পরেরবার দেখা হলে বলবো…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

শেখ মামুন

– একদম চুপ । কোনও কথা বলবেনা । কোনও অভিযোগও না ।
কি যেনো একটা কথা বলতেই রুমকিকে থামিয়ে দিয়ে্ একনাগারে বলে গেলো ধ্রুব । জানোইতো আমি তোমার কাছ থেকে কোনও অভিযোগ শুনতে চাইনা ।
ধ্রুব এ কথা বলতেই রুমকির জবাব- অভিযোগ করে কিইবা হবে । শেষ পর্যন্ত তাই হয়, যা তুমি চাও ।
– হ্যা; আমার চাওয়া পুরণের জন্যই তুমি । কোনও অভিযোগ শুনবোনা । শুনতেও চাইনা । অভিযোগ করার জন্য তোমাকে প্রয়োজন নেই ।
বুঝে গেলো রুমকি । কিছুটা শান্ত হয়ে ধ্রুব’র হাতে হাত রাখলো সে ।চোখে চোখ রেখে বললো- কিছুতো শুনবে, শুনতে হবে ।
– না; কিছুই শুনবোনা । শোনার ইচ্ছাও নেই । একরোখা জবাব ধ্রুব’র । ধ্রুব বরাবরই এমন আচরণ করে । জানে রুমকি । জানে বলেই ধ্রুব’র এ আচরণ মেনে নিলো রুমকিও । বরাবরই মেনে নিয়েই চলেছে । ধ্রুব’র রাগ-অভিমান-জেদের কাছে আত্মসমর্পণ করে রোজ এভাবেই রুমকি । হারানোর ভয় যতোটা না, ভালোবাসাই তীব্র তার ধ্রুব’র প্রতি । 
– আচ্ছা ধ্রুব; কেনো এমন হয় ? কেনো তোমার কাছে বার বার হেরে যেতে ইচ্ছা হয় ? তোমার কি কখনো মনে হয় না, তুমিও কারো কাছে হেরে থাকো ? আমার কাছে হারতে ইচ্ছা হয়না তোমার ?
– না; মনে হয় না । হেরে যাওয়া জীবনে তুমিই আমার একমাত্র জয়ের ঠিকানা । তাই তোমার কাছে জয়ী হয়ে থাকতে চাই । কোনও অভিযোগ শুনতে চাইনা । তোমার কাজ শুধু….কথাগুলো বলা শেষ হবার আগেই ধ্রুব’র ঠোটে আংগুল দিয়ে থামিয়ে দেয় রুমকি ।
আর কিছু বলতে হবেনা- ধ্রুবকে বাধা দিয়ে বলে রুমকি । আমিও সবসময় তোমাকে জয়ী দেখতে চাই ।
– এরপর দু’জনই নিশ্চুপ । কোনও কথা নেই । দু’জন দু’জনের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে আছে । অজান্তে চলে আসে হাতের ওপর হাত । রুমকিই আগে হাত বাড়িয়ে দেয় । বরাবরই সে এ কাজটা করে । মুহুর্তেই ঝড় ওঠে । সেই ঝড় ভেতরটা কাপিয়ে দেয় ধ্রুব আর রুমকিকে ।
– টেবিলের এ প্রান্তে ধ্রুব, ওপ্রান্তে রুমকি । কাছাকাছি আসার তীব্রতায় বাধা হয়ে আছে এক খন্ড কাঠ । সেই বাধা উপক্ষো করেই ধ্রুব’র হাত কাছে টেনে নেয় রুমকি । চলে যাচ্ছি, আবার কবে ফিরবো ঠিক নেই । তুমি ভালো থাকার চেস্টা করো । একদম পাগলামো করোনা – ধ্রুবকে বোঝায় রুমকি ।
কাছে যখন থাকি, তখন যাই করোনা কেনো সামলে নেই । বোঝাতে পারি তোমাকে । দুরে থেকে কি করে সামাল দেবো তোমার এতো রাগ-জেদ? ধ্রুবকে প্রশ্ন করে রুমকি । এ প্রশ্নের জবাব জবাব নেই ধ্রুব’র কাছেও ।
কি জেনো মনে হয় ধ্রুব’র । রুমকির দিকে তাকিয়ে থাকে । আনমনে ভাবে, মেয়েটা চলে যাচ্ছে । দেখতে দেখতে তার সত্যিই চলে যাবার সময় হয়ে গেলো । কতো কতো স্মৃতি । অথচ অনেক কথাই না বলা রয়ে গেলো ।
আচ্ছা; এরপর আবার দেখা হবে নিশ্চই । তখন কথাগুলো বলবে- আশা নিয়ে রুমকিকে বিদায় দিয়ে ঘরে ফিরলো ধ্রুব । রুমকি ধ্রুব’র ফিরে যাওয়ার দৃশ্যটা দেখতে দেখতেই অজান্তে ভিজে গেলো চোখ ।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com