নূরজাহান আপার প্রতি শ্রদ্ধা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে । প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

শামীম আজাদ

জামালপুর গার্লস স্কুলে পড়ার সময় লেখালেখির শুরু। আব্বা মুকুলের মহফিল ও কচি কাঁচার মেলার জন্য লিখিয়ে পড়ে এডিট করে ঠিকানা লিখে খামে ভরে পাঠিয়ে দিতেন। একদিন দেখি মুকুলের মহফিলে নিয়মিত লেখকদের ছবির সঙ্গে আমাদের দুবোন শিরিন তরফদার ও শামীম তরফদার এর ও ছবি। আমার গোলাপ ফুল জামা পরা শ্রেষ্ঠ ছবিটিই আব্বা পাঠিয়েছেন। তিনি তখন আমাদের প্রাইভেট সেক্রেটারি। সব গুলো ছোটদের পাতার ঠিকানা তার কাছে। কোন কাগজে কি লিখবো তাও খবরদারি করেন। ছাপা হলে বসবার ঘরে চা খেতে খেতে আম্মা আব্বা উচ্চস্বরে হাস্য করবার কালে তার চেয়ে উচ্চস্বরে হাঁক দেন শামীম নতুন লেখাটা নিয়ে আসো। আমি যাই এবং দাঁড়িয়ে সেটা পড়ে শোনাই। মোটেই বিড়ম্বিত বোধ করি না।

পাশ করার আগে থেকেই আব্বা ভাবতে লাগলেন এমন কোথায় উচ্চমাধ্যমিক পড়ানো যায়, যেখানে পায়ে বাঁধা পড়বে কৃষ্টির নুপুর। রাজনীতি সচেতনতা নিয়ে আইয়ূবের আমলে একটু ভয়েই আছেন। দানবীর রনদা প্রসাদ সাহার কুমুদিনী কলেজের কাঁচ গাঁথা সুউচ্চ প্রাচীর ঘেরা ভেতরে শাপলা ফোটা জলপাই গাছ ঘেরা টিনশেড বাঁশের দেয়াল ও এক ঘরে আট বা ছ’জন শিক্ষার্থীর ব্যবস্থা তার পছন্দ হলো।
আর আমি সেখানে প্রবেশের পরই ভাবলাম এবার লেখা যাক দু একটি প্রেমের গল্প। আব্বা জানতেই পারবেন না যে আমি কোথায় কি পাঠাচ্ছি!

বেগমের সম্পাদক নূরজাহান আপা। অপরূপ সুন্দরী। ঈদ সংখ্যায় কতজনের ছবি ওঠে! আম্মাকে দেখেছি নিয়মিত সংখ্যা থেকে সেলাইর ডিজাইন কার্বণ কপি করে আমার হলুদ জামার বুকে লেইজি ডেইজী প্যটার্ণ তুলে নিতেন। একবার আম্মা কি অসাধারণ একটা মোরব্বা বানালেন। গোলাপি স্পঞ্জের মত টুকরা। ঘন সরপরা দুধের ক্ষিরে চুবানো। মুখে দিলেই দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে মিষ্টির রসে আয়েশ চলে আসে। আমরা কেউই চিনলাম না কি খাচ্ছি। আম্মা রান্না ঘর থেকে তার রাঙা কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বললেন, জানতাম তোমরা কেউ বুঝতে পারবে না। এ হচ্ছে জাম্বুরার খোসার। আমি বেগম থেকে পেয়েছি!

আমাদের বাসায় কখনো ইত্তেফাক কখনো আজাদ রাখা হত কিন্তু বেগম রাখা হতো নয়মিত। আম্মার জন্য। আর আমার খালি প্রেমের গল্প লিখতে ইচ্ছা হতো। আব্বা জানেনই না আমি ক্লাস সেভেনেই লুকিয়ে কপাল কুন্ডলা পড়ে ফেলেছি। আর তার মত হবার জন্য আম্মমাকে আর চুল কাটতেই দিতে চাই না। কড়ি দিয়ে কিনলাম লেপের ভেতরে রেখেই শেষ করে ফেলেছি। সঞ্চয়িতার কবিতা নকল করছি। স্কুলের পড়া শেষ করে কুমিদিনীতে এ্যারেস্টেড হয়ে পেলাম মুক্তি। সে রাতে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ শুনে শুনে লিখলাম ‘এক পশলা বৃষ্টি’র মত ক্লিশে নামেই আমার প্রথম প্রেমের গল্প। সাধারণ সংখ্যায় তা উঠলো। সেদিন জলপাই গাছের নিচে কমন রুমের সামনে আমার কি ভাব।মাই গড, বিখ্যাত শিল্পী হাশেম খান এর ইলাশট্রেশন করেছেন!

এদিকে আব্বার ট্রান্সফার হয়ে গেছে। পুরো পরিবার নারায়নগঞ্জে। তখন কায়দে আজম রোডের বালুর মাঠের উল্টোদিকে আব্বার বন্ধু দারোগা চাচারা থাকেন। দারোগা চাচার গাড়ি করে গরমের ছুটিতে আড়াইশ মাইল পাড়ি দিয়ে সেই শীতল পদ্মফুলের ব্যালকনিতে পা দিয়ে গা জুড়িয়ে গেল। ড্রইং রুমেই আব্বার বন্ধুরা। আমি সালাম জানিয়ে ভেতরে গিয়ে দেখি ঠিক আগের মত চা ও পেঁয়াজু হচ্ছে। আমি ও চিনি মিশাতে থাকলাম আম্মার সঙ্গে।
হঠাৎ’ শুনি আব্বা অনেক গর্ব ভরে তার সিলেটী বন্ধুকে বলছেন, আমার ফুরি (কন্যা) অখন বড় অই গেছে। বেগম’অ লেখে… ‘

বেগমের কোন ঈদ সংখ্যায় না লিখেও বড়দের জন্য লিখতে শুরু করেছি তাঁরই পরিচর্যায়। কাগজে কাগজে। ডাক যোগাযোগের মাধ্যমে। অনেকটা চিঠিতে প্রেম করার মত। লেখালেখির জগতে কিশোরী স্বত্তার খোসা ছাড়িয়ে এ ছিল যুবতীর প্রথম প্রেম।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন amar@pranerbangla.com