পৃথিবীর সকল কন্যারা এগিয়ে যাবে আলোর পথে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মেহেরুন নেসা

চলে গেলো কন্যা দিবস। আজকের কন্যাই আগামী দিনের জায়া এবং জননী। আমাদের প্রিয় কন্যা সন্তানেরা যুগ যুগ ধরে সর্বদাই পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার সনাতনী ধ্যান- ধারনা ও মূল্যবোধ এবং লৈঙ্গিক বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে তারা আরেক ভয়ঙ্কর ভায়োলেন্সের মুখোমুখি। সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া কিছু জঘন্য ও নৃশংস ঘটনা সমাজকে বেশ নাড়া দিয়েছে।

জ্বী! আমি অনলাইন প্রনোদনার কথা বলছি।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, কন্যাদের নিয়ে অভিভাবকবৃন্দ
সামাজিক অব্যবস্থাপনার এক জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ডের মধ্যে
পড়ে গেছেন। কখনো এই কন্যারা অনলাইনের করালগ্রাসে পতিত হয়ে খুন হয়; কখনো আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়; কখনো সামাজিকভাবে অপদস্থ হয়।

কন্যাদের একি ঘনঘোর বিপদ! শুধু কি কন্যারাই বিপদগ্রস্ত? আমাদের পুত্ররাও কিন্তু নিরাপদ নয়।অবশ্যই কন্যাদের পাশাপাশি পুত্রদেরও নিরাপদ রাখতে হবে।বিশেষ করে অনলাইন প্রনোদনা থেকে আমাদের সোনার সন্তানদের রক্ষা করতে হবে। পুত্ররা নিরাপদ হলে কন্যারাও নিরাপদ। এটাই হলো ধ্রুব সত্য।

বিগত কন্যা দিবসে গতানুগতিকভাবে কন্যাদের অধিকার নিয়ে সুশীল সমাজ পুরুষদেরই দায়ী করলো। আমি এই মতের ঘোরতর বিরোধী। ক্ষেত্র বিশেষে নারী যেমন পুরুষ কর্তৃক নির্যাতিত হয়; তেমনি পুরুষও নারী কর্তৃক নির্যাতিত হয়। সুতরাং নারী – পুরুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহানুভূতিসম্পন্ন সহাবস্থানই হবে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার শ্লোগান।

কন্যাদের মাঝে এই বোধ জাগ্রত করতে হবে যে, সে নিজেই নিজের রক্ষক। তার দূর্বল চিত্তের সুযোগে তার কুপ্রবৃত্তিরই জয় হবে। সুতরাং সমাজে তাকে পথ চলতে হবে সতর্কভাবে। বাবা, মা, শিক্ষক সবারই দায়িত্ব কন্যাদের হেফাযতে রাখা। সমাজের অশ্লীলতা, কপটতা, নিষ্ঠুরতা এগুলো সম্পর্কে তাদের সচেতন করা। কিভাবে একজন কন্যা নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবে… আজ যেনো এই শিক্ষা দেয়াটাই মূখ্য হয়ে গেছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা আমাকে বা আমাদেরকে আতঙ্কিত করে তুলেছে।যদিও আমার কন্যা সন্তান নেই ; তারপরেও মনে করি পৃথিবীর সকল কন্যাই আমার সন্তান, সকল পুত্রই আমার সন্তান। কন্যাদের বোঝাতে হবে, প্রকৃতি বায়োলজিক্যালি তাদেরকে এমনভাবে তৈরি করেছে যে, তারাই সমাজে সবচেয়ে বেশি কপটতার শিকার। আর এ পরিস্থিতি মোকাবেলার শক্তি তাদের নিজেদের মাঝেই নিহিত।
কন্যারাই আগামী দিনের গর্বিত মা। সুতরাং প্রজ্ঞার সঙ্গে, দূরদর্শীতার সঙ্গে সকল অন্ধকারকে মোকাবিলা করে মর্যাদার আসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

আরেকটি কথা! নারী- পুরুষ নির্বিশেষে সকলকেই প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। অশ্লীলতা, বেলেল্লাপনা, অরুচিকর চালচলন, বিকৃত মানসিকতা, উগ্রবাদ… এসব নেতিবাচক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য শিক্ষিত- অশিক্ষিত সকল নারী-পুরুষের ক্ষেত্রেই পরিত্যাজ্য।এগুলো তাদের জীবনকেতো অন্ধকারে নিয়ে যাবেই, তাদের পরিবারকেও এক বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিবে।

আসুন, আমরা সবাই মিলে আমাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের কানের মধ্যে দিনরাত এই বাণী উচ্চারন করি … ” তুমি নিজেই তোমার রক্ষক, তুমি নিজেই তোমার ভক্ষক”। অর্থাৎ কোনো অবস্থাতেই সে তার মর্যাদাকে ভুলুন্ঠিত হতে দেবেনা; ভায়োলেন্সের শিকার হতে দেবেনা; অশ্লীলতা বা বেলেল্লাপনা তাকে স্পর্শ করবেনা। দৃপ্ত পায়ে পৃথিবীর সকল কন্যারা এগিয়ে যাবে… আলোর পথে ; আলোর দিশারী হয়ে।।।।

ছবি: অনিরুদ্ধ দাস

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com