পদাবলী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্বপ্নগুলো তুলে রাখো

আলী রীয়াজ

স্বপ্নগুলো তুলে রাখো
যে রকম শীত শেষে গরম কাপড়
তুলে রাখো যত্ন করে,
যে রকম শিশুরা আদরে আড়াল করে
প্রিয় বস্তু
হারানোর ভয়ে,
সেইভাবে তুলে রাখো ৷

একদিন জাগরণে স্বপ্ন ছিলো,
একদিন স্বপ্ন ছিলো এই রাত্রি ভোর হবে,
একদিন স্বপ্ন ছিলো স্বপ্ন দেখার,
আজ শুধু নিদ্রাহীন যাপিত জীবন।

বুকের ভেতরে রাখো,
পাঁজরে লুকিয়ে রাখো,
রক্তে শিরায় যেন টিকে থাকে,
যেন না ছিনিয়ে নেয় স্বপ্নগুলো – কাল রাত্রি, দুঃসময়।

আমাদের দিনগুলো চুরি হয়ে গেছে,
রাত্রিগুলো হয়েছে নিখোঁজ।
এই সন্ধ্যালোকে, এই ভেজা আলো ও আঁধারে
আসো, লুকিয়ে রাখি আমাদের স্বপ্নগুলো।

যারা আসে মধ্যরাতে,
যারা আসে শানিত দৃষ্টি,
তাঁরা যেন কোথাও না খুঁজে পায়;
দৃষ্টির আড়ালে রাখো,
যে রকম শিশুরা আদরে আড়াল করে
প্রিয় বস্তু।
দ্যাখো কারা যেন সদর্পে বাড়ায় হাত,
স্বপ্নহীন মানুষেরা শাসায় রাত্রিদিন
আমাদের স্বপ্নগুলো চুরি করে নিয়ে যাবে।
ভীতির চাদরে ঢাকে জনপদ।

একদিন আমাদের স্বপ্নগুলো
শ্রমিকের ঘাম হবে,
কৃষকের হাসি হবে,
পতাকার রং হবে,
প্রেমিকার সলজ্জ্ব হাসি হবে,
ঝলমলে রোদ হবে।

এখন বুকের ভেতরে রাখো।
স্বপ্নগুলো তুলে রাখো।

টুকরো বরফ

শ্যামল জাকারিয়া

১.
তোমাতেই সূর্যোদয় আমার-
তোমাতেই হয় সূর্যাস্ত,
তোমার মাঝেই নিহিত থাকে
আমারই গহন প্রান্ত !
২.
ভ্রান্তি’রা একদিন-
অশ্রুবিন্দু হয়ে ঝরবে,
অহর্নিশ ঝরে ঝরে
মহাসিন্ধু ঠিক গড়বে!
৩.
তোমার চোখে দেখেছি আমি;
আমার পারাপার- অপার দিগন্ত,
পৃথিবীতে কেবল তুমি আমার
তাঁহার কাছে যাবার-সেতু উড়ন্ত!

মাহবুব আজীজ

সীমাবদ্ধতার সূত্র

এই দীর্ঘশ্বাস, এই হয়ে আসা সন্ধ্যা-
বিষন্ন আলোর আভা;
ক্রমশ অদৃশ্য হতে থাকা মানুষের ছায়া।
আলপথ বেয়ে বয়ে যায় ধু-ধু।

অচিন ইশারায় আলো নিভে আসে।
উদ্বেল নহৃপুরধ্বনি স্তব্ধতায় গড়ায়
উড়ে আসা রাঙা গাঙচিল নীল হয়
বেদনার রঙে।
ভাসে; বাতাসে কার মুখ যেন ভাবে!

কই যাই? কার কাছে? এই অবেলায়!
আমার তো সবই অবেলা-
নিঃস্ব দিনশেষের এইসব সন্ধ্যা-
আরও একটি দিন যায়। শুধুই যায়।

নিস্তব্ধ চরাচর। খুব গোপনে
সীমাবদ্ধতার সূত্র সমুদয়
ভাঙতে থাকে, ভাঙতে থাকে…
‘আমারেনি নিবা তুমি, মাঝি!’

 
 
 
 
 
 
পত্রালাপ

লুৎফুল হোসেন


বিন্দু বিন্দু গল্পের শরীরটা
ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি জলের ধারা হলে
ভিখিরি থালায় জোটে যদি শাদা ফুল,
পিকাসোর রঙগুলো ছিনতাই হয়ে
অভাবী রাত ছুঁয়ে করে সে উন্মুল;
দেবে তাকে, পলাশ রঙের কিছু ভুল !


নীলখামে কিছু গোলাপি বেগুনী লাল
শব্দের সাজানো রেকাবি ভরে – মনে করো
পাঠালাম কয়েক আকাশ
মেঘ,
নরোম তুলোর মতোন কিছু আবেগ;
বলো, নদীর দেখা না পেলেও,
মোমের
আঙুল ছুঁয়ে, খামটা তুমি খুলবে তো?

প্রশ্নমুখর সন্ধ্যায়

রায়হান শারিফ

শূন্য প্রান্তরে কাদের পায়ের ছাপ এত?
বাতাসে কেন এত অস্ফুট বাক্য?
কারা আনছে এত নিষ্প্রাণ ধ্বনি?
প্রখর রোদের নীচে এত এত নরম চোখ?

সাঁঝে অসমাপ্য গল্প বলছে কারা?
ভেসে আসছে কোন আনন্দ-সঙ্গীত?
জরুরী ডকুমেন্ট এর মত হারাচ্ছে এত এত রাত্রি-দিন?

কারা মেলছে সুবিন্যস্ত শঠতার বাহারী ছাতা?
বন্ধুর খোদাই চোখে পেরিয়ে যাবার তাড়া?
কারা আনছে বুকে ধরে একলা স্বপ্নের ওম?
হাতের রেখায় বিদ্রূপ, ভালবাসার রেণু, রক্ত?

সরতায় কাটা সুপোরীময় কুচি কুচি সুখ?
আকাশের মুখে চপেটাঘাতের দালান?
উড়ুক্কু মাছের মতন সড়ক? লাফিয়ে মরণ?
নির্ভরতার পিছল শরীরে আশার মনুমেন্ট?

দুপুর গলিয়ে এ কোন তামাটে দিন?
স্তব্ধ বিকেলে নিঃসঙ্গের ঝরাপাতা?
সন্ধ্যার শ্রান্ত মুখে রুমালচাপা ভয়?
রাত্রির হিম-বাতাসে মরে যাওয়া মানুষের ঘ্রাণ?

শূন্য প্রান্তরে কাদের পায়ের ছাপ এত?
বাতাসে কেন এত অস্ফুট বাক্য?
কারা আনছে এত নিষ্প্রাণ ধ্বনি?
প্রখর রোদের নীচে এত এত নরম চোখ?


 
 
 
 
 
 
অতিথি

কাজী জহিরুল ইসলাম

তোমাকে দিয়েছি ঘর,
খোলা দরোজা।
গ্রন্থের প্রহর
অন্ধকারে পড়ো যা।
তবু

কেনো এতো বাছাবাছি,
গ্রহ-তিথি?
তুমি কি শুধুই রাতের
অতিথি?
কোথাও নেই, তবু বলো,
আছি।

নগর সভ্যতার নজরবন্দী নারী

কাকলী আহমেদ

নীলিমার ঘন গহীন থেকে
অস্তিত্ব তুলে নিতে চাও
অভ্র মাখা ভালবাসা একটু কম
হলেই
সাগরের উদ্ধত ঢেউ ফেনিল ছোবল দাও।

একবার নয় দুবার নয়
গুনে গুনে বহুবার
রাখ না হিসেব তার
রাখি না আমিও হিসেব
বেহিসেবি বরাবর
তুমি ও আমি
আমাদের মত অনেকেই।

সেই ভাল হিসেব ছাড়া
ঘোরাঘুরি ।
এক কথায় বাসের টিকেট কেটে
গা ঘেঁষে বসে চট্টলায় ছোটা।
ফুটপথে হাঁটা। তোমার হাতের
মুঠোয়
আমার ছোট্ট মুঠো বন্দী ।

পাহাড় কোথায়?
কি দেখতে এলাম!
তারাও তো নগর সভ্যতার
নজরবন্দী ।
তুমি রইলে দেহরক্ষী।
জব্বারের বলি খেলা সাঙ্গ
আশপাশ থমথমে
মেলা জমেছে বেশ।
আটঘাট সময়ের তাল ।

মনের কুঠুরি দিচ্ছে হাঁক
অলিন্দে রেখেছি এক জন
নিলয়ে বসত আরেকজন
পাততাড়ি গুটিয়ে
মনের ঘোড়ায় লাগাম টানি
ওই ইথার-এ ডাকছে নিস্পাপ দুই মুখ
নিসর্গ নিভৃত।

নেত্রালয়

সাজ্জাদ বিপ্লব….
আমি বসে আছি নেত্রালয়ে
আমার চোখের অসুখ
যতদূর দেখা যায়, আমি দেখি তারো চেয়ে বেশি
পরিষ্কার এবং ঝকঝকে
কোন কালো কিম্বা কালি ও অসুন্দর
আমি দেখি না
এমন কি স্পষ্ট পড়তে পারি
তোমার মনের কথাও

আমি কি মনের ডাক্তার দেখাবো?

 

 

 

 

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com