পৃথিবী এক ঈশ্বরও এক শুধু গল্পগুলো ভিন্ন…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

রিপন ইমরান, সাংবাদিক

ট্রাফিক জ্যামে আটকে আছে গাড়ি…এতো রোজকার খবর…আজকেও তাই…এরকম অবস্থায় ড্রাইভিং সীটে না থাকলে চোখ বন্ধ করে মটকা মেরে পড়ে থাকা উত্তম…তাইই ছিলাম…কেউ গাড়ির দরজায় শক্ত কিছু দিয়ে বাড়ি মারতেই মেজাজ খারাপ করে তাকালাম…

ভীষণ বুড়ো একজন মানুষ…চোখে ভারী পাওয়ারের চশমা…পরনে নোংরা একটা গেঞ্জি…গেঞ্জিটা এককালে সাদা ছিলো বোধহয়…মানুষটাকে দেখে আমার দাদুর কথা মনে পড়লো…আমার দাদাও ঠিক এরকম পাতলা গেঞ্জি পরতেন…গ্রামের বেশি বুড়ো মানুষগুলো এমন গেঞ্জি আকছারই পরেন…মানুষটা প্রায় অন্ধের মতো আমার গাড়িটা হাতড়ে আরেকটা গাড়ির দিকে চলে গেলেন…

এবার দেখলাম তার এক হাতে লাঠি অন্যহাতে লাল একটা কাপড়ের ব্যাগ…ওতে নিশ্চয়ই তার জীবনের সকল সঞ্চয়…মানে দুটো পুরনো কাপড় আর বড়োজোর হাঁপানির ওষুধপত্তর (যদি থেকে থাকে)…মানুষটা জ্যামে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর কাঁচ হাতড়ে হাটছেন আর ভিক্ষে চাইছেন…একেবারেই নব্য এ পেশায়…কারণ কোন গাড়ির সামনেই দাঁড়াচ্ছেন না একদণ্ড…

আমি গাড়ির কাঁচ নামিয়ে তাকে চিৎকার করে ডাকলাম…ফিরেও তাকালেন না…তার মানে কানেও শোনেন না…এবার আমার বাবার কথা মনে পড়লো…আমার বাবাও কানে খুব কম শোনেন…কিন্তু তার ভাগ্য আর এ বৃদ্ধের ভাগ্যে অনেক ফারাক…তার কানে বাজারের সবচেয়ে আধুনিক শোনার যন্ত্র সাঁটা রয়েছে…তিনি স্রষ্টার দারুণ আশীর্বাদপুষ্ট…নিজ বাড়িতে বসে এমন ভর দুপুরে তিনি খবরের কাগজ পড়েন…তার অকমর্ণ্য ছেলে ভরদুপুরে বাসা থেকে বেরুবার সময় বেশ নরম গলায় তার কাছ থেকে বাইরে বেরুবার অনুমতি নিয়ে বের হয়…আর তিনি সহাস্যে অনুমতি দেন, তাড়াতাড়ি ফিরে এসো…

আর এ মানুষটা চড়া রোদে মানুষের কাছে হাত পেতে বেড়ান…দুপুর রাতে খেতে পান কী-না তাও জানি না…থাকবার জায়গা আছে কী-না সে চিন্তাও অনেক দূরের…তবে এ মানুষটাকে দেখে মনে হয় না কোনকালেই ভিক্ষেটা তার পেশা ছিলো…নেহায়েত ভাগ্যদোষেই…

মানুষটা অনেক দূরে চলে গেছেন…তাকে কটা টাকা দেয়া খুব প্রয়োজন…কিন্তু সিগন্যাল ছেড়ে দিলে…আমার দোনামোনা ভাব দেখে যে ছেলেটি আমাদের গাড়িটা চালাতে সাহায্য করে, ও নিজেই বললো, ভাইয়া আমি দৌড়ে দিয়ে আসি…থাক, নিজেই চট করে গাড়ি থেকে নেমে কাজটা সারলাম…

টাকাটা হাতে গুঁজে দেয়ার সময় দেখলাম, মানুষটা থরথর করে কাঁপছেন…বাঁ হাতে দগদগে একটা ক্ষত তার আশপাশে চুন লাগানো…গাড়িতে ফিরে মানুষটার কথা ভেবে আমার খুব কান্না পেতে লাগলো…চোখ ভেজা দেখে পাশে বসা সঙ্গী বলে উঠলো, তুমি কাঁদছ কেনো??? তোমার টাকা পয়সা হলে একটা বৃদ্ধাশ্রম করো…আমি একটু হাসার চেষ্টা করলাম…

একই পৃথিবী একই ঈশ্বর শুধু গল্পগুলো ভিন্ন…আর এই ভিন্ন গল্পগুলো লিখতে আমার একটুও ভালো লাগে না…পরম করুণাময় তুমি শিশু আর বৃদ্ধদের জন্যে তোমার দয়ার প্যারামিটারটা আরেকটু বাড়াতে পার না…

ছবি: সৌজন্যে শাহানা হুদা

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com