটা নির্মাণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের জেনারেল মোটরস নামের জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। গাড়িটাক  দাম পড়বে প্রায় ১.২ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২ কোটি। এটা  বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।গাড়িটাক  ওজন প্রায় ৮ টন এবং এর কাচ ৮ ইঞ্চি পুরু। কোনো ধরনের গুলি বা রাসায়নিক বোমার আঘাত রুখে দেবে বিশেষ ভাবে তৈরী করা এই কাচ। গাড়ির সামনের কাচও ৫ ইঞ্চি পুরু। সামনে থেকে কোনো গুলি আসলেও কাচ ভেদ করতে পারবে না। গাড়ির সঙ্গে একটি অক্সিজেন বারও সংযুক্ত করা হয়েছে যাতে গাড়ির ওপর কোন ধরণের রাসায়নিক আক্রমণ হলে সেটাও ঠেকানো যায়। সেরকম কোন হামলা হলে  গাড়ির ভেতরে অক্সিজেনের কোন অভাব হবে না।

গাড়ির ভেতরে মজুদ থাকবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্লাড গ্রুপের রক্ত। গাড়ির তেলের ট্যাংকটিও হবে বিষ্ফোরক নিরোধক। এই বিষ্ময়কর গাড়ির কোন একটি চাকা ফেটে গেলেও সেটা গাড়ির চলাচলে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। গাড়ির ভেতর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য থাকবে বিশেষ সেল ফোন আর মোবাইল ফোনের ছোট টাওয়ার।

গাড়িটাতে রাখা হয়েছে নাইট ভিশন ক্যামেরা। অন্ধকারেও ক্যামেরা সচল থাকবে। ফলে ক্যামেরার সজাগ দৃষ্টি  ফাঁকি দেওয়া হামলাকারীদের পক্ষে সম্ভব হবে না। তাছাড়া গাড়িটাক সঙ্গে আরও সেট করা হয়েছে অনেকগুলো ছোট অস্ত্র। গাড়ির ওপর হামলা হলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে গাড়ির অস্ত্রগুলো পাল্টা জবাব দিতে পারবে। গাড়ির সামনে, পেছনে এবং পাশে অস্ত্রগুলো এমনভাবে বসানো আছে, যাতে বাইরে থেকে দেখা যায় না। এমনিতে গাড়িটিকে দেখতে অন্য দশটা স্বাভাবিক গাড়ির মতোই মনে হয়।কিন্তু সেটার কাজ হবে অসামান্য।

আমেরিকার সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্যও ঠিক একই গাড়ি বরাদ্দ ছিল। তবে এই ‘সকল কাজের কাজীৎ গাড়িও বিপদে পড়ে। যেমনটি ঘটেছিল প্রেসিডেন্ট ওবামার ২০১৩ সালের ইসরাইল ভ্রমনের সময়। ভুল জ্বালানী ট্যাংকে ভর্তি করায় গাড়ি বিগড়ে বসেছিল। অবশ্য সৌভাগ্যক্রমে তখন গাড়ির ভেতরে ওবামা ছিলেন না। ড্রাইভার বিষয়টি আবিষ্কার করে।

আহসান শামীম

তথ্য ও ছবিঃ ডেইলি মেইল অনলাইন

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com